• শিরোনাম

    যুবককে থানায় পিটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এসআই বললেন ‘দেখা-ই হয়নি’

    নোয়াখালী প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

    যুবককে থানায় পিটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এসআই বললেন ‘দেখা-ই হয়নি’

    নোয়াখালীতে পুলিশের হাতে আটক বড় ভাইকে থানায় দেখতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন আবদুল্লাহ আল নোমান (২২) নামের এক যুবক। তার অভিযোগ, বড় ভাইকে কেন আটক করা হয়েছে জানতে চাওয়ায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় সিকদার তাকে থানার একটি কক্ষে আটকে পিটিয়ে আহত করেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সেনবাগ থানায় এ ঘটনা ঘটে। আহত নোমানকে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের উত্তর কাদরা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।

    নোমান বলেন, ‘আমি সেনবাগ বাজারে একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে চাকরি করি। দুপুরে সেনবাগ থানার এসআই সঞ্জয় সিকদারসহ একদল পুলিশ বিনা অপরাধে কাদরা মজুমদার বাড়ির পাশ থেকে আমার বড় ভাই শাহাদাত হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি শুনে দুপুরে থানায় যাই। থানার এক কনস্টেবলের কাছে জানতে চাই কেন আমার ভাইকে আটক করা হয়েছে। তখন পাশের কক্ষে থাকা এসআই সঞ্জয় ওই কনস্টেবলকে দিয়ে আমাকে ডেকে থানার একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে দরজা বন্ধ করে আমাকে আছাড় মেরে মেঝেতে ফেলে দেন সঞ্জয়। এরপর লাথি ও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ সদস্যরা আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বিনা অপরাধে কেন আমার ভাইকে আটক এবং আমাকে অমানবিকভাবে পিটিয়ে আহত করা হলো, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

    তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে নোমানের সঙ্গে দেখাই হয়নি বলে দাবি করেছেন সেনবাগ থানার এসআই সঞ্জয় সিকদার। তিনি বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে মজুমদার বাড়ির পাশ থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ শাহাদাত ও আবদুস সাত্তারকে আটক করেছি। এরপর নিয়ম অনুসারে তাদের থানায় আনা হয়েছে। শাহাদাতের ভাই নোমানের সঙ্গে আমার দেখা কিংবা কথাই হয়নি। আটকের সময় সে ঘটনাস্থলে ছিল কিনা তাও জানা নেই। মারধর ও হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি মিথ্যা। মাদকসহ আটক ভাইকে বাঁচাতে এটি নোমানের কৌশল হতে পারে। আমি কোনও অপরাধ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

    এসআই সঞ্জয় সিকদারের এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানালেন সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই চিকিৎসক বলেন, ‘আহত নোমানকে দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্যরাই। তবে তারা সিভিল পোশাকে ছিলেন। হাতে ছিল ওয়াকিটকি। আমরা তাদের ভালো করেই চিনি এবং জানি। নোমানের বুক ও পিঠে জখমের চিহ্ন আছে। সেই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সেনবাগ থানার ওসি মো. নাজিম উদ্দিন প্রথমে বিষয়টি জানেন না বললেও পরে বলেন, ‘গাঁজাসহ এক যুবককে আটকের পর তার ভাই থানায় এসে ঝামেলা করেছিল। তখন তাকে হাজতে ঢোকানোর কথা বললে দৌড় দেয়। এ সময় সিঁড়িতে পড়ে ব্যথা পেয়েছে। তাকে কেউ মারধর করেনি।’

    থানায় মারধরের ঘটনা এবং ওসি-এসআইয়ের ভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান রাজিবকে নির্দেশ দিয়েছি। অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৮:৫৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

    daynightbd.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০