• শিরোনাম

    আইজি প্রিজনের বিদায়

    বন্দিদের সংশোধনে প্রয়োজন মানবিক ও মানসিক পরিবর্তন

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

    বন্দিদের সংশোধনে প্রয়োজন মানবিক ও মানসিক পরিবর্তন

    আমাদের দেশে কেউ কারাভোগ করার পর তাকে অন্য দৃষ্টিতে দেখা হয়। এমনকি নিজ পরিবারের সঙ্গেও তার দূরত্ব তৈরি হয়। যা নিজেকে সংশোধনের জন্য বড় বাধা। কিন্তু অনেক রাষ্ট্রেই সামাজিকভাবে প্রশিক্ষক দ্বারা বন্দিদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা হয়। আমাদেরও সেই স্বক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সেই সঙ্গে সবার মানসিকতার পরির্বতন হলেই একজন বন্দি আলোর পথে ফিরে আসবে। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য কাজ করতে পারবে।

    ৫ বছর দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় বেলায় গতকাল সোমবার দুপুরে কারা অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আইজি প্রিজন সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন। এসময় দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও কিছু অসম্পূর্ণ কাজের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও নিজের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পর্কে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশাকে ব্রিফ করা হয়েছে। তিনি (নতুন আইজি প্রিজন) এ কাজগুলো সম্পন্ন করবেন বলে আশা করছি।

    সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে বন্দিদের দÿতা বৃদ্ধি ও চারিত্রিক দিক উন্নয়নের কাজ এবং কাররক্ষীদের রেশন প্রদানের কাজ সাংগঠনিকভাবে শুরু হয়নি। সংশোধীত কারা আইন পাশ হলে এই কাজগুলো শুরু হবে। কারাগারে মাদক নির্মূলে বিষয়ে বলেন,শুধু আধুনীক যন্ত্রপাতি দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। আবার কারো একার পক্ষেও এটি করা সম্ভব নয়। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেকগুলো স্টেক হোল্ডার। সুতরাং সম্মিলিত ইচ্ছা শক্তি ছাড়া মাদক নির্মূল হবে না। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেটি মানলে মাদক নির্মূল না হলেও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

    নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নতুন প্রকল্প বিষয়ে তিনি বলেন, আগেই বলা হয়েছে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় জাদুঘর, শপিংমলসহ বিভিন্ন কিছু নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি একনেক সভায় পাশ হয়েছে। ইতিমধ্যে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওপেন জেল প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ায় ওপেন জেল করার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। কিন্তু রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থান্তরের সিদ্ধান্তের কারণে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।

    সংশোধন কার্যক্রমে বাধা হতে পারে অসাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা জানিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারে প্রায় ৮০ শতাংশ অসাজাপ্রাপ্ত বন্দি ও ১৮-১৯ শতাংশ সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছে। ফলে সংশোধনী কার্যক্রম শুরু করতে হলে এই ৮০ শতাংশ বন্দি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে বন্দিদের যদি দ্রুত সাজা প্রদান করা হয় তাহলে বিষয়টি সহজ হবে। এছাড়াও দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সামাজিক দৃষ্টি ও পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়াটাও সমস্যার বিষয়। নতুন আইন পাশ হলে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও যুব অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    আইজি প্রিজন আরো বলেন, ফাঁসি দেয়ার নিউজ ফলঅওভাবে প্রচারে আমি সব সময় দ্বিমত পোষণ করে এসেছি। কারণ সারাবিশ্ব যখন সাজাপ্রাপ্তদের ফাঁসির বিরুদ্ধে কাজ করছে তখন ফাঁসির নিউজ প্রচার করলে আমাদের মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও যার ফাঁসি কার্যকর হয় সে সময়টাতে তার পরিবারের একটি কঠিন পরিস্থিতি পার করতে হয়।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে কারা অধিদপ্তরের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয় তাকে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন নতুন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com