• শিরোনাম

    উস্কানিতে কারখানায় বিশৃঙ্খলা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ মে ২০১৮

    উস্কানিতে কারখানায় বিশৃঙ্খলা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

    নিজের উপার্জনের জায়গাটা যেন কোনোভাবে ‘ধ্বংস না হয়’, সেদিকে ‘বিশেষভাবে দৃষ্টি’ রাখতেও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য ধরা হয়েছে ‘মালিক-শ্রমিক ভাই ভাই, সোনার বাংলা গড়তে চাই’। এই স্লোগানকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে এটা সবাইকে মনে রাখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। কিছু শ্রমিক নেতার সমালোচনাও করে তিনি বলেন, এদেশের দুর্ভাগ্য বলব, কিছু কিছু লোক শ্রমিক নেতা সাজেন। জীবনে শ্রমিক হিসেবে কোনো কাজ করুক আর না করুক, শ্রমিকদের ওপরে একটু খবরদারি করা। আর কোনো কিছু হলেই বিদেশিদের কাছে গিয়ে নালিশ করা এবং দেশের বদনামটা তুলে ধরা।

    আর এই বদনামটা করতে গিয়ে হয়ত একখানা টিকিট বিনা পয়সায় পান। বিদেশে থাকার একটু সুযোগ পান। কিছু সুযোগ-সুবিধা তারা পায়। আর ওই সামান্য সুযোগের জন্য দেশের বদনামটা বাইরে যেয়ে করে আসা, এটা নিজের দেশের জন্য যে কত ক্ষতিকারক সেটা তারা অনেকেই বুঝতে পারেন না। একটা কথা বলে দিতে চাই, আমি যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি, ওই নালিশ করে বেশি সুবিধা হবে না,” বলেন হাসিনা। শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। আমি আপনাদের ভাগ্য গড়তে এসেছি। কাজেই যে কোনো সমস্যা হলে আমি দেখব।

    শ্রমিকদের প্রতি আন্তরিক হতে মালিকদেরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। মালিকদের কাছে আমার অনুরোধ, যে শ্রমিকরা শ্রম দিয়ে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, আপনাদের জন্য উৎপাদন করে; আপনারা ব্যবসা করেন, অর্থ উপার্জন করেন, আপনারা ভালো থাকেন, আপনাদের পরিবার ভালো থাকে। সেই শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আপনাদের আরও আন্তরিক হতে হবে। তাদের প্রতিও আপনাদের কর্তব্য যেন কোনোরকম কমতি না হয়, তা দেখতে হবে। তিনি সব মানুষের অধিকার ও সম্মান দেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুলি মজুর’ কবিতা থেকে আবৃত্তি করে শোনান।

    শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো, ১০০টি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলাসহ শিল্প খাতের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। দেশে কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্র তৈরির সঙ্গে বিদেশে আরও বেশি শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিদেশ গমনেচ্ছুদের দালালদের খপ্পরে পড়ে না ঠকার পরামর্শও দেন শেখ হাসিনা। একটা অনুরোধ করব, ওই দালালের খপ্পরে পড়ে কেউ যেন সোনার হরিণ ধরার জন্য বিদেশে পাড়ি না জমান। সেদিকে সকলকে একটু বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

    বিদেশে গিয়ে যে কষ্টটা তারা পান এবং মানবেতর জীবন-যাপন করেন, সে কষ্টটা আমি নিজের চোখে দেখেছি। কাজেই এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। দেশের মানুষ বিদেশে গিয়ে যেন কোনো হয়রানির শিকার না হতে হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনা তার সরকারের সময় শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রম কল্যাণের জন্য বেশি দৃষ্টি দেওয়া, হিজড়া, বেদেসহ বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গৃহহীনদের ঘরবাড়ির ব্যবস্থা করার কথা বলেন।

    এছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাজেট বৃদ্ধি, সাক্ষরতার হার বাড়ানো এবং বিদ্যুত উৎপাদন  ও সারাদেশে ক্ষুদ্র, বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগের অবস্থা আর নেই। মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা অনেক বেড়েছে। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর সভাপতিত্বে এই সভায় সংসদ সদস্য ও সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানও বক্তব্য রাখেন। কর্মক্ষেত্রে নিহত শ্রমিকদের পরিবার ও শ্রমিকদের মেধাবী সন্তাদের আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com