• শিরোনাম

    ইসরাইলি ‘গণহত্যা’য় ছিল মার্কিন সমর্থন

    ডে নাইট ডেস্ক | রবিবার, ০৯ জুন ২০২৪

    ইসরাইলি ‘গণহত্যা’য় ছিল মার্কিন সমর্থন

    গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলে নুসেইরাত শরণার্থী-শিবির থেকে চার ইসরাইলি বন্দিকে মুক্ত করার অভিযানে হত্যার শিকার ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৭৪ জনে। এদিকে সিএনএন, অ্যাক্সিওস ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই হামলায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও সরঞ্জামের সমর্থন। আলজাজিরা জানিয়েছে ইসরাইলের অভিযানকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা করেছে বেশ কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ ইসরাইলের মিত্ররা অভিযানের প্রশংসা করেছেন। হামলার পর হামাস প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে ইসরাইল নিজেই তাদের কিছু জিম্মিকে হত্যা করেছে।

    নৃশংস হামলা : গাজার মধ্যাঞ্চল থেকে শনিবার চারজন জিম্মিকে উদ্ধারের দাবি করে ইসরাইল। তবে এই কথিত উদ্ধার অভিযানে ২৭৪ জন এরই মধ্যে হত্যার শিকার। গাজা উপত্যকার কর্তৃপক্ষ রোববার জানায়, ‘একটি নজিরবিহীন নৃশংস হামলায়’ একই সঙ্গে কমপক্ষে ৬৯৮ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

    গাজার দেইর আল-বালাহতে অবস্থিত আল-আকসা শহিদ হাসপাতালের ভেতর থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক গতকাল রোববার জানান, সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা এখনও নুসেইরাতে হামলার পরে ধ্বংসস্তূপের নিচে মৃত বা আহত ফিলিস্তিনিদের খুঁজছেন। তিনি বলেন, ‘বোমাবর্ষণ তীব্রভাবে অব্যাহত রয়েছে’।
    অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে কমপক্ষে নিহতের সংখ্যা ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এখন হত্যার শিকার ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৩৭ হাজার ৮৪। ৮৪ হাজার ৪৯৪ জন আহত হয়েছে।

    হামলায় ছিল মার্কিন সমর্থন, হামাসের নিন্দা : একজন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেন, জিম্মি উদ্ধারের ইসরাইলি অভিযানে সে দেশে অবস্থানরত একটি মার্কিন সেল ‘সমর্থন জানিয়েছিল’। নিউইয়র্ক টাইমস পরে রিপোর্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘গোয়েন্দা এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা’ দিয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, যে স্থল অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা ছিল না। তবে গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার দিন থেকেই সেখানে একটি মার্কিন সেল রয়েছে, যারা গোয়েন্দা সহায়তা দিয়ে আসছে।

    মিডল ইস্ট আই বলছে, শনিবার অনলাইনে প্রচারিত ভিডিওগুলোতে গাজার সমুদ্রসৈকতে মার্কিন হেলিকপ্টার দেখা গেছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন যে এই হেলিকপ্টার অভিযানে ব্যবহার করা হয়নি।

    যুক্তরাষ্ট্র এই ইসরাইলি অভিযানে সহায়তা করেছে অভিযোগ করে হামাস বলেছে, এটি আবারও প্রমাণ করে, ওয়াশিংটন অবরুদ্ধ উপকূলীয় ভূখণ্ডে ‘সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের মতো অবৈধ কাজের সহযোগী ও সম্পূর্ণভাবে জড়িত’।

    হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ : ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান জোসেপ বোরেল এই অভিযানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এক্সে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘রক্তপাত অবিলম্বে শেষ হওয়া উচিত। গাজা থেকে বেসামরিকদের আরেকটি গণহত্যার খবর ভয়ানক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

    ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) ‘ইসরাইলি দখলদার সেনাবাহিনীর পরিচালিত ভয়াবহ গণহত্যার নিন্দা করেছে, যার ফলে শত শত ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।’

    এক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলাকে ‘বর্বর’ এবং গাজায় ইসরাইলের সংঘটিত ‘অপরাধের’ দীর্ঘ তালিকার আরেকটি উদাহরণ বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শত শত ফিলিস্তিনিকে সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের জন্য বিশ্ব সরকার এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘নিষ্ক্রিয়তার’ জন্য দায়ী করেছে।

    মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নুসেইরাতের হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সব বিধানের পাশাপাশি মানবতা ও মানবাধিকারের সব মূল্যবোধের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।

    ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের (এমএসএফ) দলগুলো আল-আকসা হাসপাতালে কাজ করে। সেখানে শনিবার অধিকাংশ হতাহতদের নেওয়া হয়েছিল। গোষ্ঠীটি সেখানে ওষুধ, জ্বালানি ও খাবার ফুরিয়ে যাওয়ার ‘দুঃস্বপ্নের’ বর্ণনা করেছে। গাজায় এমএসএফ সমন্বয়কারী স্যামুয়েল জোহান বলেন, ‘বিশ্বনেতারা এই গণহত্যা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আর কত পুরুষ, নারী ও শিশুকে হত্যা করতে হবে?’
    মিত্রদের প্রশংসা : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফিলিস্তিনিদের গণহত্যার বিষয়ে মন্তব্য না করেই জিম্মিদের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সব জিম্মি ঘরে না আসা পর্যন্ত এবং যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজ বন্ধ করব না। এটা অপরিহার্য।’

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও ইসরাইলের উদ্ধার অভিযানের প্রশংসা করেন এবং গাজা যুদ্ধের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান। তিনিও বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেননি। আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা ছাপিয়ে জিম্মিদের মুক্তি একটি ‘বিশাল স্বস্তি’।

    প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা হামাসের : ইসরাইল তাদের ইচ্ছা হামাসের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না এবং ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না এমন কোনো চুক্তিও মানা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন হামাসের পলিট ব্যুরোর প্রধান ঈসমাইল হানিয়া। নুসেইরাতের নৃশংস গণহত্যার পর দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঈসমাইল হানিয়া। এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সাধারণ মানুষ আত্মসমর্পণ করবে না এবং এই অপরাধী শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।’

    অভিযানকালে জিম্মি হত্যার দাবি : গাজার মধ্যাঞ্চলীয় আল-নুসেইরাত শরণার্থী শিবির ও নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে ইসরাইলের জিম্মি মুক্তি অভিযানে কিছু জিম্মি নিহত হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড দাবি করেছে। ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইসরাইল ভয়াবহ গণহত্যা ঘটিয়ে তাদের কিছু জিম্মিকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে অভিযান চলাকালে তারা অন্য কয়েকজনকেও হত্যা করেছে।’

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৮:০৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৯ জুন ২০২৪

    daynightbd.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মৃতের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়াল

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

    আর্কাইভ

    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০