• শিরোনাম

    স্বামী-স্ত্রীর ইয়াবা কারখানা নারায়ণগঞ্জে

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

    স্বামী-স্ত্রীর ইয়াবা কারখানা নারায়ণগঞ্জে

    মিয়ানমার থেকে দেশে আসছে মরণ নেশা ইয়াবা এমনটাই জানে সবাই। কিন্তু অধিক লাভের আশায় দেশেই গড়ে তোলা হচ্ছে ইয়াবার কারখানা। নিরাপত্তার জন্য কারখানার বাইরে লাগানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে দেখলেই সটকে পড়ছে মূলহোতারা। অনেকে পরিবারসহ ধাবিত হচ্ছে এ ব্যবসায়।

    গত বৃহস্পতিবার ঢাকার অদূরে নারায়নগঞ্জের হরিপুরে এমনই এক কারখানা সন্ধ্যান পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর (ডিএনসি)। উদ্ধার করা হয় ইয়াবা তৈরি কারখানার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নিষিদ্ধ উপকরণ। এ ঘটনায় লাকী আক্তার নামে এক নারীকে আটক করা হলেও মূলহোতা তার স্বামী হাবিবুর রহমান পালিয়ে যায়।

    আজ শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিএনসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. জামাল উদ্দিন জানান, সম্প্রতি রাজধানীর পাশেই নারায়ণগঞ্জের হরিপুরে ইয়াবা তৈরির ছোট একটি কারখানার সন্ধান পায় ডিএনসি। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই এলাকার একটি বাসায় ইয়াবার কারখানা থেকে আটক করা হয় লাকী আক্তার নামে এক নারীকে। জব্দ করা হয় ইয়াবা তৈরির মূল উপাদান সিডিওফেড্রিনসহ বিভিন্ন ক্যামিকেল, ৩টি ডাইস মেশিন, ২টি সিসি ক্যামেরা, ডিভাইস, মনিটর ও মোবাইল ফোন। এসময় মূলহোতা হাবিবুর রহমান পালিয়ে যায়।

    ডিএনসি ডিজি বলেন, হরিপুরের ওই বাড়িতে ছোট পরিসরে কারখানাটি গড়ে তুলেছিলেন হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী লাকী আক্তার। বাড়ির ভেতরে কারখানাটি সম্পূর্ণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় ছিলো। টিনশেডের ওই বাড়ির ভেতরে ৩টি কক্ষের মধ্যে কারখানার সব কিছু পরিচালিত হতো। হাবিবুর নিজ নেটওয়ার্কে ইয়াবা সাপ্লাই দিতো। তাকেও ধরার চেষ্টা চলছে।

    জব্দ হওয়া সিডিওফেড্রিন সম্পর্কে তিনি বলেন, গত বছরের এপ্রিলে এ উপাদানের আমদানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ হয়তো সেটা সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। অন্য ক্যামিকেলগুলো ইয়াবা তৈরির নকল উপাদান। এগুলো অধিদপ্তরের ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা হবে। তবে, দেশে ইয়াবা তৈরি হয় না এ ধারণা বদলে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান মেলার পর নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। এ ঘটনা অবশ্যই উত্তেবজনক।

    এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা কারগারে গেলেও কোনোভাবেই ধরে রাখা যায় না আইনের ফাঁক দিয়ে তারা বাইরে এসে আবারো মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হয়। আবার অনেক গড ফাদারকে চিহ্নিত করা হলেও সঙ্গে মাদক না থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়না। তবে আমরা মাদকের মূল উৎপাটন করতে চাই। এর জন্য আমাদের যে লোকবল রয়েছে তা নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালানো কষ্টসাধ্য, তবে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হলে তা সম্ভব।

    এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাড়াশি অভিযান চালিয়ে ৩৬ জন মাদকসেবি ও ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১৯ জন মাদকাসক্তকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৬৫ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ৬৪০ গ্রাম গাঁজা, ৫ বোতল ফেনসিডিল, ৭ বোতল বিদেশি মদ, ৫ ক্যান বিয়ার, ১টি পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলি, ৩টি মোবাইল ফোন এবং নগদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে daynightbd.com