• শিরোনাম

    উওরায় থেকে সাত ছিনতাইকারী গ্রেফতার

    পেশা ভিন্ন হলেও দিনশেষে সবাই সংঘবদ্ধ ডাকাত ও ছিনতাইকারী

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫ জুলাই ২০১৮

    পেশা ভিন্ন হলেও দিনশেষে সবাই সংঘবদ্ধ ডাকাত ও ছিনতাইকারী

    পেশায় কেউ মুহুরি, কেউ পোশাককর্মী, কেউবা সেলসম্যান, দর্জি, জমির দালাল বা ট্যাক্সিক্যাব চালক। পেশা ভিন্ন হলেও দিনশেষে তারা সবাই সংঘবদ্ধ ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। বিভিন্ন ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে ছিনতাই ও ডাকাতি করে থাকে। এই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

    তারা হলো- সাগর বাড়ৈ, রুবেল, বাবুল ওরফে বাবু, আনোয়ার হোসেন, স্বপন মাহমুদ, ইউসুফ আলী ও আনোয়ার হোসেন। গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আজ দুপুরে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রাকিবুজ্জামান। তাদের কাছ থেকে ৩টি বিদেশি অস্ত্র ও ১৬ রাউন্ড গুলি জব্দ করার কথা জানান তিনি।

    রাকিবুজ্জামান বলেন, উত্তরার বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে এই চক্রটি একত্রিত হয়েছে। এমন খবরে র‌্যাবের একটি দল ওই ৭ জনকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইকারী চক্রটির প্রধান সাগর ও তার অন্যান্য সহযোগী গত ১৩মে গাজীপুর জেলার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার উনিশে টাওয়ারের নীচে রবি ও বিকাশের দুইজন এজেন্টকে গুলি করে ১৫ লাখ টাকা ছিনতাই কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সাগর জানায়, তারা বিগত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই করার জন্য প্রস্তুতি নিলেও বিভিন্ন কারণে সফল হতে পারেনি।

    র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, সাগর পেশায় একজন মুহুরি। সে ২০০০ সাল থেকে এই পেশায় নিয়োজিত। ২০১৩ সালে সাগরের জনৈক বেনজামিন এর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে বেনজামিনের মাধ্যমে জনৈক আনোয়ারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সে ছিনতাইচক্রে যোগ দেয়। ২০১৭ সালে আনোয়ার আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে নিহত হলে সাগর ছিনতাই চক্রটির নেতৃত্ব দেয়।

    সাগর ইতোপূর্বে ডাকাতি ও ছিনতাই মামলায় দুই বার জেলে যায় এবং প্রথমবার সাত মাস ও দ্বিতীয়বার দুই মাস কারাবাস শেষে জামিনে বেরিয়ে আসে। জেলে থাকাকালীন সময়ে গ্রেফতারকৃত সাগরের সঙ্গে ছিনতাই চক্রের অপর সদস্য আনোয়ার ও কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং সাগর তাদেরকে তার চক্রে যোগদানের কথা জানায়। জেল থেকে বের হয়ে সাগর অনেক ছিনতাই কাজে অংশ নেয় এবং সব কাজে সে নেতৃত্ব দেয়।

    এদিকে রুবেল পেশায় একজন দর্জি। রাজধানীর নিউমার্কেটের গাউছিয়া মার্কেটে দর্জির কাজ করে। ২০১৭ সালে আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে নিহত ছিনতাই চক্রের সদস্য আনোয়ার এর মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত রুবেল এ চক্রে যোগ দেয়। সাগর ও রুবেল পরস্পর যোগসাজসে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি ক্রয় করে ছিনতাই কাজে ব্যবহার করে বলে স্বীকার করে। এক্ষেত্রে অস্ত্র সরবরাহকারী ছিনতাই করা অর্থের দ্বিগুণ টাকা নেয় বলে সে জানায়।

    গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বাবুল পেশায় একজন সেলসম্যান। সে নিউমার্কেটের চাঁদনী চক মার্কেটে একটি দোকানে কাজ করে। কাজের সূত্র ধরে একই মার্কেটে কর্মরত রুবেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বাবুলের বিরুদ্ধে আশুলিয়া ও সাভারে একাধিক ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা থাকায় হাইকোর্টের মুহুরি সাগরের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। সাগর ও রুবেলের মাধ্যমেই সে ছিনতাই চক্রে যোগ দেয়। বাবু ডাকাতি ও ছিনতাই মামলায় মোট ১৭ মাস কারাভোগ করে বলে স্বীকার করে।

    আরেক গ্রেফতারকৃত আনোয়ার হোসেন পেশায় একজন গাড়িচালক। সে ২০০৫ সালে ঢাকায় আসে। সে বিমানবন্দর এলাকায় ভাড়ায় ট্যাক্সিক্যাব চালায়। মাদক ব্যবসার দায়ে একবার জেলে যায় এবং সেখানে তার সাগরের সঙ্গে পরিচয় হয়। দুই মাস পর জেল থেকে বের হয়ে আনোয়ার ও সাগরের সঙ্গে ওই ছিনতাইচক্রে যোগ দেয় এবং নিয়মিত ছিনতাই কাজে অংশ নেয়।

    স্বপন মাহমুদ পেশায় একজন জমির দালাল। ১৯৮৮ সালে আসামি স্বপন ঢাকায় আসে এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত চাকরি করে। পরবর্তীতে সে সৌদি আরব যায় এবং প্রতারণার শিকার হয়ে ৪ মাস পর দেশে ফিরে আসে। সে ২০১৬ সালে সাগর, বাবু ও রুবেলের সঙ্গে ডাকাতি ও ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার হয়। সে ছিনতাই চক্রটির টার্গেট সংগ্রহকারীর কাজ করত বলে স্বীকার করে।

    ইউসুফ আলী পেশায় একজন পোশাককর্মী। ২০০৮ সালে সে ঢাকায় আসে এবং সাভারে একটি সোয়েটার গার্মেন্টসে দীর্ঘদিন শ্রমিকের কাজ করে। পরবর্তীতে সে সহকারী ঠিকাদারের কাজ শুরু করে। কাজের সূত্র ধরে ২০১৭ সালে আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে নিহত আনোয়ারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তার মাধ্যমে বেশি উপার্জনের লোভে এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

    এদিকে, আনোয়ার হোসেন পেশায় একজন গার্মেন্টসকর্মী। ২০১০ সালের দিকে সে নিজ জেলা নীলফামারীতে সোয়েটার ফ্যাক্টরি খোলে। ২০১৩ সালে বিভিন্ন কারণে তার ফ্যাক্টরি ৮-৯ মাস বন্ধ থাকায় সে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আবারো সে ঢাকায় চলে আসে ও ফের সাভারের একটি সোয়েটার কারখানায় চাকরি নেয়। চাকরির সূত্র ধরে ইউসুফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ইউসুফের মাধ্যমেই আনোয়ার ও সাগরের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং তাদের মাধ্যমে সে ছিনতাই চক্রে যোগ দেয়। বিভিন্ন পেশার এই ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রাকিবুজ্জামান।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com