• শিরোনাম

    ২ লাখ ৭ হাজার ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৬

    ওষুধের দোকানের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ আগস্ট ২০১৮

    ওষুধের দোকানের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা

    রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকা থেকে ২ লাখ ৭ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২ এর সদস্যরা। তারা হলেন- জহির আহম্মেদ ওরফে মৌলভি জহির, ফয়সাল আহম্মেদ, মিরাজ উদ্দিন নিশান, তৌফিকুল ইসলাম ওরফে সানি, সঞ্জয় চন্দ্র হালদার ও মমিনুল ইসলাম ওরফে মমিন। এদের মধ্যে জহির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত টেকনাফের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। বুধবার রাতের অভিযানে ইয়াবা ছাড়াও তাদের কাছ থেকে মাদক বিক্রির ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    গতকাল দুপুরে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, বুধবার রাতে এলিফ্যান্ট রোডের দুইটি বাসা থেকে ইয়াবা, নগদ টাকাসহ ওই ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। টেকনাফে জহিরের একটি ওষুধের ফার্মেসি আছে। প্রায় ১০/১২ বছর ধরে মূলত ওষুধ ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। জহির প্রায় ১৫ বছর ধরে টেকনাফে সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা করেন। সেই সুবাদে তিনি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।

    র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জহির জানিয়েছে, তিনি ও তার ছেলে বাবু ৫/৬ বছর ধরে ঢাকার বিভিন্নস্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। গত ২৫ এপ্রিল ধানমন্ডিতে মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে বাবু এখন কারাগারে। এছাড়া তার স্ত্রী, মেয়ে ও মেয়ের স্বামী আব্দুল আমিনও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। জহির তার পুরো পরিবারসহ টেকনাফের কয়েকজন সহযোগী নিয়ে ইয়াবা ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। পরিবহন সেক্টরের কয়েকজন চালক, হেলপার, ২টি কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী ও ঢাকায় কয়েকজন খুচরা বিক্রেতাও রয়েছে এ সিন্ডিকেটে।

    মূলহোতা জহির ২৫-৩০ জনের একটি সিন্ডিকেট চালায় বলে স্বীকার করেন। মিয়ানমারে জহিরের প্রতিনিধি বার্মাইয়া আলম। মায়ানমারের মংডু ও টেকনাফে আলমের বাড়িও রয়েছে। সে মংডু থেকে নদীপথে ইয়াবা এনে টেকনাফের নাজিরপাড়া ও জালিয়াপাড়াসহ কয়েকটি জায়গায় মজুদ করে। পরে জহির, তার মেয়ের স্বামী আবদুল আমিন, নুরুল আমিন আটক মমিনের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবহন ও কুরিয়ার সার্ভিসে ঢাকায় নিয়ে আসতো। কৌশলে ইয়াবা লুকানোর বিষয়ে মমিন ওস্তাদ।

    মমিন বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক ফ্যান, ওয়াশিং মেশিন ও এসির ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে ঢাকায় সরবরাহ করতো। উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো এসি ও ফ্যানের কার্টনে লুকিয়ে ৭/৮ দিন আগে দু’বারে ঢাকায় নিয়ে আসে। টেকনাফ বা কক্সবাজার থেকে বাহকে ও কুরিয়ার সার্ভিসে দিয়ে আব্দুল আমিন ও মমিন আকাশ পথে ঢাকায় আসেন। তারা ঢাকায় পৌছে পূর্বনির্ধরিত স্থানে বাহকের বা কুরিয়ার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ইয়াবাগুলো জহিরের বাসায় পৌছে দেয়। পরে টাকা নিয়ে তারা ফিরে যেত।

    জহির মূলত ঢাকায় পাঁচজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর কাছে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করতো। তবে তদন্তের স্বার্থে এ পাঁচ ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ করেনি র‌্যাব। এর আগে, জহির তার বড় ছেলে বাবুকে নিয়ে কলাবাগান ও ধানমন্ডিতে বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এপ্রিলে বাবু মাদকসহ গ্রেফতার হলে তারা ধানমন্ডির বাসা পরিবর্তন করে এলিফ্যান্ট রোডে বাসা ভাড়া নেয়। তবে তারা এক জায়গায় বেশিদিন থাকতো না। গ্রেফতারকৃত জহিরের জামাতা আব্দুল আমিন ও তার ভাই নুরুল আমিনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত আসামি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com