• শিরোনাম

    পানি ও শৌচাগারের কষ্টে রোহিঙ্গারা

    ডেনাইট ডেস্ক | ২২ এপ্রিল ২০১৮

    পানি ও শৌচাগারের কষ্টে রোহিঙ্গারা

    কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গাদের প্রধান সমস্যা এখন দুটি। এক খাবার পানির সংকট, দুই শৌচাগারের সমস্যা। সংকট কতটা ভয়াবহ তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয়ের দেওয়া দুটি তথ্যেই পরিষ্কার হবে। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে স্থাপন করা ৮ হাজার ৫৩টি অগভীর নলকূপের মধ্যে ৭০ শতাংশই এখন অকেজো। অন্যদিকে ৩৫ হাজার ৩৭০টি অস্থায়ী শৌচাগারের মধ্যে বর্তমানে ব্যবহার উপযোগী রয়েছে ১৩ হাজার। নষ্ট হয়ে গেছে ২২ হাজারের বেশি শৌচাগার।

    দুটি উপজেলায় এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য করা শিবিরে খাবার, রান্না এবং ব্যবহারের জন্য দিনে ১ কোটি ৭৫ লাখ লিটার পানির প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা পাচ্ছে দিনে ১ কোটি ৩২ লাখ লিটার পানি। শিবিরগুলোতে পানির ঘাটতি ৪৩ লাখ লিটার বলে জানান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উখিয়া উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. ইকবাল হাসান। তিনি টেকনাফের দায়িত্বে রয়েছেন। এই প্রকৌশলী বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে ১১টি পানিবাহী গাড়ি প্রতিদিন কয়েকবার বিভিন্ন শিবিরে পাঠানো হচ্ছে।

    অনেক রোহিঙ্গা পরিবার দূষিত পাহাড়ি ছড়া ও পুকুরের পানি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে পান করতে বাধ্য হচ্ছে। যে কারণে ডায়রিয়া, পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের রোগ শিবিরগুলোতে লেগেই আছে। টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের গৃহবধূ আমেনা খাতুন (৩৫) বলেন, পানির অভাবে রান্না, কাপড় ধোয়ার কাজ করতে পারছেন না। খাবার পানি আনতে দু-তিন কিলোমিটার দূরের গ্রামে যেতে হয়। তিনি বলেন, শিবিরে একটি বেসরকারি সংস্থা প্রতিদিন পানি সরবরাহ করলেও সেই পানিতে দুর্গন্ধ।

    শুধু রোহিঙ্গা শিবিরেই নয়, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন গ্রামেও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে উখিয়া উপজেলায় নতুন করে আরও ১২০০ গভীর নলকূপ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ৭২০টি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ৪৮০টি নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে টেকনাফেও রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে জানান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

    রোহিঙ্গা শিবিরে পানির সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিওগুলো যেনতেনভাবে নলকূপ স্থাপন করায় এ অবস্থা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে স্থাপন করা গভীর নলকূপের পাইপ মাটির ৭০০-১০০০ ফুট গভীরে যাবে। এসব গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শেষ হলে পানির সংকট আর থাকবে না।

    অগভীর নলকূপ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পর্কে উখিয়ার কুতুপালংয়ের মধুরছড়া রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি (নেতা) হোসেন আহমদ  বলেন, মাটির নিচে মাত্র ১০-১৫ মিটার পাইপ ঢুকিয়ে যেনতেনভাবে কাজ করে টাকা লুট করেছে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পাইপের গভীরতা কম হওয়ায় টিউবওয়েল (নলকূপ) স্থাপনের কিছুদিনের মধ্যেই আর পানি উঠে না। আবার নষ্ট টিউবওয়েলের মাথা ও হাতলগুলো রাতের আঁধারে কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। পানি নিয়ে তারা খুব কষ্টে আছেন।

    জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছর উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় পানির স্তর ছিল মাটির ৩২-৩৫ ফুট নিচে। এখন পানির স্তর ৪২-৫০ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় হঠাৎ করে অধিকসংখ্যক নলকূপ স্থাপন, পানির ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাহাড় ও বন উজাড় করে রোহিঙ্গা বসতি স্থাপনের কারণে মাটির নিচে পানির স্তর নেমে গেছে।

    টেকনাফের শালবন, উখিয়ার মধুরছড়া ও বালুখালী শিবিরের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্য ঠকমতোই তারা পাচ্ছেন। কিন্তু পানির সংকট ও শৌচাগারের সমস্যায় ভুগছেন সবাই। আগে ২০-৩০টি পরিবারের জন্য আগে একটি করে শৌচাগার বরাদ্দ ছিল। কিন্তু বেশির ভাগ পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি হওয়ায় শৌচাগার ব্যবহার করার জন্য লাইন ধরে দাঁড়াতে হতো। শৌচাগারের সংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমে যাওয়ায় অবস্থা এখন শোচনীয়। শিবিরের ভেতরে হাটাচলার জায়গা, ঘরের পেছনের খালি জায়গা, আশপাশের নালা ও জঙ্গল এখন উন্মুক্ত শৌচাগার হয়ে গেছে।

    টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা শিবিরে দুগন্ধের কারণে ঢোকাই যায় না। উপজেলার অন্য শিবিরগুলোর অবস্থাও কমবেশি একই রকম। উখিয়ার শিবিরগুলোর অবস্থা টেকনাফের চেয়ে কিছুটা ভালো বলে জানান রোহিঙ্গা মাঝিরা। শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের ডি-২ ব্লকের মাঝি ছৈয়দুল আমিন বলেন, ২ হাজার ৯০০ পরিবার রয়েছে শিবিরটিতে। আগে যত শৌচাগার ছিল তার অর্ধেকও এখন নেই। যে কয়টি আছে তা-ও মানসম্মত নয়। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। এভাবে বেঁচে থাকা কঠিন। কিন্তু করারও কিছু নেই।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বে-রসিক ইউএনও!

    ১২ মার্চ ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com