• শিরোনাম

    বাড়িতেই টর্চার সেল

    অপহরণের পর মানিকগঞ্জে নিয়ে জিম্মি : মূল হোতাসহ গ্রেফতার ১০

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ মার্চ ২০১৮

    অপহরণের পর মানিকগঞ্জে নিয়ে জিম্মি : মূল হোতাসহ গ্রেফতার ১০

    কৌশলে রাস্তা থেকে ধরা হয় মক্কেল। কখনও অচেনা পথ চিনিয়ে দেয়ার কথা বলে, কখনও বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিযে যায় ওরা। তারপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় নিজ বাড়ির টর্চার সেলে। সেখানে নিয়ে ভিকটিমের হাত, পা ও চোখ বেধে পা উচু করে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়। এরপর ভিকটিমের বাঁচাও বাঁচাও আকুতি আর চিৎকার মোবাইল ফোনে শুনিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

    র‌্যাব বলছে, এ চক্রের মূলহোতা মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের সেলিম মোল্লা। তিনি গ্রামের একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। সমাজে ভদ্রবেশী আচরণের অন্তরালে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী একটি চক্রের লিডার। এলাকার উঠতি বয়সের বখাটে ছেলেদের মোটা অঙ্কের টাকার লোভ দেখিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্নস্থান থেকে বিত্তবান ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে অপহরণ করে নিয়ে যান তার বাড়িতে। তার তিনতলা বাড়ির একটি কক্ষে রয়েছে টর্চার সেল। সেখানে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করতো।

    আজ সোমবার সকালে এ চক্রের মূলহোতা সেলিম মোল্লাসহ ১০ জনকে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার কালোয় গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-২। তারা হলেন- রাজিবুল হাসান রাজীব (২৭), মোশারফ হোসেন (৪৭), নিরব আহম্মেদ ওরফে টিটু (২৯), আব্দুর রাজ্জাক (৩৫), তারেক হোসেন (৩১), আবুল বাশার বিশ্বাস (৩৩), রুহুল আমিন (৩৫), তারেক হোসেন পুলক (২৬) ও তুহিন বিশ্বাস (৩০)। এ সময় দুই ভিকটিমকে হাত, পা ও চোখ বাধা অবস্থায় সেলিমের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

    ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৬টি বিদেশী পিস্তল, ৯টি ম্যাগাজিন, ৩৬ রাউন্ড গুলি, ৭টি চাইনিজ কুড়াল ও ৪টি চাপাতি এবং মুক্তিপণের ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। আজ দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন, ৯ মার্চ ব্যবসায়ী জাফর ইকবাল (৪০) ও মিরাজ গাজী (৩৫) ব্যবসায়ীক কাজে নিজ বাসা থেকে বের হন। বেলা ১১টার পর থেকে তাদের মোবাইল বন্ধ পায় স্বজনরা। পরবর্তীতে তাদের ব্যবহƒত মোবাইল ফোন থেকে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করা হয়। এ ব্যাপারে র‌্যাব-২ এ একটি অভিযোগ করেন ভিকটিম জাফরের ভাগ্নে হাফিজুর রহমান।

    বিভিন্ন সময়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর থেকে মানুষ অপহƒত হচ্ছে। অপহরণের প্রক্রিয়া হচ্ছে হঠাৎ মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে অপহরণকারীরা। এরপর ভিকটিমের সেল ফোন থেকে তার স্বজনদের ফোন নিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে ভিকটিমকে নির্যাতন করা হয়। কোন কোন সময় আবার ধরা পড়ার আশঙ্কায় ভিকটিমকে হত্যা করে ফেলে।

    র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, এই দুই ব্যবসায়ীর ব্যপারে লিখিত অভিযোগ আসার পরে কাজ শুর করে র‌্যাব। র‌্যাব জানতে পারে ভিকটিম মিরাজের পক্ষ থেকে মুক্তিপন হিসেবে রাজীবকে ব্যাংকের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। ওই টাকা কোন ব্যাংক থেকে উত্তোলিত হতে পারে এ ব্যাপারে নজরদারি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়।পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের ওই বাড়ি থেকে আরো নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। মূলহোতা সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। তার তিনতলা বাড়ির একটি কক্ষে ভিকটিমদের নির্যাতন করার জন্য রাখা হয়েছিল।

    মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আমাদের অভিযানিক দল দেখেছে সেখানে টর্চার করার মত একটা প্লেস। তিনতলা ওই বাড়িতে সেলিমের নিজস্ব লোকজন ছাড়া আর কেউ বাস করে না। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের সবাইকে ওই বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের জন্য সেলিমের ছেলে রাজীবের একাউন্ট ব্যবহার করা হতো। বিষয়টি তদন্ত করছি।

    ভিকটিমরা জানান, তারা ব্যক্তিগত কাজে বাসা থেকে ফার্মগেট আসার পর কয়েকজন ব্যক্তিরা তাদেরকে ধানমন্ডি কোন দিক দিয়ে যেতে হবে জিজ্ঞাসা করে তাৎক্ষনিকভাবে একটি সাদা মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক তুলে চোখ, মুখ বেধে অস্ত্রে ভয় দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদেরকে আস্তানায় নিয়ে মারধর করা শুরু করে এবং মুক্তিপণের টাকা দাবী করে।

    এত টাকা কোথায় পাবো বলে অনুনয়-বিনয় করলে তখন থেকে অপহরণকারীরা প্রথমে হাত, পা ও চোখ বেধে পা উচু করে ঝুলিয়ে তাদের টর্চারিং শুরু করে। তখন তারা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে টাকা আনার ব্যবস্থা করে। অপহরণকারীদের চাপে জাফর তার স্ত্রীর সাথে মোবাইলে কথা বললে তার বাসার ড্রয়ারে থাকা চেকবই ও নগদ ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে মানিকগঞ্জে আসার কথা বলে।

    তার বোন মানিকগঞ্জ গিয়ে অপহরণকারী সদস্যদের একজনকে সেই টাকা ও চেক বই দিয়ে আসে। এছাড়া মিরাজ তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগযোগ করে দ্রুত ৫ লাখ টাকা পাঠাতে বলে এবং একটি একাউন্ট নম্বর দেয়। পরবর্তীতে তার স্ত্রী অনেক কস্ট করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যোগাড় করে রাজীবের একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনার সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com