• শিরোনাম

    আশুলিয়ায় বাসে জরিনা হত্যার রহস্য উদঘাটন

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ নভেম্বর ২০১৮

    আশুলিয়ায় বাসে জরিনা হত্যার রহস্য উদঘাটন

    আশুলিয়ায় মারধর করে চলন্ত বাস থেকে বাবাকে ফেলে দিয়ে মেয়েকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মুল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআিই)। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. নুর ইসলাম (২৯), মোঃ স্বপন (৩৫) ও মোছাঃ আমেনা বেগম (৪৮)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নুর ইসলাম মামলার বাদী। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বাসটি আটক করা হয়েছে। পিবিআই সূত্র জানায়, মূলত পারিবারিক দ্বদ্বের কারণে আশুলিয়ায় চলন্ত বাস থেকে বাবাকে ফেলে দিয়ে মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আর এ হত্যার মিশন সফল করতে খুনীদের সাথে ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশ নেয় চার কিলার।

    তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিহত জরিনা খাতুনের মেয়ের স্বামী নূর ইসলাম ও তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে কলহ চলছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ে তা আরো বেড়ে যায়। মেয়ের পরিবাবের কলহ দুর করতে সিরাজগঞ্জের চৌহালী থেকে ঘটক স্বপনসহ আশুলিয়ার মুন্সিপাড়ায় বিয়াই বাড়িতে বেড়াতে আসেন জরিনা খাতুন ও তার বাবা আকবর আলী মন্ডল। কিন্তু বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি মেয়ে রোজিনার শশুরবাড়ির লোকজন। তারা চেয়েছিলেন রোজিনার বাড়ির লোকজন যেনো আর তাদের বাড়িতে না আসে।

    এ জন্য রোজিনার স্বামী নুর ইসলাম বিয়ের ঘটক স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্বপন পল্লবী এলাকায় বাস চালক সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিদ্ধান্ত হয় যে সালাম মিনিবাস নিয়ে ঘটনাস্থলে আসবেন। টাঙ্গাইল নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জরিনা ও আকবরকে যাত্রী হিসাবে ওই বাসে উঠবেন। এরপর তাদেরকে এমন মারধর করা হবে যাতে আশুলিয়ায় মেয়ের বাসায় আসতে সাহস না পায়। বাস চালককে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয় ।

    গত ৯ নভেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের আশুলিয়ার মরাগাঙ এলাকার রাস্তার পাশ থেকে নিহত জরিনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ের স্বামী নূর ইসলাম বাদী হয়ে আশলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

    পিবিআইয়ের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৫ বছর আগে মামা স্বপনের মধ্যস্থতায় রোজিনা ও নূর ইসলামের বিয়ে হয়। এরপর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো। এই বিবাদ মেটাতে প্রায়ই জরিনা আশুলিয়ায় আসতেন। সম্প্রতি কলহ প্রকট আকার ধারণ করে। এজন্য নূর ইসলাম ও তার মা আমেনা বেগম বিয়ের ঘটক স্বপনের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে। তারা পরিকল্পনা করে, জরিনাকে এমন শিক্ষা দিতে হবে যেন সে আর তাদের বাড়িতে না আসে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে নিজের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি আশুলিয়ায় আসেন জরিনা ও তার বাবা আকবর আলী মন্ডল। খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিকাল ৫টার দিকে তারা বাড়ির যাওয়ার জন্য বাস্ট্যান্ডে আসেন। জামাই নূর ইসলাম তাদেরকে টাঙ্গাইল যাওয়ার একটি মিনিবাসে তুলে দেন। এই বাসটিই স্বপন ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে চাঞ্চল্যকর ওই হত্যারহস্য উদ্ঘাটন ও পরিকল্পনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পিবিআই। পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার সম্মেলনে বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে বাসে তুলে জরিনা খাতুনকে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ড ঘটানোর জন্য আগেই বাসচালকের সঙ্গে ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়েছিল নুর ইসলামের। বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক-হেলপারসহ চারজনকে গ্রেফতারের চেস্টা চলছে।

    জরিনাকে হত্যার ধরন সম্পর্কে ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে মারধরের পর শ্বাসরোধ করে এই হত্যাকান্ড ঘটনানো হয়। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে হত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। গ্রেফতারের পর নুর ইসলাম এমন পরিকল্পনার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছেন, চালকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল তার শাশুড়িকে ভয় দেখাতে। প্রয়োজনে মারধর করতে। কিন্তু তারা যে মেরে ফেলবে তা সে জানতো না।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাস মালিক নাজমুল হাসান তোরাব। তিনি বলেন, চালক সালাম ঘটনা ঘটিয়ে বাস ফেলে পালিয়ে যায়। চালকের মা তার কাছে মোবাইল ফোনে ঘটনা জানিয়ে তাকেও পালাতে বলেছিলেন। এরপরই তিনি বাসের খোঁজ শুরু করেন। ঘটনার পরের দিন সরকার মার্কেট এলাকায় বাসটি পেয়ে পুরো ঘটনাটি পুলিশকে জানান তিনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক শাহজাহান ভুইয়া জানান, গ্রেফতার তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। পলাতকদের বিষয়ে তথ্য জানতে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com