• শিরোনাম

    চুলায় গ্রেনেড রেগে বিস্ফোরণের চেষ্টা

    নাখালপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ জানুয়ারি ২০১৮

    নাখালপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত

    রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার জঙ্গি আস্তানায় (রুবি ভিলা) নামে একটি বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে। র‌্যাব বলছেন তিনজনই জেএমবি’র সদস্য। ছয়তলা বাড়িটির পঞ্চমতলায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে অভিযান চালায় র‌্যাব। আজ শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে দোতলায় রেখে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। পরে ভবনের ভেতর থেকে তিন জঙ্গির লাশ উদ্ধার করা হয়।

    আজ সকালে ঘটনাস্থলে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সম্ভবত তারা নিজেরাই গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। এর মধ্যে জাহিদ ও সজীব নামে দু’টি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। তবে সে দু’টি পরিচয়পত্রের ছবি একই ব্যক্তির। ধারণা করা হচ্ছে, দু’জনই একই ব্যক্তি। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক ও কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    ৪ জানুয়ারি এ তিনজন বাসাটা ভাড়া নেয়। এক সপ্তাহ আগে নিহতরা ওই বাড়িতে উঠলেও বাড়ির মালিক এটি জানেন-ই না। মেস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করত রুবেল। সে-ই মূলত মেস মেম্বারদের ঢোকাত, বের করত। দায় ছিল রুবেলের। বাড়িওয়ালা খোঁজ নিয়ে দেখেনি রুবেল কাকে ঢোকাচ্ছে, কাকে বের করছে। জিজ্ঞাসাবাদে এতটুকু পাওয়া গেছে।

    পশ্চিম নাখালপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১০০ গজ দূরে ‘রুবি ভিলার’ অবস্থান। সাংসদদের সরকারি বাসভবন বা ন্যাম ভবনের কাছেই এটি। ছয়তলা বাসার পঞ্চমতলায় মেস বাসা ছিল। তবে ওই বাড়িতে আগেও অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ ও র‌্যাব এর আগে আরো তিনবার (২০১৩, ২০১৬ ও ২০১৭) সেখানে অভিযান চালিয়েছে। এ নিয়ে মোট চারবার একই বাড়িতে অভিযান চালানো হলো।

    আগের অভিযানেও বেশ কয়েকজন ধরা পড়ে বলে জানয়েছে স্থানীয়রা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযান চলাকালে গ্যাসের চুলায় গ্রেনেড রেখে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেছিল জঙ্গিরা। পুরো ঘরের মধ্যে তারা গ্যাস ছেড়ে দিয়ে গ্রেনেডটাকে চুলার মধ্যে রেখে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিল। যাতে করে গোটা কক্ষটা বিস্ফোরিত হয়। আল্লাহর অসীম রহমতে সেটি হয়নি।

    র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে, এ রকম জায়গায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে, কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এর ভিত্তিতে ছয়তলা ভবনটির পঞ্চমতলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাড়িটি ঘিরে ফেলার পর একটানা প্রায় ৪০ মিনিট গোলাগুলি চলে। ওই বাড়ি থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা গ্রেনেড ছোড়ে।

    পরে আস্তানা থেকে তিনটি লাশ ও দুইটি পিস্তল, তিনটি আইইডি বোমা, বিস্ফোরক জেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা একটি লাশের নিচে থেকে একটি গ্রেনেড, গ্যাসের চুলার ওপর থেকে একটি গ্রেনেড ও সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তারা চুলার ওপরে যে গ্রেনেডটি রেখেছিল, সেটা বিস্ফোরিত হলে ভয়াবহ ঘটনা ঘটতো। তবে আমরা গ্যাসের ঘ্রাণ পেয়ে লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেই।

    পশ্চিম নাখালপাড়ার ১৩/১ হোল্ডিং নম্বরের রুবি ভিলায় গিয়ে দেখা যায়, ৬ষ্ঠ তলা বিশিষ্ট বাড়িটির ৫ম তলায় তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ৫ম ও ৬ষ্ঠ এই দুই ফ্লোরে মেস করে ভাড়াটিয়ারা থাকেন। সবক’টি ফ্ল্যাট মিলিয়ে ২০ জনের মতো থাকতো। এর মধ্যে পঞ্চম তলার জঙ্গিরা যে ফ্ল্যাটে ছিল সেখানে সাত জন ছিল। তিন জঙ্গি ছাড়া বাকিরা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। তিন জঙ্গি একটি কক্ষে থাকতো। জঙ্গিদের লাশ সরানোর পর কক্ষটির ভেতরে ঢুকে দেখা গেছে, একটি চৌকির ওপর কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র স্তূপ করে রাখা হয়েছে। মেঝেতে পড়ে আছে দুটি পিস্তল, ৪৪টি গুলির খোসা, সাদাকালো রঙের তিনটি স্কার্ফ।

    র‌্যাব জানায়, নিহত তিন জঙ্গি জেএমবির সদস্য। তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জাহিদ নামের এক জঙ্গি বাড়িটি ভাড়া নেয়। ভাড়া নেওয়ার সময় জানিয়েছিল, সে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। দুই ভাইসহ সে একটি কক্ষে থাকার কথা বলে বাসায় ওঠে। ৪ জানুয়ারি জাহিদ একা বাসায় উঠেছিল। ৮ জানুয়ারি বাকি দু’জন আসে। ওই ফ্ল্যাটে যারা থাকতেন তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরে আসা দু’জনকে তারা বাসা থেকে বের হতে দেখেননি। জাহিদ সকালে বাসা থেকে বের হতো, রাতে আসতো। সেখান থেকে তাদের ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট শেষ হয়েছে। আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ১৪ আগস্ট এই বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালায়। তখন অন্তত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শুনছি তারাও জঙ্গি। এরপর তাদের কী হয়েছে আর জানি না। এসব কারণে তাদের এলাকায় কোনো মেস ভাড়া দেয়া হয় না। জানা গেছে, বাড়ির মালিক সাব্বির হোসেন বিমানের ফ্লাইট অফিসার ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। বাড়ি ভাড়ার বিষয়টি কেয়ারটেকার রুবেল দেখাশুনা করতো। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এলাকাবাসী জানায়, একবার পুলিশ বাড়িওয়ালাকে গ্রেফতার করছিল, পরে আবার ছেড়ে দেয়।

    তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, গত বছর আমরা (পুলিশ) ওই বাসায় অভিযান চালিয়েছিলাম। তখন জামায়াত-শিবিরের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা ছিল।

    পশ্চিম নাখালপাড়ার এক বাসিন্দা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমে একটা শব্দ পাই। এর কিছুক্ষণ পর আবার শব্দ। শীতের কারণে বাসার দরজা-জানালা সব বন্ধ ছিল। তাই শব্দ খুব আস্তে শোনা গেছে। আমরা প্রথমে ভেবেছি আতশবাজি হচ্ছে। পাশেই চ্যানেল আই এর অফিস থাকায় প্রায়ই এমন আতশবাজি হয়। আমরা তাই ভেবেছিলাম।

    আজ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, অভিযান শেষ হয়েছে। জঙ্গি আস্তানা থেকে তিনটি লাশ বের করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তেজগাঁও থানা পুলিশ লাশ তিনটির সুরতহাল করেছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ তিনটি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জঙ্গিদের কক্ষটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com