• শিরোনাম

    পৃথক অভিযানে গ্রেফতার ৫৯

    দুই কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

    দুই কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫

    রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। তারা হলেন, সিরাজুল ইসলাম রুবেল (৩২), সুমাইয়া সুলতানা রিয়া (২৪), মফিজুল ইসলাম (২৮), শাকের (২৪) ও জসিম উদ্দিন (২২)। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, রবিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ১৫০ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নারীসহ ওই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়ারা ট্যাবলেট, রেজিস্ট্রেশনবিহীন ১টি মাইক্রোবাস ও ৮টি মোবাইল ফোনসহ ৬ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বাজার মূল্য ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

    মুফতি মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারকৃত সিরাজুল ইসলাম রুবেল ও সোমাইয়া সুলতানা রিয়া স্বামী-স্ত্রী এবং বসুন্ধরার বর্ণিত ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করছে। সিরাজুল ইসলাম এস এস সি এবং তার স্ত্রী এইচ এস সি পাশ। বিগত দুই বছর পূর্বে তাদের বিবাহ হয়। সিরাজুল ইসলাম গার্মেন্টসের লট ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। বর্তমানে সে উক্ত ব্যবসার অন্তরালে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। মাদক ব্যবসায় তার স্ত্রী তাকে সহযোগীতা করে থাকে। বর্তমানে তাদের বাসাটি মূলত মাদক ট্রানজিট ও বিতরণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত মফিজুল ইসলাম একজন মাইক্রোবাস চালক। মাইক্রোবাসটি মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হয়। বর্ণিত মাইক্রোবাসটিতে যাত্রী পরিবহনের অন্তরালে মাদক বহনের জন্য একটি গোপন প্রকোষ্ঠ তৈরি করা আছে। গ্রেফতারকৃত শাকের ও জসিম মূলত যাত্রীবেশে মাদক বহনকারী হিসেবে কাজ কারে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে টেকনাফ হতে এরা বাস বা ট্রেনে করে ঢাকা আগমন করে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে কক্সবাজার জেলার টেকনাফের দুই জন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে সিরাজুল ইসলাম রুলের রাজধানীর গোলাপ শাহ্ মাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ঘটনাচক্রে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

    পরে মাদক ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামকে ইয়াবা ব্যবসার প্রস্তাব দেয়। এই ভাবে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে সিরাজুল। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেতারকৃত সিরাজুল ইসলাম আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারী এড়ানোর লক্ষে বসুন্ধরার মত একটি অভিজাত এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে মাদকের ট্রানজিট এবং ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট স্থাপন করে। গত ডিসেম্বর মাসে ৪০ হাজার টাকা ভাড়ায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ১৫০ নম্বর বাড়ীর একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে বসবাস করতে থাকে। উক্ত ফ্ল্যাটটির ভাড়া টেকনাফের দুই মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক পরিশোধ করা হতো।

    এছাড়া মাদক বহনের জন্য ব্যবহৃত রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মাইক্রোবাসটির মালিক টেকনাফের বর্ণিত দুই মাদক ব্যবসায়ীর একজন। টেকনাফ হতে ইয়াবাগুলো ঢাকায় পৌছানোর পর এর একটি অংশ ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী নরসিংদী, দোহার ইত্যাদি এলাকায় বিতরণের জন্য উক্ত ফ্ল্যাটে রেখে দেওয়া হতো। এখান থেকে তারা সাধারনত গুলশান, ধানমন্ডি ও উত্তরা এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করত। এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বর্ণিত ফ্ল্যাট থেকে মাদক সংগ্রহ করত। চালানের একটি অংশ জব্দকৃত একই মাইক্রোবাসে খুলনা, যশোর ও বেনাপোল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো। ইতিপূর্বে এই চালান ছাড়াও আরও কয়েকটি চালান ঢাকার অভ্যন্তরে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই সিন্ডিকেটের আরও কয়েকজন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।

    এদিকে, ডিএমপি’র উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান জানান, রবিবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ ৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৩০৬ পিস ইয়াবা, ১১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গাঁজা, ৪৮৮ গ্রাম ৭০১ পুরিয়া হেরোইন, ১৬ লিটার দেশী মদ, ১০ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন ও ৭৬ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com