• শিরোনাম

    আধিপত্য নিয়ে বিদেশে বসেই হত্যার পরিকল্পনা

    ডিশ ব্যবসায়ী রাজ্জাক খুনের ঘটনায় তিনদিনেও মামলা হয়নি

    আজগার আলী ও মারজার হোসেন | ১১ মে ২০১৮

    ডিশ ব্যবসায়ী রাজ্জাক খুনের ঘটনায় তিনদিনেও মামলা হয়নি

    রাজধানীর বাড্ডায় ডিশ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বাবু হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিনদিনেও কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ। বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান,গত (৯ মে) বুধবার রাতে এই হত্যাকান্ডের পর আটক তিনজনের মধ্যে সাফায়েত বন্দুকযুদ্ধে নিহত এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। তবে রাজ্জাক খুন হওয়ার ঘটনায় আজ শুক্রবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

    তিনি জানান, রাজ্জাককে হত্যাকান্ডের সময় মটরসাইকেলে অপর যে দুইজন ছিলেন নিহত সাফায়েত তাদের নাম বলেছিলেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হত্যাকারী সন্দেহে সাফায়েতের সঙ্গে আটক অপর দুজন পথচারী ছিলেন। জনতা যে তিনজনকে ধরেছিল তাদের মধ্যে সাফায়েত ছাড়া অন্য দুজনের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি দেখে নিজেদের নিরাপদ জায়গায় নেওয়ার চেষ্টার সময় জনতার হাতে তারা ধরা পড়ে। তাদের যে কোন সময় ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

    জানা গেছে, দক্ষিণ বাড্ডা এলাকায় ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছিল ডিশ বাবু। ওই এলাকার ডিশ ব্যবসা দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল সন্ত্রাসী রবিন গ্রুপ। রবিন গ্রুপের গডফাদার হলো মেহেদী গ্রুপ। মেহেদী আমেরিকায় থেকে বাড্ডা এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কলকাঠি নাড়ছেন। রবিন গ্রুপের প্রধান রবিন মালয়েশিয়ায় থাকেন। সেখান থেকে বাড্ডার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি অংশ রবিন নিয়ন্ত্রন করে। এই এলাকার বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রন করে মেহেদী গ্রুপ। এসব গ্রুপের  হাতে রয়েছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র।

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন,বাড্ডা এলাকার সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামি রবিন বর্তমানে মালয়েশিয়া অবস্থান করছে। সেখান থেকে সে বাড্ডা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। তার লোকজন রাজ্জাকের ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। রাজ্জাকের গুলশান, ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় এই ব্যবসা রয়েছে। বিভিন্ন ভাবে এর নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়ে রবিন তার লোকজনকে দিয়ে রাজ্জাককে খুন করার পরিকল্পনা করে। গত সোমবার রাজ্জাককে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই দিন সুযোগ মতো না হওয়ায় তারা তা পারেনি।

    তিনি আরো বলেন, রবিনের বিরুদ্ধে বাড্ডাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে একটি হত্যাকান্ডে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালায়। সে সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় রবিন। নিহত রাজ্জাকের বিরুদ্ধেও থানায় মামলা রয়েছে। রাজ্জাককে হত্যায় অংশ নেওয়ার কথা সাফায়েত স্বীকার করেছিলেন জানিয়ে মশিউর রহমান বলেন,সাফায়েতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাকে নিয়ে তার সহযোগীদের গ্রেফতারে রাতেই অভিযানে নামে গোয়েন্দা দল। এসময় সাফায়েতের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছুঁড়লে সাফায়েত পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায় সাফায়েত গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার মৃত বলে জানায়।

    রাজ্জাকের বাবা ফজলুর রহমান জানান, তার ছেলের সঙ্গে কারও বিরোধের কথা জানতেন না তিনি। তার ছেলে তাকে কখনও এসব নিয়ে বলেনি। পুরান ঢাকার ছেলে রাজ্জাক (৩০) পরিবার নিয়ে বাড্ডার আলাতুনেসা স্কুল রোডে থাকতেন। ম্যাক্স নামে দোকান দিয়ে ওই এলাকায় ডিশ ব্যবসা করতেন তিনি। বুধবার রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ বাড্ডার জাগরণী ক্লাবের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মটরসাইকেলে তিনজন এসে তার ওপর হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ। রাজ্জাককে গুলি করার পর উপস্থিত জনতা ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করে মারধরের পর পুলিশে দেয়। তাদের একজন ছিলেন সাফায়েত হোসেন তামরিন ওরফে রানা (২৮)। ঘটনার ঘণ্টা ছয়েকের মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি।

    এদিকে সাম্প্রতিক রাজধানীর বাড্ডা এলাকার খুনোখুনি বেড়ে গেছে। গত ২২ এপ্রিল বাড্ডার বেরাইদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই কামরুজ্জামান দুখুকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাগ্নে ফারুক আহমেদের গ্রুপ প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। এর আগে ২০১৪ সালের ৩ মে বাড্ডা জাগরনী ক্লাবের ভিতর বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন রাহিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

    ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট রাতে বাড্ডার আদর্শনগর পানিরপাম্প এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন বাড্ডার ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মোল্লা, ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ মানিক, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা এবং যুবলীগ নেতা আব্দুস সালাম। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দিনে দুপুরে মেরুল বাড্ডার মাছের আড়তে ঢুকে রবিন গ্রুপের নির্দেশনায় আবুল বাশার নামে আরেক সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় কিলার নুরাকে অস্ত্রসহ আটকের পর পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর দিনদুপুরে গুলি ও বোমা ছুড়ে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মামুনকে। চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে গত ৫ বছরে বাড্ডায় খুন হন সাইদুর, মাসুম, আলা, রুবেল ও তাইজুলসহ আরো কয়েকজন।

    উওর বাড্ডা থেকে এক ব্যাবসায়ী জানান,সন্ত্রাসীদের কারনে আতঙ্কে আছে বাড্ডা এলাকাবাসী। সন্ত্রাসীরা দিনে দুপুরে মানুষ হত্যা করতে পারে। কেউ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে হত্যা হুমকি দিয়ে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরো বলেন এই এলাকায় রাতে মাদক ব্যবসায়ীদের একটি বড় চক্র পুরে বাড্ডা এলাকাকে নিরাপদ এলাকা হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রত্যেক রাতে বিপুল পরিমাণ মাদক বিক্রি হয়। বাড্ড থানার জানান, এই সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com