• শিরোনাম

    শিশু রাকিন হত্যা

    এক টুকরো কাগজ থেকে ধরা পড়লো খুনিরা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

    এক টুকরো কাগজ থেকে ধরা পড়লো খুনিরা

    অসহায়কে সহায়তা করে অবশেষে নিজেই সন্তান হারালেন এক বাবা। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহ্লাদপুরের ফাউগান এলাকায় এমনই একটি নির্মম ঘটনা ঘটেছে বাবা সৈয়দ শামীম ইকবালের সাথে। তার বাসায় খেয়ে-পড়ে তাদের স্কুলপড়–য়া ছেলে সাদমান ইকবাল রাকিনকে (১০) হত্যা করেছে নিষ্ঠুর খুনিরা। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন হৃদয় বিদারক ঘটনার বর্ণনা দেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক সারোয়ার-বিন-কাশেম।

    তিনি বলেন, রাকিন এ বছর ফাউগান প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষা দেয়। গত ৫ ডিসেম্বর বিকেলে শিশু রাকিনকে অপহরণ করে তারই প্রাইভেট শিক্ষক পারভেজ শিকদার (১৮) ও পারভেজের বন্ধু ফয়সাল আহমেদ (১৯)। ঘটনার পাঁচদিন পর বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাঁশঝাড় থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গত ৭ ডিসেম্বর শ্রীপুর থানায় শিশুটির বাবা একটি মামলা করলে র‌্যাব ঘটনার তদন্তে নামে।

    র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, পারভেজ শ্রীপুরের ফাউগান এলাকার আলীম শিকদারের ছেলে। সে গতবছর ফাউগান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে কৃষি ডিপ্লোমায় ভর্তি হয়। আর ফয়সাল একই এলাকার আব্দুল লতিফ মোল্লার ছেলে। সে ফাউগান উচ্চ বিদ্যালয়ে নমম শ্রেণির ছাত্র। তারা দু’জনে আগে থেকে চুরিসহ বিভিন্ন ছোটখাট অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল। এছাড়া দু’জনেই সিগারেটসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিল।

    তিনি বলেন, গত দু’বছর ধরে শিশু রাকিনকে প্রাইভেট পড়াতো পারভেজ। এর বিনিময়ে বেতন ছাড়াও পড়াশুনার খরচবহনসহ বিভিন্নভাবে আর্থিকভাবে তাকে সহায়তা করতেন রাাকিনের বাবা। র‌্যাব জানায়, হঠাৎ করে পারভেজের মাথায় অল্প সময়ে বড় (ধনী) হওয়ার ভুত চাপে। তখন সে শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। র‌্যাব জানায়, ক্রাইম পেট্রোলসহ বিভিন্ন অপরাধ বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে হত্যার পরিকল্পনা করে পারভেজ। পরবর্তীতে তার বন্ধু একই এলাকার ফয়সালের সাথে পরিকল্পনাটি শেয়ার করে। এই উদ্দেশ্যে প্রায় ৬ মাস আগে শিশুটির বাবার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি চুরি করে পারভেজ।

    গত ৬ মাসের মধ্যে কোনদিনও সেস মোবাইলটি চালু করেনি। র‌্যাব বলেন, ঘটনার দিন পাখি দেখানোর কথা বলে শিশুটিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে ৬ মাস আগে চুরি করা মোবাইল দিয়ে শিশুটির বাবাকে কল করে ফয়সাল। কিন্তু ফোনে টাকা না থাকায় বিপাকে পরে তারা। পরে একটি চিরকুটে চুরি করা ফোনটির নম্বর লিখে স্থানীয় একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকে ২০ টাকা রিচার্জ করে। এরপরে পুনরায় শিশুটির বাবাকে কল করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এমনকি ঘটনাটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে নিষেধ করা হয়, অন্যথায় ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।

    র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, অপহরণকারীরা তাদের পরিকল্পনা মতোই এগুচ্ছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যার পরে শিশুটি বাসায় ফিরতে জোড়াজুরি শুরু করে। এ সময় তারা শিশুটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়ে ঘটনা ফাঁস হওয়ার ভয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তখন ফয়সাল প্রথমে শিশুটিকে মাটিতে ফেলে গলা টিপে ধরে। পরে পারভেজ ও ফয়সাল দু’জনে শিশুটির শরীরের উপরে উঠে একত্রে গলা টিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা দু’জনে আত্মগোপন করে। কোনভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা যাচ্ছিল না। অবশেষে ফ্লেক্সিলোডের দোকানের একটি ডাস্টবিন থেকে একটি চিরকুটে পাওয়া একটি মোবাইল নম্বরকে ক্লু হিসেবে পেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়।

    তিনি বলেন, নম্বরের পাশপাশি হত্যাকান্ডের স্থান থেকে একটি স্টার সিগারেটের প্যাকেট পাওয়া যায়। পরে কে স্টার সিগারেট খায় এবং চিরকুটে থাকা মোবাইল নম্বরটি কে লিখেছে সে বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্ত কাজ চালানো হয়। পরবর্তীতে সাত থেকে আটজন সন্দেহভাজনের তালিকা করে অনুসন্ধ্যান চালানো হয়। এভাবে ফয়সালের হাতের লেখার সাথে মেলানো হলে চিরকুটের মোবাইল নম্বরটির সাথে মিলে যায়। পরে তাকে আটক করা হলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং পারভেজের কথা বলে। পরে পার্শ্ববর্তী এলাকায় পারভেজের মামার বাড়িতে অভিযান চািলয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলন নিহত শিশুর বাবা সৈয়দ শামীম ইকবাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি সবসময় পারভেজকে সাহায্য সহযোগিতা করতাম। অথচ আমার বাসায় খেয়ে পড়ে বড় হয়ে আমার ছেলেকেই হত্যা করলো। এমন মর্মান্তিক ঘটনা যেন আর কোন বাবাকে দেখতে না হয়। তিনি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ সময় তার শিশুটির মা’সহ অন্যান্য স্বজনরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com