• শিরোনাম

    কোটা সংস্কার আন্দোলন : ঢাবিতে রাতভর সংঘাত

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ এপ্রিল ২০১৮

    কোটা সংস্কার আন্দোলন : ঢাবিতে রাতভর সংঘাত

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছাত্রলীগ গুলি ছুড়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারের তরফ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে সাড়া দেয়নি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সারা রাত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আর সংঘাত-সংঘর্ষের পর সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।

    গত ১৪ মার্চ তারা ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের শিকার হন। তারপর নানা কর্মসূচি পালনের পর রোববার পদযাত্রার কর্মসূচি দিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয় তারা। বেলা আড়াইটার দিকে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে তারা সমবেত হয়। তারা সাড়ে চার ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানোর পর রাত পোনে ৮টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা ও রাবার বুলেট-কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে তাদের উঠিয়ে দেয়।

    ক্যাম্পাস রণক্ষেত্র

    পুলিশ শাহবাগ থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওযার পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।  শিক্ষার্থীরা চারুকলার দিকে চলে যায় এবং সেখান থেকে পুলিশের দিকে ইট পাটকেল মারতে থাকে। পুলিশও টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়া চালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দিকে পিছু হটলে তাদের উপর চড়াও হয় ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। মধ্যরাতের পর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ব্যপারে অবগত আছেন।

    প্রধানমন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আন্দোলনকারীদের সাথে সোমবার সকাল ১১টায় বসার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে তার কথায় আন্দোলনকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে এই আন্দোলনে দেখা যায়, যাদের মধ্যে বহিরাগতরাও থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

    ছাত্রীরা টিএসসিতে

    রাজু ভাস্কর্য থেকে জাতীয জাদুঘর পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যেই রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক ছাত্র মারা যাওয়ার গুজব ছড়ানো হয়। তবে পরে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা সে সময় অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগে নেতারা হলগুলোতে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে, কাউকে বের হতে দিচ্ছে না। এরই মধ্যে রাত দেড়টার দিকে কুয়েত মৈত্রী হল, সুফিয়া কামাল হলের মেয়েরা গেইট ভেঙে বের হযে আসেন। রোকেয়া ও শামসুনান্নাহার হলে গিয়ে সেখান থেকেও তারা ছাত্রীদের বের করে আনেন।প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্রী মিছিল নিয়ে জড়ো হন টিএসসিতে।

    পুলিশের রাবার ‍বুলেটে বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র বঙ্গবন্ধু হলের আবু বকর সিদ্দিককে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চোখের কোনে জখম হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজনকে রাবার বুলেটের আঘাত নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। এরই মধ্যে একদল ছাত্র উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালালে  বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে রাত সোয়া ২টার দিকে লাঠি ও রড নিয়ে টিএসসিতে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। সে সময় তাদের পিটুনির শিকার হয় আন্দোলনকারীরা।

    ধাওয়া আর পিটুনিতে আন্দোলনরত ছাত্ররা বাংলা একাডেমির দিকে চলে যায়, আর ছাত্রীরা টিএসসির ভেতরে ঢুকে যায়। কর্মচারীরা ভেতর থেকে গেইটে তালা লাগিয়ে দিলে ছাত্রীরা সেখানে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। রাত ৩টার দিকে প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বিভিন্ন ছাত্রী হরের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে টিএসসিতে যান। তিনি টিএসসির ভেতরে ঢুকে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে তাদের হলে ফেরত পাঠানোর কথা বলেন। কিন্তু ছাত্রীরা তখন আন্দোলন ছেড়ে হলে ফিরতে অস্বীকার করে।

    ছাত্রীরা টিএসসিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিরে প্রক্টর বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের যাতে নিরপাদে হলে পৌঁছে দেওয়া যায়, আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু ছাত্রীরা এখন পর্যন্ত রাজি হচ্ছে না। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে কার্জন হল ও শহীদুল্লাহ হলের দিকে। সকাল ৬টার দিকে টিএসসি থেকে আন্দোলনকারী ছাত্রীদের হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    ভিসি বাসায় তাণ্ডব

    মধ্যরাতে সংঘাত পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ার পর গত রাত দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে একদল আন্দোলনকারী উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালায়। দুই তলা ওই বাসভবনের ঘরে ঘরে ঢুকে জানালার কাচসহ প্রায় প্রতিটি আসবাবপত্র ও ভাঙার মত প্রায় সবকিছুই তারা ভেঙে ফেলে। এমনকি বাথরুম ও রান্নাঘরও তারা তছনছ করে। ভবনের সিসি ক্যামেরাগুলোও ভেঙে ফেলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাঁচ শতাধিক আন্দোলনকারীকে এই তাণ্ডবে অংশ নিতে দেখা যায়। তাদের একটি অংশ বাসভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

    তাদের কেউ কেউ উপাচার্যের দিকেও মারমুখী হয়ে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। উপাচার্যের পরিবারের সদস্যরা তার আগেই পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বলে একজন কর্মচারী জানান। উপাচার্যের বাসভবনে থাকা চারটি গাড়ির মধ্যে দুটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়, দুটি ভাঙচুরের শিকার হয়। ভবনের সামনে কয়েকটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়। তাণ্ডব থামার পর উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের সামনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে তিনি বলেন, আমার পরিবার কোথায় আমি এখনও নিশ্চিত নই।

     

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

    ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com