• শিরোনাম

    টিসি দেয়ায় ভিকারুন্নেছা স্কুল ছাত্রীর আত্নহত্যা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

    টিসি দেয়ায় ভিকারুন্নেছা স্কুল ছাত্রীর আত্নহত্যা

    স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নেয়া নিষেধ ছিলো। তবুও মোবাইল নিয়ে পরীক্ষার হলে যায় রাজধানীর বেইলি রোডের ভিকারুন্নেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী (১৪)। মোবাইলে নকল করার অপরাধে মোবাইল নিয়ে তাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।

    পরদিন মা-বাবাকে ডেকে অপমান করে তাকে টিসি (বদলি আদেশ) দেয়ার কথা বলা হয়। এতে অপমান ও লজ্জাবোধে বাসায় ফিরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্নহত্যা করে অরিত্রি। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শান্তিনগর ২৩/২৪ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পরিবার অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ বিষয়ে ভিকারুন্নেসা স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল নাজনীন ফেরদৌস বলেন, অরিত্রি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল। রবিবার পরীক্ষার দিন মোবাইলে বইয়ের ছবি তুলে এনে বেঞ্চের ওপর রেখে নকল করছিল অরিত্রি। এ অপরাধে তার মোবাইল নিয়ে নেওয়া হয়। গতকাল তার মা-বাবাকে স্কুলে আসতে বলা হয়। পরে তারা স্কুলে আসেন। তাদের অরিত্রির বিষয়টি পরিষ্কার করে জানানো হয়। তবে অরিত্রির মা-বাবাকে অপমান এবং অরিত্রিকে টিসি দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

    মৃত স্কুলছাত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, স্ত্রী বিউটি অধিকারী ও দুই মেয়েকে নিয়ে শান্তিনগর ওই বাসার সাত তলায় ভাড়া থাকেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। তার মেয়ে অরিত্রি ভিকারুন্নেছা স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেনীতে বিজ্ঞান শাখায় পড়তো। অন্য মেয়ে ঐন্দ্রীলা অধিকারী একই স্কুলের ৭ম শ্রেণিতে পড়ে।

    জানা গেছে, স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। গত রবিবার অরিত্রির ইতিহাস পরীক্ষা ছিল। স্কুলে ফোন নেয়া নিষেধ সত্বেও সে মোবাইল নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যায়। এনড্রয়েড মোবাইল দেখে নকল করার অপরাধে মোবাইল ফোন নিয়ে তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেন দ্বায়িত্বর শিক্ষক। এরপর গতকাল অরিত্রি পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে পরীক্ষা হলে যেতে দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। বাবা-মাকে নিয়ে তাকে স্কুলে যেতে বলা হয়। এরপর অরিত্রিকে নিয়ে তার বাবা-মা স্কুলে গেলে প্রিন্সিপাল নাজনীন ফেরদৌস জানান, পরীক্ষার সময় মোবাইলে নকল করায় অরিত্রিকে টিসি দেয়া হয়েছে।

    তখন তারা স্কুলের প্রিন্সিপালসহ অন্য শিক্ষকদের অরিত্রিকে টিসি না দেয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের অপমান করে জানিয়ে দেয় অরিত্রিকে স্কুলে রাখা যাবে না। এরপর তারা অরিত্রিকে নিয়ে বাসায় ফিরেন। তাদেরকে বাসায় রেখে অফিসে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে তদবির শুরু করেন তার বাবা দিলীপ অধিকারী। এরইমধ্যে হঠাৎ বাসা থেকে ফোন পান দিলীপ, বলা হয় অরিত্রি দরজা খুলছেনা। পরে দরজা ভেঙ্গে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী হাসপাতাল এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঢামেকে দিলীপ বিলাপ করে বলেন, স্কুল থেকে আমাদের অপমান করেছে এতে কোনো দুঃখ নেই। মেয়ে ভুল করছে সেজন্য শিক্ষকরা একটু বেশি কথা বলতেই পারেন। কিন্তু এরপরেও যদি অরিত্রিকে আরেকবার সুযোগ দেয়া হতো, আমার মেয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেত না। এতো অনুরোধ করা সত্তে¡ও কেন তারা আমার কথা শুনলো না বলে আবেগাপ্লুপ হয়ে পড়েন তিনি।

    পল্টন মডেল থানার এসআই মো. আতাউর রহমান বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মৃতের পরিবারের কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com