• শিরোনাম

    সীমান্তে মাইন থাকলে যৌথ উদ্যোগে অপসারণ : বিজিপি

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ জুলাই ২০১৮

    সীমান্তে মাইন থাকলে যৌথ উদ্যোগে অপসারণ : বিজিপি

    রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে অসহযোগিতার পর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখার যে অভিযোগ উঠেছে তা অস্বীকার করেছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। বিজিপি বলছে, মিয়ানমার সিকিউরিটি ফোর্স কখনো মাইন বা আইইডি ব্যবহার করে না। তারপরও সীমান্তে মাইন পাওয়া গেলে যৌথভাবে সেগুলো অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি  মিয়ানমারও ইয়াবার আগ্রাসনে ভুক্তভোগী বলে দাবি করেছে বিজিপি।

    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছে বিজিপি। গত ৯ জুলাই থেকে পিলখানায় শুরু হওয়া বিজিবি-বিজিপি সিনিয়র পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে যৌথ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মিয়ানমারের চিফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ, পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থানের নেতৃত্বে দেশটির ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল সীমান্ত সম্মেলনে অংশ নেয়। অপরদিকে, বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমার প্রতিনিধিদের পক্ষে দোভাষীর সহায়তায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মজিবুর রহমান। ইয়াবার অন্যতম যোগানদাতা মিয়ানমার, চোরাইপথে ইয়াবা প্রবেশ বন্ধে বিজিপির উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিয়ানমার জানিয়েছে তারাও ইয়াবার আগ্রাসনে ভুক্তভোগী। ইয়াবাসহ যেকোনো মাদক চোরাচালান রোধে পারস্পারিক সহযোগিতার বিষয়ে বিজিপি আশ্বাস দিয়েছে।

    মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের পর বাংলাদেশ থেকে অনেক গডফাদার মিয়ানমারে আশ্রয় নিয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে এমন মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা মিয়ানমারকে দেয়া হয়েছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমাদের (বিজিবি-বিজিপি) সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক ভালো। নিচের দিকে বিওপি লেভেলে যোগাযোগে ভাষাগত সমস্যা হলেও অফিসার লেভেলে দিন দিন সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। আমরা উভয়পক্ষ আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করছি।

    এছাড়া, উভয়পক্ষ বর্ডার লিয়াজোঁ অফিসের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। যার মাধ্যমে দুই বাহিনীর সম্পর্ক উন্নয়নের সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলেও মনে করছে উভয় পক্ষ। এদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন ও হত্যাকান্ডের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে খেপে ওঠেন মিয়ানমারের কর্মকর্তারা। প্রশ্ন শুনেই অবজেকশন বলে দাঁড়িয়ে যান বিজিপি প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য। তারা এই বিষয়ে কোনো কথা না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। একই সঙ্গে প্রশ্নটি আউট অব অ্যাজেন্ডা বলে উল্লেখ্ করেন বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমান।

    আনিছুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি অনেক বড়। এটা নিয়ে দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। এবিষয়ে জাতিসংঘ কথা বলছে। আমাদের এই সম্মেলনে কোনো আলোচনা হয়নি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ গমনাগমনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি মিয়ানমারের নাগরিকদের সীমান্ত অতিক্রমসহ সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের কর্মকান্ডের পুনরাবৃত্তি বন্ধে  মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    এবিষয়ে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা বন্ধে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে মাদক, অস্ত্র, নারী ও শিশু পাচারসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সমন্বিত যৌথ টহল, সীমান্তে নজরদারি ও অন্যান্য তৎপরতা বৃদ্ধি, উভয় পক্ষের মাঠপর্যায়ের অধিনায়কদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষায় পরস্পরের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্যবিনিময়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। এই সীমান্ত সম্মেলন ফলপ্রসূ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উভয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সিনিয়র পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন মিয়ানমারের নেপিতোতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com