• শিরোনাম

    ফুল দিয়ে স্মরণ করা হলো হলি আর্টিজানে নিহতদের

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ জুলাই ২০১৮

    ফুল দিয়ে স্মরণ করা হলো হলি আর্টিজানে নিহতদের

    গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার দুই বছর গতকাল পূর্ণ হয়েছে। এদিন হলি আর্টিজান বেকারিতে ফুল দিয়ে হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দেশি-বিদেশি অনেকে। সকাল ১০টার পর বেকারির ফটক খুলে দেওয়ার পর নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপির পক্ষে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান দলের ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী। এছাড়াও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাপান, ইটালি ও অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতগণ।

    নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে আসেন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে একজন জঙ্গিরও অস্তিত্ব থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলতে থাকবে। গত দুই বছর ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে এই বার্তা দিতে পেরেছি, বাংলাদেশ জঙ্গিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নয়। এ দেশের জনগণ কখনও জঙ্গিবাদ মেনে নেয়নি, নেবেও না। তবে এখনই আত্মতুষ্টির কোনও সুযোগ নেই। কারণ জঙ্গিবাদ নির্মূল একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

    গতকাল সকাল থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয় হলি আর্টিজান বেকারির সেই বাড়িটি। পরে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তারাসহ সর্বস্তরের মানুষ। হামলায় নিহত ইতালিয়ান নাগরিক নাদিয়া বেনদিত্তি ছিলেন স্টুডিও টেক্স লিমিটেডের পরিচালক। ওই গার্মেন্ট কারখানার কর্মীরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    দিনটির স্মরণে সকাল থেকেই হলি আর্টিজান বেকারির ওই বাড়িতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিদেশিদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় পুলিশ ও সীমিত কয়েকটি গাড়ি ছাড়া কোন গাড়ি ঢুকতে দেয়া হয়নি। উগ্রবাদী হামলার পর কয়েক মাস ওই বাড়িটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে ওই বাড়িটিতে বসবাস করছেন বাড়ির মালিক। ওই বাড়ির সামনে তৈরি অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করা হয়।

    ছেলের ছবি বুকে নিয়ে শাওনের মা

    হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার দিন সেখান থেকে পালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন বেকারির স্টাফ জাকিরুল ইসলাম শাওন। ওই বছরের ৮ জুলাই পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাওন। গতকাল ছেলের ছবি বুকে নিয়ে হলি আর্টিজান বেকারিতে আসেন শাওনের মা মাকসুদা বেগম।

    তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলেটা নির্দোষ ছিল। জঙ্গি ছিল না। কিন্তু ওকে পিটাইয়া মাইরা ফালাইছে। লাশ নেওয়ার পর আমরা ওর শরীরে অসংখ্য যখমের চিহ্ন দেখেছি। আমরা গরিব মানুষ। কার কাছে বিচার চাইবো? কে এর বিচার করবো?
    তিনি আরো বলেন, ছেলেটার রোজগারে আমাদের সংসার চলতো। আমি পিঠা বিক্রি করি, হলি আর্টিজান বেকারির মালিক মাসে মাসে অল্প কিছু টাকা দেয়। এতে কোনও রকমে সংসার চলে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। এ সময় মাকসুদা বেগমের সঙ্গে ছিলেন তার আরেক ছেলে আব্দুল্লাহ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com