• শিরোনাম

    জয়-পরাজয়ে গাজানীতির প্রভাব

    ডে নাইট ডেস্ক | শুক্রবার, ০৫ জুলাই ২০২৪

    জয়-পরাজয়ে গাজানীতির প্রভাব

    পূর্ববর্তী লেবার নেতা জেরেমি করবিন ছিলেন ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠ। ইহুদি-বিদ্বেষ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে তাকে দল থেকে তাড়িয়েছেন সদ্য বিজয়ী লেবার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনকে ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ হিসেবে দেখা স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হলেও গাজা প্রশ্নে তার দলের প্রার্থী হেরে গেছেন করবিনের কাছে। কেবল করবিন নন, এই নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্যেই লেবার পার্টি এমন বেশ কয়েকটি আসন খুইয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনপন্থি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। অনেক লেবার প্রার্থীই পড়েছেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। খবর বিবিসির। তারা বলছে, মুসলিম অধ্যুষিত আসনগুলোর জয়-পরাজয়ে গাজানীতির প্রভাব স্পষ্ট।

    বিবিসি লিখেছে, ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি জিতলেও দলটির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু এলাকায় তাদের প্রার্থীরা গাজাপন্থি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে হেরে গেছেন। এর মধ্যে দলটির জন্য বড় আঘাত হলো শ্যাডো মিনিস্টার জনাথন অ্যাশওয়ার্থ লেস্টারের সাউথ আসনে হেরে যাওয়া। যেখানে আগে প্রায় ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছিলেন তিনি।

    বিবিবি জানিয়েছে, ১০ শতাংশের বেশি মুসলিম ভোট আছে এমন আসনগুলোতে লেবার পার্টির ভোট কমেছে গড়ে ১১ শতাংশ। ইলফোর্ড নর্থে শ্যাডো স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং আগে জিতেছিলেন ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে। এবার তার জয়ের পার্থক্য মাত্র ৫২৮ ভোট। তবে জর্জ গ্যালাওয়ের কাছ থেকে রোচডেলের আসন পুনরুদ্ধার করেছে লেবার প্রার্থী পল ওয়াহ।

    বিবিসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যেখানেই মুসলিম ভোটার বেশি সেখানেই দলটি খারাপ করেছে। ওই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দেওয়া শেষ খবর অনুযায়ী, মুসলিম অধ্যুষিত পাঁচটি আসনে হেরে গেছে লেবার। এর মধ্যে চারটিতে স্বতন্ত্র আর একটিতে কনজারভেটিভ প্রার্থী জয়ী হয়েছে।

    লেস্টার সাউথ আসনে শোকাত অ্যাডাম ৯৭৯ ভোটে জয়ের পর ঘোষণা করেছেন ‘এটা গাজার জন্য’। এই আসনে ৩০ শতাংশ ভোটার মুসলিম। ১৩ বছর ধরে অ্যাশওয়ার্থ আসনটি ধরে রেখেছিলেন।

    কাছেই লেস্টার ইস্ট আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কয়েক হাজার ভোট পাওয়ায় সুবিধা পেয়েছেন কনজারভেটিভ প্রার্থী। বিশেষ করে সাবেক লেবার এমপি ক্লাউডিয়া ওয়েব্বের এলাকায়। ওয়েব্বে হয়রানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন। তিনি ফিলিস্তিনপন্থি হিসেবে সোচ্চার কণ্ঠ। তার সাবেক আসনে টোরি প্রার্থী জয় পেয়েছে ৪৪২৬ ভোটে।

    বার্মিংহামের পেরি বার এলাকা লেবারের খালিদ মাহমুদ ৫৭০ ভোটে হেরে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আয়ুব খানের কাছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যারা গাজাকেই তাদের প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিলেন তারা ডিউজবুরি, বাটলে, ব্ল্যাকবার্ন এলাকায় জয়ী হয়েছেন, যেখানে আগে লেবার পার্টির ভালো সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল।

    মুসলিম জনগোষ্ঠী বেশ বড় এমন আরও কিছু এলাকায় সিনিয়র লেবার নেতারা খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পেরেছেন। ইলফোর্ড নর্থে স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়ানে মোহামাদ, যিনি একজন ফিলিস্তিনি শরণার্থীর নাতি, স্ট্রিটিংয়ের চেয়ে মাত্র ৫২৮ ভোট পেছনে ছিলেন। বার্মিংহাম লেডিউডে লেবার প্রার্থী ছায়া বিচারমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আইনজীবী আহমেদ ইয়াকুব। টিকটকে ইয়াকুবের অনুসারীর সংখ্যা অনেক। তবে শাবানা মাহমুদের জয়ের পার্থক্য ৩২ হাজার থেকে কমে হয়েছে ৩ হাজার ৪২১ ভোট।

    একইভাবে জেস ফিলিপস পার্লামেন্টে গাজার যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য লেবার পার্টির সামনের সারি ছাড়তে হয়েছিল তাকে। ভোটে নির্বাচিত হলেও এবার তিনি জয় পেয়েছেন মাত্র ৬৯৩ ভোটের ব্যবধানে। ফিলিপিস জয়ের পর যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন অনেকে চিৎকার করেছে। তিনি বলেছেন ‘আমি যত নির্বাচন করেছি তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে খারাপ’।

    পূর্ব লন্ডনের বেথানল গ্রিন অ্যান্ড স্টেফনি আসনে ছায়ামন্ত্রী রুশনারা আলীর আগে ৩১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী আজমল মাশরুরকে তিনি হারিয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৬৯৮ ভোটের ব্যবধানে।

    বিবিসি বলছে, এমনকি নির্বাচনি প্রচারের সময় লেবার নেতা স্যার কিয়ের স্টারমার নিজেও ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ প্ল্যাকার্ডের মুখোমুখি হয়েছেন এবং তার ভোটের ব্যবধান কমেছে। গাজাপন্থি স্বতন্ত্র প্রার্থী এন্ড্রু ফেইনস্টেইন পেয়েছেন ৭ হাজার ৩১২ ভোট।

    ইসলিংটন নর্থ আসনে সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। তিনি লেবার প্রার্থীর চেয়ে ৭ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন। এন্টিসেমিটিজম বিষয়ক এক রিপোর্টে প্রতিক্রিয়ার কারণে দলে তার সদস্যপদ স্থগিত হয়েছিল।

    গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রশ্নে স্টারমারের অবস্থান নেতিবাচক। তিনি একে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন। তার দল প্যালেস্টাইনের সঙ্গে সংহতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। অথচ করবিন ছিলেন ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের একজন সোচ্চার কণ্ঠ। অন্যদিকে গত বছর কিয়ারার বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন ইসরাইলের গাজায় পানি ও জ্বালানি বিচ্ছিন্ন করার ‘অধিকার’ আছে। পরে তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন দেশটির আত্মরক্ষার অধিকার আছে। ফেব্রুয়ারিতে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল লেবার কিন্তু সমালোচকদের মতে, পার্টির এই অবস্থানে পৌঁছার গতি ছিল খুবই ধীর। গাজা দ্বন্দ্বের বিষয়ে অবস্থানের জন্য লেবার পার্টির ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৫ জুলাই ২০২৪

    daynightbd.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মৃতের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়াল

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১