• শিরোনাম

    ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীর আত্মহনন

    শিক্ষিকার মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮

    শিক্ষিকার মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় চারিদিকে। মোবাইলে নকল করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার নিন্দা জানায় নানা-শ্রেণি পেশার মানুষ। থেমে থাকেনি অরিত্রির সহপাঠীরাও। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে ৬ দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ  শুরু করে তারা। উত্তাল হয়ে ওঠে ভিকারুননিসা ক্যাম্পাস। বিক্ষোভের মুখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্তু করা হয়। উত্তরা থেকে গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয় অরিত্রির শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে।

    এবার সেই শিক্ষিকার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। গতকাল শুক্রবার দুপুর দুইটা থেকে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ‘আমার মা নির্দোষ, মুক্তি চাই, মুক্তি চাই’ বলে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। তবে এদিন অরিত্রীর হত্যাকান্ডের বিচারে ছয় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। এদিকে, বিক্ষোভের কারণে গত ৫ ডিসেম্বরের স্থগিত হওয়া ৯ম ও ৭ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিলেও গেটের বাইরে গভর্নিং বডির সদস্যদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে অভিভাবকরা।

    গতকাল সরজমিনে দেখা যায়, দুপুর ২টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির বেইলি রোডের মূল ক্যাম্পাসের সামনে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে গ্রেফতার শিক্ষিকা হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় তাদের হাতে ‘অরিত্রী আমার বোন, হাসনা হেনা আমার মা’, ‘যাদের হাতে মানুষ গড়া তাদের কেন হাতকড়া?’, ‘আমরা কি শিক্ষকের হাতে হাতকড়া পরিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচিত করছি না?’, ‘শিক্ষকের অপমান মানি না, মানব না’, ‘বিচার চাই, অবিচার না’, ‘বিচার চাইতে গিয়ে এ কোন অবিচার’ ইত্যাদি বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্লেকার্ড দেখা যায়।

    শিক্ষিকার মুক্তির আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশের ছাত্রী ফরিয়া লামিয়া বলেন, ‘হাসনা হেনা ম্যাডাম সম্পূর্ণ নির্দোষ, তাকে বিনা কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। অচিরেই তাকে মুক্তি দিতে হবে। আমরা তার মুক্তি চাই।’ শিক্ষার্থীদের দাবি, অরিত্রীর মৃত্যুর জন্য দায়ী অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক। অথচ তাদেরকে বাদ দিয়ে মায়ের মতো শিক্ষিকা হাসনা হেনা গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা বলছে, শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে যতক্ষণ পর্যন্ত মুক্তি দেয়া না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি তার মুক্তির দাবিতে আগামী রবিবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে।

    সুমন আহমেদ নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘স্কুলের রেপুটেশন নষ্ট হচ্ছে আন্দোলনের নামে। বিষয়টাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে কোনও এক পক্ষ শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়েছে। এটা স্কুলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে যে অপরাধে অপরাধী করা হয়েছে, আসলে সে অপরাধে তিনি অপরাধী না। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ভালো হয়। একই সময়ে গভর্নিং বডির পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ করে অভিভাবকরা। এসময় তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অযোগ্য গভর্নিং বডির সদস্যদের থাকতে দেব না। তাদের কারণে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। অরিত্রির আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারী শিক্ষক ও কমিটির সদস্যরা। আমরা তাদের পদত্যাগ দাবি করেন।

    এবিষয়ে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, গভর্নিং বডির সদস্যরা পদত্যাগ করলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এটি অভিভাবকরা নিশ্চিত করতে পারবেন না। বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেন সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় -সেটি দাবি করা উচিত। তবুও যেহেতু গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ছাড়া সকল সদস্যই নির্বাচিত। তাদের পদত্যগের প্রস্কাবটি পরবর্তী সভায় তোলা হবে। সেই প্রস্তাবে কেউ রাজি থাকলে পদত্যাগ করতে পারেন। এদিকে, অরিত্রির মৃত্যুর পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বন্ধ হয়ে যায় উত্তাল ভিকারুননিসা। টানা ৩ দিন স্থবীর থাকার পরে গত ৫ ডিসেম্বরের স্থগিত হওয়া ৯ম ও ৭ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩টায় পরীক্ষা শেষ হয়।

    প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষিকা মুসতারি সুলতানা বলেন, গত ৫ ডিসেম্বর স্থগিত হওয়া বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের ৯ম শ্রেণির বায়োলজি ও ৭ম শ্রেণির বিজ্ঞান পরীক্ষা শতভাগ উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার একই সময়ে বাংলা-ইংরেজি ভার্সনের ৯ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত ও ৭ম শ্রেণির বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গত ৬ ডিসেম্বরের স্থগিত হওয়া পরীক্ষা আগামী ১১ ডিসেম্বর আয়োজনের মাধ্যমে ২০১৮ সালের সকল বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হবে। প্রভাতী শাখার শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে শিক্ষকদের কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি রয়েছে কি না -জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আইনিভাবেই এটি ফয়সালা করা হবে। তাই এ বিষয়ে শিক্ষকদের কোনো ধরনের আন্দোলন বা প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেই।

    উল্লেখ্য, মোবাইলে নকল করার অপরাধে স্কুল থেকে টিসি দিয়ে বাবা-মাকে অপমান করায় গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শান্তিনগর ২৩/২৪ নম্বর বাসায় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে অরিত্রি। সোমবার রাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আরা ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পল্টন থানায় মামলা করেন অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী। মামলায় বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয় শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে। পরে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com