• শিরোনাম

    মৃত্যুমুখ থেকে ফেরার গল্প শোনাল থাই গুহা কিশোররা

    ডেনাইট ডেস্ক | ১৯ জুলাই ২০১৮

    মৃত্যুমুখ থেকে ফেরার গল্প শোনাল থাই গুহা কিশোররা

    গত ১০ জুলাই সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তারা হাসপাতালে থাকায় তাদের মুখ থেকে কোনো কথা শোনা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে সংবাদমাধ্যমও জানতে পারেনি তাদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা। বুধবারই প্রথমবারের মত ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ জনসম্মুখে এসেছে। থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানে তাদের সঙ্গে চিকিৎসক, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিল।

    নিজ দলের প্রতীক ‘ওয়াইল্ড বোয়ার’ ছাপাঙ্কিত টি-শার্ট পরে এবং ফুটবল হাতে কিশোর দলটি মঞ্চে প্রবেশ করে। তাদের পেছনে থাই হরফে ‘ওয়াইল্ড বোয়ারসকে বাড়িতে আনা হচ্ছে’ লেখা বিশাল একটি ব্যানার টানানো ছিল। অনুষ্ঠানের মঞ্চটি সাজানো হয়েছিল পুরো একটি ফুটবল মাঠের আদলে৷ সেখানে ফুটবল নিয়ে এসে খেলতে খেলতেই কথা বলেছে কিশোররা। আর তখনই সবাই জানতে পেরেছে তাদের ১৭ দিনের অজানা কথাগুলো৷

    অনুষ্ঠানে এক কিশোর তার অভিজ্ঞতার বর্ণনায় বলেছে, “আমি সবাইকে বলেছিলাম লড়াই চালিয়ে যাও, হতাশ হবে না। আদুল স্যাম-অন নামে ১৪ বছরের আরেক কিশোর ডুবুরিরা যখন তাদের খুঁজে পেল সেই মুহূর্তকে ‘ম্যাজিক’ বলে বর্ণনা করে। এটি ছিল জাদুকরী ব্যাপার।তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে আমাকে অনেক চিন্তা করতে হয়েছিল।

    ‘ওয়াইল্ড বোয়ার’ নামক ওই কিশোর ফুটবল দল ও তাদের কোচ গত ২৩ জুলাই মিয়ানমার সীমান্তবর্তী চিয়াং রাই প্রদেশের ‘থাম লুয়াং’ গুহায় প্রবেশের পর নিখোঁজ হয়। দশদিনের মাথায় গত ২ জুলাই দুই ব্রিটিশ ডুবুরি গুহা মুখ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে তাদের সন্ধান পায়। গত ৮ জুলাই থেকে কিশোরদের গুহার বাইরে বের করে আনার চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়। ওইদিন চার কিশোর, পরদিন চার কিশোর এবং তারপর দিন চার কিশোর ও তাদের কোচকে বের করে আনা হয়।

    গুহার ভেতর সন্ধান পাওয়ার পর দলটির সঙ্গে অবস্থান করা তিন ডুবুরি বেরিয়ে আসার মধ্য দিয়ে  উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।দলটির কোচ এক্কাপোল চ্যাংটাওয়াং বলেন, কিশোরদের বের করে আনার সময় তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনা করা হয়নি। বরং যাদের বাড়ি গুহা থেকে বেশি দূরে তাদেরকে প্রথমে বের করা হয়েছে। যাতে তারা সবাইকে বলতে পারে, গুহায় আটকা কিশোররা ভালো আছে। গুহার ভেতর আটকা পড়ে যাওয়ার আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতেও কিশোরদের শান্ত রাখতে সক্ষম হওয়ায় অনেকেই এক্কাপোলের প্রশংসা করেছেন।

    যদিও কেউ কেউ বর্ষা মৌসুমে বিপদ মাথায় নিয়ে কিশোর দলটিকে গুহার ভেতর নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিতে তার দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিশোররা জানায়, তারা ফুটবল অনুশীলন শেষে এক ঘণ্টা গুহার ভেতর ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে গুহায় পানি ঢুকে গেলে তারা আটকা পড়ে যায়। এক্কাপল বলেন,আমরা গুহার দেয়াল খোঁড়ার চেষ্টা করেছি। আমাদেরকে খুঁজে বের করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইনি।

    পাথর দিয়ে দেয়ালের প্রায় ৩/৪ মিটার খুঁড়ে ফেলতে পেরেছিল বলে জানায় আরেক কিশোর। তবে তাদের চেষ্টা কোনো ফল বয়ে আনেনি বলে জানান এক্কাপোল। তিনি বলেন, কিশোরদের প্রায় সবাই সাঁতার জানত। যদিও কেউ কেউ খুব ভাল সাঁতারু ছিল না। গুহার ভেতর প্রবেশের আগে দলটি খাবার খেয়েছিল। কিন্তু যেহেতু তারা মাত্র এক ঘণ্টার জন্য সেখানে গিয়েছিল তাই সঙ্গে কোনো খাবার নেয়নি। টিন নামে এক কিশোর জানায়, আমরা শুধু পানি খেয়েছি। প্রথম দিন আমরা সুস্থই ছিলাম। কিন্তু দুই দিন পর আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়তে শুরু করি।

    দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য তিতান বলেছে, “আমার কোনো শক্তি ছিল না। আমি খাবারের কথা না ভাবার চেষ্টা করেছি, যে কারণে আমার বেশি ক্ষুধা লাগেনি। আরেক কিশোর বলেছে, “বাড়ি ফিরতে পারব না ভেবে আমার ভয় লাগছিল। বার বার মনে হচ্ছিল মা আমাকে বকুনি দেবে। এরকম দুষ্টুমির জন্য কিশোর দলটি সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। দীর্ঘদিনের অনাহারে দুর্বল হয়ে পড়া কিশোরদের গুহা থেকে উদ্ধারের পর গড়ে তিন কেজি করে ওজন বেড়েছে। যে কারণে বুধবার তাদের সুস্থ-সবল দেখাচ্ছিল।

    তবে যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাদের হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে কত সময় লাগবে সেটি কেউই বলতে পারছে না। এ বিষয়ে বিচার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকতা বলেন, কিশোররা তাদের হৃদয়ে কী বহন করছে তা আমরা কেউ জানি না।হাসাপাতাল থেকে ছাড়ার পর তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কঠোরভাবে সুরক্ষিত থাকতে হবে। যাতে সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত মনযোগ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে না পারে।

    দেশি –বিদেশি মিলিয়ে প্রায় হাজারখানেক ডুবুরি ওই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। যাদের বেশিরভাগই স্বেচ্ছা সেবক হিসেবে কাজ করেছেন। এমন একজন থাই নৌবাহিনীর সাবেক ডুবুরি সামারন কুনান গুহার ভেতর কিশোরদের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে শ্বাসরুদ্ধ  হয়ে মারা যান। অনুষ্ঠানে কিশোররা সামারনের পেন্সিলে আঁকা একটি স্কেচ তুলে ধরলে অনেকেই নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কোচ এক্কাপোল বলেন, “কিশোরদের সবাই খুব দুঃখ পেয়েছে। তারা সামারনের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছে। তাদের মনে হচ্ছে, তাদের কারণেই তিনি মারা গেছেন এবং তার পরিবারকে ভুগতে হচ্ছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com