• শিরোনাম

    ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    শিক্ষিকার মুক্তির দাবিতে ফের ক্লাস বর্জনের হুমকি

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮

    শিক্ষিকার মুক্তির দাবিতে ফের ক্লাস বর্জনের হুমকি

    অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষিকা হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের একদল শিক্ষার্থী। গতকাল শনিবার সকাল ১১টা থেকে বেইলি রোডে প্রতিষ্ঠানটির সামনে পোস্টার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। ওই শিক্ষিকার মুক্তির আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে জানিয়ে আজ রবিবার থেকে ক্লাস বর্জনের হুমকি দেয়া হয়েছে। এরআগে স্কুলটির ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ৬ দফা দাবিতে পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। টানা তিন দিন উত্তাল থাকার পর শুক্রবার থেকে স্বাভাবিক হয় ভিকারুননিসা ক্যাম্পাস।

    গতকাল সরজমিনে দেখা যায়, সকাল ১১টা থেকে স্কুলের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের হাতে ‘ফিরবো না, ফিরবো না, মাকে ছাড়া ফিরবো না’, ‘আমার মায়ের অপমান মানবো না, মানবো না’, ‘আমার মা নির্দোষ, নির্দোষ, নির্দোষ’, ‘মুক্তি চাই মুক্তি চাই আমার মায়ের মুক্তি চাই’, ‘হাসিনা আপার মুক্তি চাই সুষ্ঠু তদন্ত চাই’য়ের মতো বিভিন্ন লেখা সম্বলিত পোস্টার ও প্লাকার্ড দেখা যায়। শিক্ষিকার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগানে মুখোরীত ছিলো ভিকারুননিসা প্রাঙ্গন। তবে, এই দিন অরিত্রির আত্মহত্যার পর ৬ দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করা শিক্ষির্থীদের দেখা যায়নি।

    বিক্ষোভেকারীদের দাবি, মায়ের মতো শিক্ষককে বিনা অপরাধে জেলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। আমার মাকে ছাড়া আমরা আর ক্লাসে যাবো না। আমরা তার মুক্তি চাই। তারা আরো জানায়, অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু কমিটির তদন্তের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কারণ এখনও প্রমাণ হয়নি যে তিনি দোষী। আমরা তার মুক্তি চাই।

    দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনের কলেজ শাখার শিক্ষার্থী সুমাইয়া মাহমুদ মিতিকা, লামিয়া ইকবাল ও আদিবা হাসান জানান, ‘আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অসন্তুষ্ট। সিসি টিভির ফুটেজে আমরা দেখেছি তিনি (শিক্ষিকা হাসনা হেনা) শুধু অরিত্রীর বাবা-মাকে স্কুলের অধ্যক্ষের কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। এর বাইরে তিনি আর কিছু করেননি।

    এজন্য তিনি দোষী হতে পারেন না। একটা ন্যায়ের জন্য আমরা অন্য একটা অন্যায়কে সমর্থন দিতে পারি না। আমাদের ৬ দফা দাবির মধ্যেও তার নাম নেই। তিনি নির্দোষ। আমরা শিক্ষিকা হাসনা হেনার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। মুক্তি দেয়া না পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আজ রবিবার থেকে সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে। একই দাবিতে গত শুক্রবারও বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। তখন অভিভাবকদের একটি অংশ দাবি করে, হাসনা হেনা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাকে মুক্তি দিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

    উল্লেখ্য,মোবাইলে নকল করার অপরাধে স্কুল থেকে টিসি দিয়ে বাবা-মাকে অপমান করায় গত সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শান্তিনগর ২৩/২৪ নম্বর বাসায় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে অরিত্রি। সোমবার রাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আরা ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পল্টন থানায় মামলা করেন অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী।

    শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও স্কুল কমিটি পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। হাইকোর্ট একটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এরপর শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ওই ৩ শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে। পরে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com