• শিরোনাম

    কাজ দেওয়ার কথা বলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    গাজীপুর প্রতিনিধি | রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

    কাজ দেওয়ার কথা বলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    সিলেটে আবদুস সালাম নামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে কাজ দেওয়ার কথা বলে এক তরুণীকে আড়াই মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী তরুণীর মা বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।

    মামলার আসামিরা হলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও নগরের লালদীঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা আবদুস সালাম (৪০), একই এলাকার আবদুল মনাফ (৩৮) এবং রেখা বেগম (৩০) নামের এক নারী। মামলায় অজ্ঞাত আরও দুই-তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বলেন, ‘তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগ দাখিলের পরপরই সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী নগরের শেখঘাটের একটি কারখানায় কাজ করতেন এবং শহরের একটি এলাকায় বসবাস করতেন। অভিযুক্ত রেখা বেগম তার প্রতিবেশী। ভুক্তভোগীকে শহরের বাসায় রেখে গ্রামে বেড়াতে যান স্বজনরা। এ সময় তাকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুস সালামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন রেখা। গত ৭ জানুয়ারি রেখার মাধ্যমে তরুণীকে নিজের বাসায় নিয়ে যান সালাম। এরপর টানা ২২ দিন একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন।

    এর মধ্যে তরুণীর মা-বাবা গ্রাম থেকে শহরে ফিরে আসেন। বাসায় মেয়েকে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যেতে চাইলে রেখা বেগম তাদের সালামের কাছে নিয়ে যান। সালাম তাদের জিডি করতে নিষেধ করে নিজেই খুঁজে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর দু-তিন দিন পর তরুণীর মা-বাবা আবারও সালামের কাছে গেলে বিকালের দিকে ফিরিয়ে আনার কথা জানান।

    ওই দিন বিকালে তরুণীকে মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সালাম জানান, এক প্রবাসীর বাসায় কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই উদ্ধার করেছেন। স্বজনরা প্রবাসীর নাম জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে তরুণী মা-বাবাকে ধর্ষণের ঘটনাটি জানালে সালাম তাদের হত্যার হুমকি দেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।

    এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার তিন দিন পর আবার কাজে যাচ্ছিলেন তরুণী। তখন সালাম বিয়ে ও ভালো জায়গায় কাজ দেওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন। কথামতো সালামের সঙ্গে আবার দেখা করেন। তিনি তরুণীকে কিছু টাকা দিয়ে নগরের কাজীরবাজার এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় পাঠান। সেখান থেকে অভিযুক্ত মনাফ তাকে হবিগঞ্জের বাহুবলে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আটকে রেখে সালাম-মনাফসহ একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে তরুণী কৌশলে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় সিলেটে পালিয়ে আসেন। স্বজনরা তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে তরুণীর মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

    এদিকে, মামলার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আবদুস সালাম। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ ব্যাপারে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাশ বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাটি শুনেছি। মামলার আসামি আবদুস সালাম ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

    daynightbd.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০