• শিরোনাম

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পথ পরিক্রমা

    ডেনাইট ডেস্ক | ১২ মে ২০১৮

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পথ পরিক্রমা

    স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। তবে এ প্রক্রিয়া খুব সহজ ছিল না। কয়েক বছরের পরিকল্পনা ও চেষ্টার মধ্য দিয়ে মহাকাশে গেল দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’র মাধ্যমে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ হয়। এর আধা ঘণ্টা পর বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইটটি কাঙ্ক্ষিত জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছায়।

    যেভাবে স্বপ্ন পূরণের পথে
    এই উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনার  জন্য ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক।

    কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু’ উৎক্ষেপণ প্রকল্পের জন্য ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় রাশিয়ার কাছ থেকে ‘অরবিটাল স্লট’ ইজারা নেওয়ার প্রস্তাবের অনুমোদন দেয় সরকার।

    ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণে ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

    একই বছরের ১১ নভেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণের জন্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কিনতে ফরাসি প্রতিষ্ঠান তালিস এলিনিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি।

    ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণে অর্থায়নের জন্য ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) সঙ্গে বিটিআরসি প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি করে।

    বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ নির্মাণের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ।

    ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময় সরকার ঘোষণা দেয়, ডিসেম্বরের মধ্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সম্ভব হবে।

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায়। গাজীপুরের নলজানি বিটিসিএল কার্যালয়ের পাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রাউন্ড স্টেশনে ১০ টন ওজনের দুটি এন্টেনা বসানো হয়েছে। বিদ্যুতের জন্য জেনারেটর স্থাপন ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ছয়টি বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’র ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে গত ১৬ ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু হারিকেন আরমায় ফ্লোরিডায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ওই লঞ্চ প্যাড থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বন্ধ থাকে। ফলে বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যায় এবং বাংলাদেশ সূচির জটে পড়ে।

    ফ্রান্সের তালিস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ সাইটে পাঠানো হয় এ বছরের শুরুতে। সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বছর মার্চ বা এপ্রিলে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য সময় জানানো হয়।

    গত ১২ এপ্রিল টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি প্রধান শাহজাহান মাহমুদ ৪ মে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কথা জানালেও পরে এ সময়ও পরিবর্তন হয়ে চলে যায় ১০ মে।

    অবশেষে ১১ মে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ হয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    হেডফোনে বিস্ফোরণ!

    ১৫ মার্চ ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com