• শিরোনাম

    মিরপুর বস্তিতে আগুন

    ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় পোড়া বস্তির বাসিন্দারা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ মার্চ ২০১৮

    ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় পোড়া বস্তির বাসিন্দারা

    গত সোমবার ভোরের দিকে লাগা আগুন সাড়ে তিন ঘণ্টায় বস্তির একটি অংশকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে দিয়ে যায়। সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসেন চার হাজার ঘরের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। বস্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে এসে মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১০০ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

    আজ বৃহস্পতিবার বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, পোড়া ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই বাঁশ, টিন, ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার ঠাই করেছেন অনেকেই। ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীরা জানান তাদের দুর্দশার কথা।নিজের পোড়া ঘরেই বাঁশ আর টিন দিয়ে কোনো রকমে থাকছেন সুমি। তিনি বলেন, এই যে মানুষ আইতাছে, কেউ দেয় না, খালি প্রশ্নের পর প্রশ্ন। তিনটা দিনে কেউ একটা টাকা দিয়া সাহায্য করে নাই। যেই কাপড়ে বাইর হইছি, তিনটা দিন ধইরা সেই কাপড়েই। স্থানীয় সাংসদ ইলিয়াস মোল্লা দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছে জানিয়ে সুমি বলেন, ওনার বাসায় গিয়া খাবার আনতে হয়। আমাদের হাতে যদি কেউ দুইটা পয়সা দিত, তাইলেও কিছু একটা করতে পারতাম। ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়া খুব কষ্টে আছি।

    সেদিনের আগুনে জমানো ২১ হাজার টাকা খুইয়েছেন বিস্কুট বিক্রেতা মো. ইয়াকুব। নিজেদের দুর্দশা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অবস্থা তো রোহিঙ্গাদের চাইয়া খারাপ। ওরা তো কিছু জিনিসপত্র নিয়া আইতে পারছিল। কিন্তু আমরা তো পরনের কাপড়টা ছাড়া কিচ্ছু নিয়া বাইর হইতে পারি নাই। বিস্কুট বেইচা যা জমাইছি, সব শ্যাষ। আগুনে গইলা গেছে কয়েন।নিম্ন আয়ের মানুষের মাথাগোঁজার ঠাঁই এই বস্তির অনেক শিক্ষার্থীর মূল্যবান কাগজপত্র-বইখাতা গ্রাস করেছে আগুন।

    বস্তিতে নয়বছর ধরে বসবাস করা নূপুর ইসলাম জানান, ঘরের মালামালসহ মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো টাকা ও তার দুই ছেলেমেয়ের পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সনদ পুড়ে গেছে আগুনে। বন্যা বা বৃষ্টি হইলে তো কিছু নিয়া বাইর হওয়া যায়। কিন্তু আগুনে জান ছাড়া কিচ্ছু নিয়া বাইর হইতে পারি নাই। দুই দিন আগে বেতন পাইছি, ওভারটাইমের টাকা পাইছি সব পুইড়া গেছে। বাড়ি থেকে টাকা এনে ত্রিপল টানিয়ে ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোনোরকমে মাথা গুঁজে আছেন তিনি।

    পোড়া ঘরে চাদর টানিয়ে রান্না করছিলেন নাজমা আক্তার। আগুন কেড়ে নিয়েছে তার জীবিকার একমাত্র সম্বল সেলাই মেশিন।সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে বলে বলেন, ছেলেমেয়েদের নিয়া বের হমু নাকি জিনিসপত্র নিমু? ছেলে, স্বামীর বেতনের টাকা- আরও কিছু জামানো টাকা মোট ৬০ হাজার টাকা ছিল এই ঘরে। যাদের দ্যাশে বাড়িঘর আছে, তারা তো দ্যাশে গিয়া থাকতে পারে। আমাদের তো তাও নাই। কি খামু, কেমনে থাকমু?

    সরকার সহযোগিতা করলে করবে, আর না করলে তো কিছু করার নাই। বাচ্চাকাচ্চা নিয়া তো কইরা খাইতে হবে। মাসের ১০ তারিখে বেতন পেয়ে পুরো মাসের বাজার করে রেখেছিলেন ডাব বিক্রেতা ইউনুস।পরের দিন মাল কিনার ২১ হাজার টাকা রাখছিলাম; পুইড়া গেছে। সরকার ঘরে ঘরে এসে যদি কিছু টাকা দিত, তাহলে সহযোগিতা হইত। কিছু লোকের বুক ফাটে কিন্তু মুখ ফোটে না। নীরবে বইসা থাকে। যাদের হাত পাতার অভ্যাস তারা চাইতে পারে, আর যারা চাইতে পারে না তাদের কষ্টটা বেশি।

    অগ্নিকান্ডের তদন্ত দাবি     

    বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দেখতে এসেছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।তিনি সাংবাদিকদের বলেন,ঢাকা শহরে বস্তিগুলোতে আগুন লাগে, কিন্তু আগুন কেন লাগে- তা তদন্ত করে বের করা দরকার। বস্তিতে আগুন লাগা নতুন ঘটনা নয়। এখানে যারা বসবাস করেন তারা সবাই শ্রমজীবী মানুষ, তারাই ঢাকা শহর চালনা করেন। কাজেই তারা কীভাবে ভালভাবে বসবাস করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করে দিতে হবে। শুধু খাবার দিয়ে নয়, তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি। বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজও এসেছিলেন বস্তিবাসীদের দেখতে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com