• শিরোনাম

    পল্টনে ছাদ থেকে ফেলে কিশোরকে হত্যা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ জুন ২০১৮

    পল্টনে ছাদ থেকে ফেলে কিশোরকে হত্যা

    রাজধানীর পল্টনে ছাদ থেকে ফেলে আল-আমিন (১৭) নামে এক কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ৪১/১ পুরানা পল্টন নাভানা রিয়েল এস্টেট নামে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ফাঁকা জায়গা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। কে বা কারা ঠিক কি কারণে আল-আমিনকে হত্যা করেছে তা নিহতের পরিবার নিশ্চিত করতে না পারলেও পুলিশ বলছে, ছাদ থেকে ফেলে আল-আমিনকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    পল্টন থানার এসআই ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ বলেন, নেট দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির চতুর্দিক বেষ্টনী দেয়া ফাঁকা জায়গা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সে ফকিরাপুল কোমর গলি এলাকায় থাকত। এসআই বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে এসে কিছু আলামত জব্দ করেছে, মতামতও দিয়েছে। মতামতের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই বলেন, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কেননা, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি অন্যকিছু আসে। তখন তো মতামতের সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নাও মিলতে পারে।

    নাভানা রিয়েল এস্টেট এর নিরাপত্তাকর্মী সেলিম বলেন, রাতে নাভানা রিয়েল এস্টেট এর গেট বন্ধ থাকে। গতকাল সকালে তারা ডিউটি করতে এসে কিশোরের লাশ দেখতে পান। পরে থানায় খবর দেন। ওই কিশোরকে তারা আগে কখনো দেখেননি। পাশে উচু উচু ভবন রয়েছে। তার ধারণা, হয়তো ওইসব ভবনের যে কোন একটি থেকে কিশোরকে কেউ মেরে নিচে ফেলে দিয়েছে।

    নিহতের বড় ভাই শাহ আলম জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার সাতানি গ্রামে। বাবার নাম তাজুল ইসলাম। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে আল-আমিন ছিলো ছোট। সে পুরানা পল্টনে একটি ব্যাচেলর মেসে থাকত। শান্তিনগর টুইন টাওয়ারে একটি পোশাকের দোকানে কাজ করত। তবে ৬ মাস আগে কাজ ছেড়ে দেয়। এখন বেকার ছিলো। আল-আমিন গত ঈদে বাড়ি যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আল-আমিন ঢাকায় থেকে যায়। গত শুক্রবার বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে গতকাল বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিলো। শাহ আলমের দাবি, আল-আমিনের রুমমেট আমির ও আরমান হত্যাকান্ডের বিষয়ে জানে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।

    পুলিশ বলছে, আল-আমিনের শরীরে ছুরিকাঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ঢামেক মর্গে রাখা মরদেহে দেখা যায়, মৃতের মাথার পিছনে ধারালো অস্ত্রের লম্বা কাটা চিহ্ন। বুকে, পিঠে, হাতে ও পায়েও বেশ ক’টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসআই ইব্রাহিম মর্গের কাগজে আল-আমিনের বয়স ২৭ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু শাহ আলম বলছেন, আল-আমিনের বয়স ১৭ বছর হবে। পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক বলেন, ওই কিশোরের মাথায়, পিটে ও পেটে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে যে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়েছে তা নিশ্চিত। এ ঘটনায় নিহতের ভাই-বোন মামলা করবেন। আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী ও নিহতের কয়েকজন বন্ধুকে থানায় আনা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com