• শিরোনাম

    তনুর পরিবারের ৭ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করল সিআইডি

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২ নভেম্বর ২০১৭

    তনুর পরিবারের ৭ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করল সিআইডি

    কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর পরিবারের সাত সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ বুধবার সকালে সিআইডি সদর দফতরে ডেকে আনা হয় তনুর পরিবারের সদস্যদের। সেখানে তনুর মা-বাবা, ভাই, চাচাতো বোনসহ সাত সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তনু হত্যাকান্ডের তদন্ত নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেছেন, তনুর আত্মীয়-স্বজনকে ঢাকা আনা হয়েছে। এটা তদন্তের অংশ। কাজেই আমি মনে করি এই তদন্তে সত্যি ঘটনাটা উদঘাটন হবে। বুধবার দুপুরে রাজধানীতে সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    এদিকে, তদন্তের প্রয়োজনে কুমিল্লা থেকে চিঠি পাঠিয়ে ডেকে আনা হয় তনুর পরিবারের সদস্যদের। সকালে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের সিআইডি কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা গেছে। তার আগে তনুর পিতা ইয়ার হোসেন জানান, তনুকে কারা হত্যা করতে পারে এ বিষয়ে সিআইডির সঙ্গে কথা বলব। এতোদিনেও তনু হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আমরা এই মামলার ভবিষ্যত নিয়ে হতাশ হতে চাই না। আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

    সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সিআইডি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল তনুর পরিবারের সদস্যদের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডি’র এডিশনাল ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে তাদের ডেকে আনা হয়েছে। তদন্তে তাদের সহযোগিতা চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ২০ নভেম্বর তনুর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে তদন্তের স্বার্থে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল, চাচাতো বোন লাইজু জাহান ও চাচাতো ভাই মিনহাজ হোসেনকে বলা হয়।

    তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রোবেল জানান, জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে আমার চাচাতো বোন লাইজু জাহান, পরে পর্যায়ক্রমে আমি (রোবেল), চাচাতো ভাই মিনহাজ হোসেন, বাবা ইয়ার হোসেন এবং সর্বশেষ আমার মা আনোয়ারা বেগম সিআইডি কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হন। এসময় ওই কক্ষে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আখন্দ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদসহ সিআইডির একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন। রোবেল আরও বলেন, সিআইডি কর্মকর্তারা তাদের নিকট আপুর (তনু) ব্যক্তিগত কিছু বিষয়, সেনানিবাসের ভেতর সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় প্রাইভেট পড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে। এসব তথ্য সিআইডিকে আমরা আগেও দিয়েছি।

    গত বছরের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর পাওয়ার হাউস এলাকায় কালভার্টের পাশের ঝোপ থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তনুর পিতা ইয়ার হোসেন বাদি হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। স্বজনদের ধারণা ধর্ষণের পর তনুকে হত্যা করা হয়েছে। তনু হত্যাকান্ডের কোনো ক্লু এখনও উদঘাটন হয়নি। মামলার ভবিষ্যত নিয়ে তনুর স্বজনরা হতাশা প্রকাশ করলেও হাল ছাড়িনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com