• শিরোনাম

    ‘মি টু’ থেকে সাহস নিয়ে মুখ খোলার আহ্বান

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২ নভেম্বর ২০১৮

    ‘মি টু’ থেকে সাহস নিয়ে মুখ খোলার আহ্বান

    নিপীড়ন নিয়ে মুখ খোলার পর নানা ধরনের বিরূপ কথা শোনার পাশাপাশি সমর্থন পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা। ২০০৬ সালে আফ্রো আমেরিকান সামাজিক আন্দোলনের কর্মী তারানা বুরকি নারী অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নারীর উপর যৌন নিপীড়নের বিষয়ে প্রথমবারের মতো ‘মি টু’ ধারণার কথা বলেন, পরে একই নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মাণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরে হলিউড অভিনেত্রী  অ্যালিসা মিলানো প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সোশাল মিডিয়ায় #মি টু আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।

    এরপর একে একে মুখ খুলতে থাকেন হলিউডের অভিনেত্রীরা। এর ধাক্কা এসে লেগেছে বাংলাদেশেও। মুখ খুলেছেন মুক্তা, লাইজু, তাসনুভার মতো কয়েকজন। গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা বলেন, নারীর যে কষ্ট, আমি বলতে পারার মধ্য দিয়ে আমার কষ্টটা বের হয়ে গেছে।মুখ খোলার পর দুই ধরনের অভিজ্ঞতা পাওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। যেখানে আমাদের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের পাশে যে আরও অনেক মানুষ আছেন, এতে করে আমরা ঘাবড়ে যাইনি।

    নিজের মুখ খোলার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে মুক্তা বলেন, “#মি টু আন্দোলনে যে সাহস পেলাম, এতে বুঝেছি নিজেকে আর অপরাধী ভাবছি না। কারণ আমাদের সমাজে নারীদের উপরই অপরাধটা চাপিয়ে দেওয়া হয়। বড় হতে গিয়ে নিজের শরীরটাকে ঘৃণা করতে শিখি। মানসিকভাবে ভয়ানক বিপর্যস্ত ছিলাম। আমার স্বামী আমার বন্ধু ছিলেন, তখন থেকেই স্বামী সব সময় আমার সাথে আছেন। পুরুষ মানেই নিপীড়ক না, কিন্তু নিপীড়করা সমাজেই ভালো একটা ফেইস নিয়ে থাকছেন। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা যায় না।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে থাকাকালীন সেই দিনের ঘটনার পর তিনি ক্লাস করা ছেড়ে দিয়েছিলেন বলেও জানান মুক্তা।সেই ঘটনার পর পর কারও সাথে মিশতে পারতাম না। পরিবারকেও বলা যায়নি, কারণ আমার পরিবার রক্ষণশীল। সারাদেশে তোলপাড় কিন্তু এখনও আমার বাবা-মাকে বলিনি, তারা জানেন না। মুশফিকা লাইজু বলেন, “আমার কথা হল, কাউকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া গেলে কেন মরণোত্তর তিরস্কার দেওয়া যাবে না?

    এখনও যারা এ ধরনের হীনকর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত আছেন সাবধান হয়ে যান। কারণ আমার আমার কষ্টের কথা ৩১ বছর পর বলতে পেরেছি, কেউ ৫১ বছর পর হলেও তার সাথে ঘটে যাওয়া অপকর্মটি নিয়ে মুখ খুলতে পারেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তা তাসনুভা আনান একজন রূপান্তরিত নারী পরিচয় দিয়ে ‘মি টু’ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলেন। একজন রূপান্তরিত নারী হয়ে যেখানে সমাজে আমার কোনো ঠাঁই নেই, কিছুদিন আগে সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। আমাদের এখন পর্যন্ত যারা লিখেছেন, তারা হয় নারী বা পুরুষ। কিন্তু একজন রূপান্তরিত নারী হয়ে লিখেছি এই উদ্দেশ্যে যে, আমার কোনো কমিউনিটি লাইফ ছিল না। ট্র্যাডিশনের বাইরে গিয়ে মেইন স্ট্রিমের লোকদের সাথে সব সময় আমার যুদ্ধটা ছিল।

    এই নিপীড়নগুলো যদি প্রতিরোধ না করা যায় বা নিপীড়ন যদি চলতেই থাকে, তাহলে তো বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, উন্নয়নের পথচলা ব্যাহত হচ্ছে। এই পথচলা তো নারী, পুরুষ বা কোনো মাইনরিটি কমিউনিটিকে বাদ দিয়ে তো উন্নয়ন হতে পারে না। আমি সেখান থেকেই ঘটনাটা লিখেছিলাম। সাহসটা সেখান থেকেই পাওয়া। নাট্য আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকা তাসনুভা বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা হল যে, আমার বলার মতো জায়গা কোনো দিনই ছিল না। মানে আমার পড়াশোনা, বেড়ে উঠা, সব কিছু থেকেই বলার মতো মানুষের জায়গা থাকে, তাদের পাশে সাপোর্ট দেওয়ার মতো হাজব্যান্ড আছে, আমার জীবনে কেউ ছিল না। আশেপাশে দেখলাম অনেকেই লিখছে সেই ধারাবাহিকতায় আমার সেই ঘটনাটাও লিখেছি।

    নারী, পুরুষ বা রূপান্তরিত নারী যেই হোক না কেন, তার কাজকেই মুখ্য করে দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি। ছয় বছর আগে পরিবার ছেড়ে আসা তাসনুভা আনান নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশের কারণে যে হুমকি পাচ্ছেন, সে কথাও বলেন অনুষ্ঠানে।একটা ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। মানসিক বিষয় ও অফিসের কাজে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। বিভিন্ন ধরনের মামলা হবে, হুমকি, ফ্যামিলির ওপর প্রেসার হবে। আমার কন্ডিশন আমার ফ্যামেলি ও সমাজ মেনে নেয়নি। সেখানে পরিবারের উপর যদি কোনো ধরনের ইফেক্ট হয়, তাহলে তাদের মধ্যে কী ধরনের ট্রমা যাবে… সেই ঘটনা নিয়ে সত্যিই চিন্তিত।

    আলোচনা অন্যদের মধ্যে অংশ নেন মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, একই বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, হাই কোর্টের আইনজীবী ওহিদুর রহমান টিপু, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু, সাংবাদিক মাসুদ কামাল ও হারুন উর রশীদ প্রমুখ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com