• শিরোনাম

    রাবেয়া-রুকাইয়ার অস্ত্রোপচার তিন মাস পর

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ মার্চ ২০১৮

    রাবেয়া-রুকাইয়ার অস্ত্রোপচার তিন মাস পর

    পাবনার চাটমোহরে জোড়া মাথা নিয়ে জন্ম নেয়া শিশু রাবেয়া-রুকাইয়ার চূড়ান্ত অস্ত্রোপচার করা হবে আগামী তিন মাস পর। তাদের অস্ত্রোপচার করতে আসা বিদেশি দুই নিউরো-সার্জন বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রোস সুকে ও স্টিফেন হিউডেক ফিরে যাচ্ছেন আজ শুক্রবার। আগামী তিন মাস রাবেয়া-রুকাইয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৮ মাস বয়সী শিশু রাবেয়া-রুকাইয়ার জোড়া মাথা আলাদা করতে ১৫ সদস্যের মেডিকেল টিমের সমন্বয়ে হাঙ্গেরি থেকে আসা বিদেশি দুই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রথম অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

    ওইদিন শিশুদের মস্তিষ্কের নিউরনের রক্তপ্রবাহের অবস্থান সনাক্ত করতে এনজিওগ্রাম করা হয়। তাতে চিকিৎসকরা অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হন। তারা দেখতে পান শিশুদের মাথা দুটো হলেও মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহের নালী একটি। এই রক্তনালী আলাদা করতে পারলে তবেই শিশুদের মাথা আলাদা করা যাবে। এটাই মূলত মাথা আলাদা করার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

    তাই পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি শিশুদের দ্বিতীয় ধাপে অস্ত্রোপচার করা হয়। তাতে চিকিৎসকরা শিশুদের মাথা আলাদা করতে নিউরনের রক্তনালীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন তাদের রক্তনালী আলাদাভাবে সক্রিয় হয় কি-না। চিকিৎকরা ওই পরীক্ষায় সফল হন। এখন শিশুদের মাথা কেটে বেলুন প্রতিস্থাপন করেই মাথা আলাদা করতে চূড়ান্ত অস্ত্রোপচার করা হবে। আর এ অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী তিন মাস।

    ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ও ১৫ সদস্যের মেডিকেল টিমের প্রধান সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল শিশুদের মাথা আলাদা করতে হবে। সেজন্য আমরা প্রাথমিক অস্ত্রোপচার করে সমস্যা নির্ণয় করেছি। পরীক্ষায় দেখা গেছে, শিশুদের মস্তিষ্ক দুটি হলেও রক্তনালী একটি।

    শিশুদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ায় তিনি দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। রাবেয়া-রুকাইয়ার মা তাসলিমা আক্তার বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন আগামী তিন মাস পর মাথা আলাদা করা হবে। এই তিন মাস পর্যন্ত মেডিকেলের তত্ত্বাবধানে থাকবে। তবে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে পাবনা শহরের একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম হয় শিশু রাবেয়া-রুকাইয়ার। জন্ম থেকেই তাদের মাথা জোড়া লাগানো। এ জোড়া মাথা আলাদা করতে চিকিৎসার জন্য উপজেলার আটলংকা গ্রামের শিক্ষক দম্পতি রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা আক্তার হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু দেড় বছর ধরে কোনো উপায় খুঁজে পাননি। পরে স্থানীয় সাংসদ মকবুল হোসেনের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি এ চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেন। ঢামেকে গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড। আনা হয় বিশ্বখ্যাত দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com