• শিরোনাম

    রবিবার পায়ে অস্ত্রোপচার

    রাজীবের পর এবার রোজিনার পা বিচ্ছিন্ন

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ এপ্রিল ২০১৮

    রাজীবের পর এবার রোজিনার পা বিচ্ছিন্ন

    রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারিয়ে মারা যাওয়া রাজীবের শোক কাটতে না কাটতেই এবার বিআরটিসির বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে পা বিচ্ছিন্ন হলো রোজিনা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর। হাত উঁচু করে বাসটিকে থামতে বলেও রেহাই পাননি তিনি। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে এঘটনা ঘটে। আহত আবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বনানী থানার ডিউটি অফিসার (এসআই) শামছুল হক বলেন,বিআরটিসির ঢাকা মেট্রো ব ১১- ৫৭৩৩ বাসের ধাক্কায় মেয়েটির ডান পায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঘাতক বাসের চালক শফিকুল ইসলাম সুমনকে আটক করা হয়েছে। তাকে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তার সহকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আজ শনিবার পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, রবিবার  রোজিনার পায়ে ছোট খাটো একটি অস্ত্রোপচার করা হবে।

    জানা গেছে বাসচাপায় পা হারানো রোজিনা আক্তার নিম্ন আয়ের মানুষ। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে কতই বা আয় তার। সে উপায়ও আর রইল না। হাসপাতালে শুয়ে থাকা রোজিনা যদি চিকিৎসায় বেঁচেও যান, তার ভবিষ্যত জীবনের চাকা কীভাবে চলবে, সেই প্রশ্নের জবাব নেই। রোজিনারা ছয় বোন, এক ভাই। সঙ্গে বৃদ্ধ বাবা মা। সংসারের খরচের একটি বড় অংশ যোগান দিতেন এই তরুণী। এখন সবই পড়ে গেল অনিশ্চয়তায়।

    তার চিকিৎসার পাশাপাশি আর্থিকভাবে পুনর্বাসনও জরুরি। জানা গেছে,বেসরকারি টেলিভিশন জিটিভি ও প্রকাশিতব্য দৈনিক সারাবাংলার প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার বাড়িতে আট বছর ধরে গৃহকর্মীর কাজ করেন রোজিনা। হাসপাতালে আনার পর এখন পর্যন্ত চিকিৎসার ব্যয় এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকই বহন করছেন। ইশতিয়াক রেজা বলেন,শুক্রবার তার (রোজিনা) ছুটি ছিল। সে বেড়াতে গিয়েছিল। ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে। আর খবর পেয়ে আমি এখানে এসেছি। আমি যতটুকু পারছি সাহায্য করছি।

    রোজিনার মামি মাজেদা জানান, রোজিনারা ছয় বোন ও এক ভাই। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানায় তাদের বাড়ি। তার বাবার নাম রসূল মিয়া। তিনি একজন কৃষক। বড় বোন ও রোজিনা মিলে তার পরিবারের খরচ বহন করতেন। এখন মেয়েটির মতো তার পরিবারও অনিশ্চিতার মধ্যে পড়ে গেছে। রোজিনার বাবা রসূল মিয়াও মেয়ের দুর্ঘটনার খবর শুনে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন, সংসার চলবে কিবা (কেমন করে) এইডা আমি ভাবতাছি। আমার মাইয়াডার ভবিষ্যত কী অইব? কে কী কইরা খাইব? আমার তো সামর্থ নাই। তার চিকিৎসা করবাম কিবায়?

    আহত রোজিনা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তার বান্ধবীর বাসা থেকে নিকেতনের উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। সৈনিক ক্লাব থেকে কোন বাস না পেয়ে সে হেঁটে মহাখালীর দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনিসহ কয়েকজন রাস্তা পার হচ্ছিলেন। দূর থেকে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসকে তিনি ইশারা দিলে বাসটির গতি ধীর হয়ে আসে। কিন্তু হঠাৎই চালক তার সামনে এসে বাসের গতি বাড়িয়ে দেন। এসময় তার পায়ের উপর দিয়ে একটি চাকা উঠে যায়।

    হাসপাতালের চিকিৎসক মিরাজ উদ্দিন মোল্লা জানান, রাতে যখন রোজিনাকে হাসপাতালে আনা হয় তখন তার পা দেহ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। রক্তনালী, হাড়, মাংস সবই আলাদা ছিল। তার পায়ের অধিকাংশ মাংসপেশী বাসের চাকায় থেঁতলে গেছে। অনেক সময় দেখা যায় এসব রোগীর কিডনি ও হার্টের সমস্যা হয়। তাই ৭২ ঘন্টার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না। আজ গেলে বোঝা যাবে রোগীর কী অবস্থা। এই চিকিৎসক বলেন, আমরা রোগীর সুস্থতার জন্য সব ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি। প্রয়োজনীয় রক্ত এরই মধ্যে দেওয়া হয়েছে। আরও রক্ত দ্রুত দেওয়া হবে। হাসপাতালের চিকিৎসক আজ রোববার পায়ে ছোট খাটো একটি অস্ত্রোপচার করা হবে।

    তবে এই সব সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর শারীরিক অবস্থা সব সময় খারাপের দিকেই যায়। কারণ তার পা বাদেও শরীরে আরো আঘাত থাকতে পারে। যেমন পেটে, মাথায় আঘাত থাকতে পারে, যেগুলো এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তবে সে ভালো আছে, আশা করা যায় ভালো থাকবে। রোজিনার শরীরে বড় কোন ক্ষত পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নে এই চিকিৎসক বলেন,আপাতত আমরা কোন আঘাত দেখিনি। তবে ভেতর ভেতর এসব রোগীর আঘাত থাকে। ৭২ ঘন্টা পর বোঝা যাবে। আপাতত রোগী ভালো আছে।

    রোজিকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রত্যক্ষদর্শী কাউসার আহমেদ জানান, বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকে ২০ হাত দূরে রাস্তা পারাপারের সময় হঠাৎ রোজি রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় মহাখালী থেকে উত্তরাগামী বিআরটিসির একটি দোতলা বাস তার ডান পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পায়ের নিচের অংশ। তিনি আরো জানান,রাস্তায় পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাত উঁচু করে তার দিকে ধেয়ে আসা বিআরটিসির বাসটিকে থামার জন্য হাত উঁচু করে ইশারা করেন রোজি নিজেই। তবু গতি রোধ না করে বাসটি তাকে চাপা দেয়। ঘটনা পর নিজেই জানান তার নাম রোজি। বনানী নিকেতনের একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন।

    উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে চাপা পড়ে ডান হাত হারান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪দিন পর ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় তিনি মারা যান। আর গত ১৭ এগ্রিল গোপালগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় বাসের সরকারী হৃদয় শেখের হাত বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com