• শিরোনাম

    জবিতে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী কনসার্ট

    রায়হান উদ্দিন, জবি | ০৫ মার্চ ২০১৮

    জবিতে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী কনসার্ট

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের আয়োজনে জবি’র প্রাঙ্গনে ‘মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী ছাত্র সমাবেশ ও কনসার্ট’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করতে হলে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

    পুলিশের একার পক্ষে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে না। মাদককে ও সন্ত্রাসকে কেবল পুলিশবিষয়ক সমস্যা হিসেবে চিন্তা করে নিরাময় সম্ভব নয়। শুধু কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে আটকিয়ে রেখে শাস্তি দিলেই এর নির্মূল হবে না। এর সাথে জড়িত থাকা পুরো চক্রটা সম্পর্কে সবার সচেতন হতে হবে।

    কারা মাদক গ্রহণ করছে এবং কারা তাদের হাতে পৌঁছিয়ে দিচ্ছে সম্পূর্ণ বিষয়ে জেনে সচেতন হতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো যদি যুবসমাজকে মূল্যবোধের শিক্ষা দেয় তাহলে সবাই সচেতন হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সমাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে এর সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।

    পারিবারিক মূল্যবোধ একটি মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে মূল অবদান রাখে। ব্যক্তিত্বহীনরা সমাজের বোঝা। মাদক রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের সাথে আসক্ত ব্যক্তিকেও ধ্বংস করছে। সর্বাবস্তায় মাদক ও সন্ত্রাসকে না বলতে হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

    সন্ত্রাসও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আইজিপি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী সবসময় জিরো ট্রলারেন্স। বাংলাদেশ পুলিশ ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও তাদের প্রতিহত করতে গিয়ে সতেরজন পুলিশ নিহত হয়েছে। তিন হাজারেরও বেশি পুলিশ আহত হয়েছে। সম্প্রতিও কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। তবুও বাংলাদেশ পুলিশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কাছে মাথানত করেনি। বাংলাদেশ পুলিশ কঠোর হস্তে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করেছে।

    ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, তোমরা আগামীর ভবিষ্যৎ। তোমাদের কাছ থেকে জাতি অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। বাবা-মা তোমাদেরকে ভালো মানুষ হতে উচ্চ শিক্ষার জন্য এখানে পাঠিয়েছেন। অনেক কষ্ট করে তোমাদের পড়ালেখার খরচ যোগাচ্ছেন । এমন কোন কাজ করবে না যাতে তাঁরাসহ পুরো জাতি লজ্জিত হয়। সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ আপনাদের কাছে আমরা এসেছি। জঙ্গিবাদকে আমরা যেভাবে নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছি তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে।

    বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার পিছনে অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা হবে। জবি ও ডিএমপি, লালবাগ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে জবি ক্যাম্পাসে বিজ্ঞান ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত ‘মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী ছাত্র সমাবেশ ও কনসার্ট’-এ আইজিপি এই প্রতিশ্রুতি দেন। জাফর ইকবাল একজন পুলিশ পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে আইজিপি এই হামলার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন এবং তিনি জাফর ইকবালের দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করেন।

    পুলিশ প্রধান বলেন, জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীকে সাধারণ জনগন ও শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় আটক করতে সক্ষম হয়েছি। হামলাকারী অসুস্থ্য থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। তবে তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করার দরুন আমরা এটা জানতে পেরেছি যে সে জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী। হামরাকারী সুস্থ্য হলেই আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনার পিছনে কারা জড়িত আছে তাদের বের করে আনবো। এবং তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো।

    প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় শত্রু মাদক। এটি ক্যান্সারের চেয়েও ভয়াবহ। আর আমাদের দ্বিতীয় শত্রু হচ্ছে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ। যে সন্তান সমাজ ও দেশের সম্পদ হতে পারতো সেই সন্তান মাদকাসক্তি হয়ে সমাজ ও দেশের বোঝায় পরিনত হচ্ছে। পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা কঠিন। সকলের প্রচেষ্ঠায় মাদক নির্মূল করা সম্ভব।

    মাদক ও সন্ত্রাস দমন করতে হলে দরকার সঠিক পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের। আমাদের সকলকে দায়িত্বশীলতার সাথে মাদক ও সন্ত্রাসের বির“দ্ধে থেকে কাজ করতে হবে। আমরা জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে দিয়েছি। যে জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে সে জাতি সন্ত্রাস ও মাদককে এদেশে কখনও থাকতে দিবে না। আপনাদের সাথে নিয়ে আমরা মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com