• শিরোনাম

    ব্যাংকার-ইঞ্জিনিয়ারসহ গ্রেফতার ১০

    ৮ বছরে ধরে ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় জালিয়াতি

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ এপ্রিল ২০১৮

    ৮ বছরে ধরে ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় জালিয়াতি

    বিসিএস, মেডিকেল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় একটি চক্র ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতি করে আসছিল। চক্রটি পরীক্ষা শুরুর ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে মাস্টারকার্ড ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বাইরে ফাঁস করে। আর বাইরে থাকা এক্সপার্টদের সাথে কানে লাগানো ক্ষুদ্র হেডফোনে কথা বলে এমসিকিউ’র উত্তর মিলে নিতো।

    এভাবে অসৎ উপায়ে পরীক্ষা দিয়ে অগণিত শিক্ষার্থী বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এখন সরকারি বিভিন্ন দফতরে চাকরিও করছে। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাসহ তিনজন হচ্ছে এই চক্রের মূলহোতা। তারা ৮ বছর ধরে এ অপরাধ করে আসছিল। অবশেষে ব্যাংকার ও ইঞ্জিনিয়ারসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলেনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবুদল বাতেন এসব কথা জানান। এর আগে গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুর, নিউমার্কেট ও ফার্মগেট এলাকা থেকে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলহোতাসহ ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। তারা হলো- পূবালী ব্যাংকের হবিগঞ্জ শাখার প্রবেশনাল অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের পটুয়াখালী শাখার আইটি অফিসার অসীম কুমার দাস ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রবেশনাল অফিসার সোহেল আকন্দ।

    বাকি সাতজন হলো- জহিরুল ইসলাম, সাদদাদুর রহমান সোহান, নাদিমুল ইসলাম, এনামুল হক শিশির, শেখ তারিকুজ্জামান, অর্ণব চক্রবর্তী ও আরিফুর রহমান শাহীন। তাদের কাছ থেকে ১৩টি বিশেষ ধরনের ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এটি প্রতারকদের কাছে ‘মাস্টারকার্ড ডিভাইস’ নাম পরিচিত।

    যুগ্ম কমিশনার আবুদল বাতেন বলেন, চক্রের মূলহোতা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আবু জাফর মজুমদার রুবেল, পুলকেশ দাস ওরফে বাচ্চু ও কার্জন নামে তিন ব্যক্তি। তারা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন পরীক্ষা চলাকালীন চক্রের একজন করে সদস্য হলের ভেতর থাকে, তারা প্রশ্ন পাওয়ার সাথে সাথে ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে থাকা সহযোগীদের প্রশ্নটি সম্পর্কে ধারণা দেয়।

    পরবর্তীতে তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো সমাধান করে পরীক্ষার্থীদেরকে উত্তর সরবারহ করে থাকে। এরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে তিন কাজ করে থাকে। চক্রের কয়েকজন পরীক্ষায় পাশ করানোর জন্য মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হতে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে। দ্বিতীয়ত, চক্রের আরেক অংশ পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার জন্য ডিভাইস ব্যবহার ও বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করে। আরেকটি অংশ ডিভাইস সরবরাহে সহযোগিতা করে।

    তিনি জানান, প্রতারক চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত থাকলেও প্রতি শুক্রবার ঢাকায় এসে মিলিত হয়। পান্থপথে তাদের একটি ওয়ানস্টপ সেন্টার রয়েছে। যেখানে থেকে কেন্দ্রে থাকা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রশ্নপত্রের সমাধান ও উত্তর পাঠানোর কাজগুলো করা হয়। দীর্ঘদিন তারা বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতি করে এলেও এবার এইচএসসি পরীক্ষার এই ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টা করেছিল। তারা সফল হওয়ার আগেই গোয়েন্দা জালে ধরা পড়েছে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তিন ব্যাংক কর্মকর্তা (গ্রেফতারকৃত) জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছে। তাদের দ্বারা আরো অনেকেই সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছে। ৭/৮ বছর ধরে তারা এ কাজ করছিল। সর্বনিম্ন ৩০/৩৫ হাজার থেকে শুরু করে সর্ব্বোচ ১০/১২ লাখ টাকা চুক্তিতে কাজ করত। পুলিশ বলছে, এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঠেকানো গেছে। এজন্য এই চক্রটি সফল হওয়ার আগে ধরা পড়েছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com