• শিরোনাম

    আজ শুরু কারা সপ্তাহ-২০১৮ 

    বন্দী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কারা কর্তৃপক্ষ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ মার্চ ২০১৮

    বন্দী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কারা কর্তৃপক্ষ

    ‘সংশোধন ও প্রশিক্ষণ, বন্দির হবে পুনর্বাসন’ শ্লোগানে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে কারা সপ্তাহ ২০১৮। অথচ এখনো নিশ্চিত হয়নি কারা বন্দিদের থাকার নূন্যতম স্থান। প্রতিদিনই ধারণ ক্ষমতার ২-৩ গুন বেশি বন্দি থাকছে কারাগারে। এরই মধ্যে জঙ্গি ও মাদক বিরোধী নিয়মিত অভিযানসহ বিভিন্ন অভিযানে বাড়ছে বন্দির সংখ্যা। ফলে কোণঠাসা হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বন্দিরা। অসুস্থ্য হলেও চিকিৎসক সঙ্কটে পাচ্ছে না নূন্যতম চিকিৎসা। অবস্থা এমন যে, বন্দির ভারে বেসামাল হয়ে পড়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

    কারা সূত্র জানায়, সারাদেশের ৬৮টি কারাগারের ধারণক্ষমতা ৩৬ হাজার ৬১৪ জন বন্দির। অথচ প্রতিদিন গড়ে বন্দি থাকে ৭৫-৮০ হাজার। সে অনুযায়ী প্রতিদিনই ধারণক্ষতার দ্বিগুনের বেশি বন্দি থাকছে কারাগারে। কোনো কোনো কারাগারে ৩ গুনও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। জেল কোড অনুযায়ী একজন সাধারণ বন্দীর জন্য ৩৬ বর্গফুট স্থান থাকার কথা। কিন্তু এ কোড মানা হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন বন্দীর জন্য বরাদ্দ থাকা স্থানকে কয়েকজনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। খাওয়া-দাওয়ার সমস্যাও প্রকট। বন্দীরা থাকছেন গাদাগাদি করে। এত বন্দী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বশীলরা।

    কারাসূত্র থেকে জানা গেছে,ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দী হওয়ায় থাকা, টয়লেট ও গোসল নিয়ে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বন্দীরা। গাদাগাদি করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হয় বলে বন্দীরা নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ধরনের বন্দী চরম দুর্বিষহ অবস্থায় থাকতে থাকতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। আবার জঙ্গি, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযানে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে বন্দির সংখ্যা। এমন অনেক বন্দীও আছে যারা জানে না কি অপরাধে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নিরপরাধ মানুষ গ্রেফতারে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সতর্ক হওয়া উচিত। তাহলে বন্দির সংখ্যা কিছুটা হলেও কমবে।

    কারাগারে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নাজুক

    কাগজে কলমে প্রতিটি কারাগারে একটি করে হাসপাতাল থাকলেও দেশের ৬৩টি কারাগারেই চিকিৎসক নেই। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ পাঁচটি কারা হাসপাতালে চিকিৎসক আছেন মাত্র ৮ জন। অথচ অনুমোদিত চিকিৎসকের মোট সংখ্যা ১৪২ জন। অধিকাংশ কারা হাসপাতালে চলছে ফার্মাসিস্ট নির্ভর চিকিৎসা। সেবা বলতে প্যারাসিটামল, হিস্টাসিনসহ ছোটখাট ওষুধই ভরসা।

    চিকিৎসকের ভয়াবহ সংকট থাকায় কোন বন্দী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কারাগার ভেদে মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় সময় বিলম্বিত হয়ে প্রায় ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা। অন্যদিকে চিকিৎসা সঙ্কটের অযুহাতে বন্দীরা বিভিন্ন রোগের কথা বলে কারাগারের বাইরের হাসপাতালে থাকার সুযোগ নিচ্ছেন। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারা হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও চিকিৎসার যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক, নার্স-সংকটের কারণে বন্দীদের মৌলিক যে স্বাস্থ্যসেবা, তা দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

    ঝুঁকিতে ৩০ কারাগার-

    কারা সূত্র জানায়, ৬৮ কারাগারের ২৫-৩০টি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যা ব্রিটিশ আমলের ভবন। নাজুক এই ভবনগুলোতেই জীবনের ঝুকি নিয়ে সাজা ভোগ করছেন বন্দিরা। কারা অধিদপ্তরের এআইজি (উন্নয়ন) বলেন, ২০০৯-১৭ সাল পর্যন্ত ১১টি কারাগার পুনঃনির্মাণ, ৬টি কারাগার সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে ৮টি প্রকল্প চালু রয়েছে। ঝুকিপূর্ণ কারাগারের মধ্যে, রংপুর, যশোর ও রাজশাহী কারাগার সংস্কারের উদ্যগ নেয়া হয়েছে। নরসিংদী ও ঠাকুরগাও কারাগার বেশি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় আলাদা জায়গায় নির্মান করা হবে। বর্তমানে কুমিল্লা কারাগার সংস্কারের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

    অফিসার সঙ্কট চরমে

    কারা সূত্র জানায় মাত্র ১৪৯ জন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ৬৮ কারাগার নিয়োজিত রয়েছেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। কারা অধিদপ্তরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে ৯ হাজার বন্দি ও ১ হাজার স্টাফের দায়িত্বে মাত্র ২ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এতো বিপুল সংখ্যক লোকের দায়িত্ব ২ জনের পক্ষে পালন করা প্রায় অসম্ভব। এই সংখ্যাটা ১০ হলেও হতো। প্রতিটি কারাগারের প্রায় একই অবস্থা বলে জানান তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com