• শিরোনাম

    অপহরণ করে টাকা ছিনতাই করত চক্রটি

    র‌্যাবের ষ্টীকারযুক্ত মাইক্রোবাস উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৭

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ নভেম্বর ২০১৮

    র‌্যাবের ষ্টীকারযুক্ত মাইক্রোবাস উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৭

    কোনো গ্রাহক ব্যাংক থেকে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করে পায়ে হেঁটে কিংবা ভাড়া করা সিএনজি দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে র‌্যাবের স্টিকার লাগানো মাইক্রোবাস দ্বারা হঠাৎ করে তার গতিরোধ। হাতকড়া ও ওয়াকিটকি হাতে নিয়ে র‌্যাবের জ্যাকেট পরিহিত কয়েকজন যুবক মাইক্রোবাস থেকে বেরিয়ে ওই গ্রাহককে একের পর এক প্রশ্ন।

    তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে ব্যাংক থেকে উত্তোলনকৃত টাকা হাতিয়ে নিতো। দিতে না চাইলে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হতো। এভাবে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের টার্গেট করে ছিনতাই করে আসছিল একদল ভুয়া র‌্যাব। অবশেষে চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আসল র‌্যাব। গতকাল সোমবার দুপুরে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো-কাসেম ওরফে জীবন, ইব্রাহিম খলিল, জাকির হোসেন সুমন, বিল্লাল হোসেন আসলাম, আবদুল মন্নান, সোহাগ ও আরিফ। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তাল একটি ম্যাগাজিন, দুইটি হাতকড়া, একটি ওয়াকিটকি সেট, র‌্যাবের দুটি জ্যাকেট, দুইটি সিগন্যাল লাইট, ছয়টি বড় লাঠি, দড়ি, চোখ বাঁধার চারটি কালো কাপড়, নগদ ২৮ হাজার টাকা ও র‌্যাবের স্টিকার যুক্ত একটি কালো কাঁচের মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

    মুফতি মাহমুদ খান জানান, বিভিন্ন হাইওয়েতে ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল এই চক্র। এই অপরাধী চক্রের মূল হোতা কাসেম। এই দলে ১০ থেকে ১১ জন স্থায়ী সদস্য রয়েছে। আরো ১৫ থেকে ২০ জন এই চক্রের হয়ে কাজ করে। ৩-৪ মাস ধরে নানা অপরাধ সংঘটিত করেছে এই চক্র। চক্রটি নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকের গ্রাহকদের অপহরণ ও অর্থ ছিনিয়ে নিত। সাধারণত, দলের ২/১ জন সাধারণ ছদ্মবেশে ব্যাংকের বাইরে, ২-৩ জন গ্রাহকের ছদ্মবেশে ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করত।

    মূল দলটি মাইক্রোবাস নিয়ে সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করত। এরপর সুবিধাজনক গ্রাহক শনাক্ত করে। যে গ্রাহক বেশি টাকা উত্তোলন করেন, কিন্তু নিজস্ব গাড়ি নেই, তাদেরই সাধারণত টার্গেট করত তারা। ভেতরের একজন ব্যাংক থেকে বের হয়ে এসে বাইরের জনকে টার্গেট বুঝিয়ে দিত। এরপর মাইক্রোবাসটি সুবিধাজনক স্থানে গতিরোধ করে ওই ব্যক্তিকে তুলে নিত। গাড়ির ভেতরে চোখমুখ বেঁধে সমস্ত টাকা ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে চলে যেত।

    দেলোয়ার হোসেন নামে কেরানীগঞ্জের এক ভিকটিম জানান, তার গরুর খামার আছে। প্রতি বছর তিনি ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা তোলেন। এবারও ওই পরিমাণ টাকা তোলেন। টাকা উত্তোলন করে সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার সময় র‌্যাব পরিচয়ে গত সপ্তাহে তাকে অপহরণ করে ৭ লাখ টাকা নিয়ে যায় চক্রটি। এরকম তিনজন ভিকটিকম গণমাধ্যমে কথা বলেন। যারা অপহরণের শিকার হয়েছিল।

    এদের মধ্যে অন্যতম সার্জেন্ট (অব.) রফিক। তাকে অপহরণ করে চক্রটি তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি জানান, আমি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ফিরছিলাম। কুমিল্লার চান্দিনা থেকে আমাকে গাড়িতে তুলেই চোখ বেঁধে মারধর করে। তাদের সবার গায়ে র‌্যাবের জ্যাকেট ছিল। আমি তাদের কাছে সব টাকা দিয়ে দেই, যাতে আমাকে প্রাণে না মারে। নিজের পরিচয় দিয়ে আমার সেনাবাহিনীর পরিচয়পত্রটি ফেরত দিতে বলি। তখন তারা বলে, এ রকম আর্মি পুলিশ কত ক্রসফায়ারে দিলাম। পরে গাড়ি থেকে আমাকে ফেলে দেয়।

    র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত কাসেম জানান,সে অপরাধী চক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করে। ২০১৫ সালে ইমরানের প্ররোচনায় ছিনতাই এবং ডাকাতি কাজে সম্পৃক্ত হয় কাসেম। চলতি বছরের তিন মাস কারা অন্তরীন থাকে জুলাই মাসে জামিন পায়। পরে কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে এই সংঘবদ্ধ দলটি গঠন করে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৮/৯টি ডাকাতি, দস্যুতা, ছিনতাই ও অস্ত্র সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

    গ্রেফতারকৃত ইব্রাহিম জানান,সে বর্ণিত অপরাধী চক্রের মাইক্রোবাসের চালক হিসেবে নিযুক্ত। তিন মাস আগে তার পরিচিত রুহুল আমিন মোল্লার নিকট হতে উক্ত মাইক্রোবাসটি ভাড়ায় নিয়ে চালাত। কাসেম তার মাইক্রোবাসটি মাঝে মধ্যে ভাড়া নিত এবং সেই সুবাদে জীবনের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়কালে জীবন তাকে উক্ত দলের সদস্য হওয়ার প্ররোচনা দেয়।

    গ্রেফতার জাকির হোসেন সুমন জানান, সে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে স্টাফ হিসেবে কাজ করত। বর্তমানে প্রায় ৮ মাস যাবত গাবতলীর মধুমিতা আবাসিক হোটেলে চাকুরী করে। সে মিরপুরে সনি সিনেমা হলের সামনে শাপলা হোটেলে চাকুরীকালে উক্ত দলের সদস্য রাসেলের সাথে তার পরিচয় হয়।

    গ্রেফতার বিল্লাল হোসেন জানান, প্রথমে সে সিএনজি চালাত। পরবর্তীতে সে মিরপুর-১৪ এ ভ্যান গাড়ী করে কাপড়ের ব্যবসা করত। তার স্ত্রীর বান্ধবীর মাধ্যমে উক্ত দলের সদস্য রাসেলের সাথে তার পরিচয় হয়। সে কিছুদিন পূর্বে রাসেলের কাছে টাকা ধার চাইলে রাসেল তাকে বর্ণিত দলের সদস্য হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয় এবং মোটা অংকের টাকার প্রলোভনে পড়ে উক্ত দলের সাথে ২ মাস আগে যোগদান করে। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন থানায় ৪টি মামলা রয়েছে।

    গ্রেফতার আব্দুল মন্নান জানান, ১ বছর যাবত কাঁচা মালের ব্যবসা করে আসছে। দলের সদস্য রাসেলের মাধ্যমে তিন মাস আগে সে ওই দলে যোগদান করে। গ্রেফতার সোহাগ জানান, সে একটি গার্মেন্টস এর কাজ করত। তার বন্ধু হাবিবের মাধ্যমে দলের প্রধান কাসেমর সাথে তার পরিচয় হয়।

    গ্রেফতার আরিফ জানানম এই দলের মূল হোতা কাশেমর দুঃসম্পর্কের ভাগিনা। ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গার্মেন্টেস এ অপারেটর হিসাবে চাকুরী করেছে। পরবর্তীতে ফতুল্লা রামারবাগ আনছার আলী মার্কেটে সেল্সম্যান হিসাবে কিছুদিন চাকুরী করে। পরবর্তীতে কোম্পানী বন্ধ হয়ে গেলে তার মামা জীবন তাকে এই দলে যোগদান করতে বলে।

    র‌্যাব জানায়, চক্রটি বেশ কয়েকটি অপরাধ সংঘটিত করেছে। গত সেপ্টেম্বরে হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা ও চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থেকে একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া, আশুলিয়া সাভার ইপিজেড, কুমিল্লা চান্দিনা কাঁচাবাজার, কেরানীগঞ্জ আঁটিপাড়া বাজার, নরসিংদীর শিবপুর বাজার, মাদারীপুর শিবচর বাজার, মানিকগঞ্জ পাটুরিয়া শিবালয়সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকদের অপহরণ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com