• শিরোনাম

    নেপথ্য অস্ত্র ও ইয়াবার ব্যবসা

    শূণ্য থেকে কোটিপটি ফারুক-এ্যানি দম্পতি

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ নভেম্বর ২০১৮

    শূণ্য থেকে কোটিপটি ফারুক-এ্যানি দম্পতি

    বলতে গেলে দিন এনে দিন খেতো ফারুক-এ্যানি দম্পতি। থাকতেন গ্রামের বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জে। ২০০৯ সালে তাদের আর্থিক অবস্থা ছিল এমনই। মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে এই দম্পতি একটি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির মালিক। ঢাকার অদূরে গাজীপুরে রয়েছে বাড়ি-গাড়িও। ভাবেত পারেন- এই দম্পতির অধম ইচ্ছা আর পরিশ্রমে এসব হয়েছে? তা কিন্তু নয়; অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসার টাকায় শত কোটি টাকার মালিক বনে যান ফারুক-এ্যানী দম্পতি। অবশেষে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিভিন্ন সময়ে এই চক্রের ৩৪ জন গ্রেফতার হয়েছে।

    গতকাল দুপুরে সিআইডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থার বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম। এর আগে গত সোমবার ও গতকাল রাজধানীর বাড্ডা থেকে মাদকের গডফাদার এবং অস্ত্র ব্যবসার ডিলার গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার ওরফে এ্যানিকে গ্রেফতার করা হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় দায়ের করা একটি মাদক ও মানি লন্ডারিং মামলায় ফারুক ও এ্যানিকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।

    সিআইডি জানায়, মামলার সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হক ভুট্টো, তার বড় ভাই, ভাগ্নে এবং বিকাশ এজেন্টসহ ১৭ জনের নামে ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট টেকনাফ থানায় একটি মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হয়। সেই মামলায় ফারুক ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুট্টোর মামলায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    বিশেষ পুলিশ সুপার ম্যোলা নজরুল ইসলাম বলেন, আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না ফারুক ও এ্যানী দম্পতির। চাপাইনবাবগঞ্জের একটি গ্রাম ছেড়ে তারা ২০০৯ সালে শূন্য হাতে ঢাকায় আসে। এরপর গাজীপুরে একটি অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে অস্ত্র ব্যবসায় জড়ায় ফারুক। পাশাপাশি গার্মেন্ট ব্যবসা খুলে বসে। মূলত গার্মেন্ট ব্যবসার আড়ালে চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা। পরে আরো বেশি টাকা কামানোর নেশায় জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা ব্যবসায়।

    ফারুক প্রথমে টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হক ভুট্টোর চাচা গুঁড়া মিয়ার কাছ থেকে ইয়াবা এনে ঢাকায় বিক্রি করত। পরে নুরুল হক ভুট্টো এবং তার বড় ভাই নুর মোহাম্মদের কাছ থেকে ইয়াবা এনে বিক্রি করে। প্রায় কোটি টাকার বিনিয়োগের মাধ্যমে এলেজা ইক্সপোর্ট ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি মেশিনারি ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন ফারুক। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের ও স্ত্রীর নামে- বেনামে কোটি টাকার বেশি গচ্ছিত আছে। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার টাকায় স্বামী-স্ত্রী বাড়ি, জমি ও মাইক্রোবাস কিনেছে। এভাবে অবৈধ অস্ত্র আর ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে শত কোটি টাকার মালিক বনে যা ফারুক-এ্যানী দম্পতি।

    তিনি বলেন, এই দম্পতি গ্রেফতারের আগে মাদকের গডফাদার নুরুল হক ভুট্টোর সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেনের সূত্র ধরে মিরপুর থেকে আরেক মাদক ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন ইমন, স্ত্রী সানিয়া আফরোজ ও ছেলে সালাউদ্দিন প্রিন্সকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে নুরুলের বড় ভাই নুর মোহাম্মদের সঙ্গে টাকা লেনদেনের সূত্র ধরে মিরপুর বিহারি ক্যাম্পের মাদক স্ম্রাজ্ঞী রুপা ইসলাম, তার স্বামী আল-আমিন, সহযোগী রিয়াজ, ফয়সাল এবং বিকাশের এজেন্ট জনি ও কুদ্দুসকে গ্রেফতার করা হয়। পর্যায়ক্রমে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মাদকের ডিলার, বিকাশ এজেন্টসহ ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ এই মামলায় গোলাম ফারুক এবং তার স্ত্রী এ্যানীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এসপি নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছি, ফারুকের নামে ডিএমপির তেজগাঁও, উত্তরা পূর্ব এবং চাপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় ৮টি মাদক মামলা রয়েছে। তদন্তকালে তাদের শত কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা শিগগিরই বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা করার ব্যবস্থা করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com