• শিরোনাম

    চাঁদা আদায়ে ‘ভিজিটিং কার্ড কৌশল’

    ডেনাইট ডেস্ক | ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    চাঁদা আদায়ে ‘ভিজিটিং কার্ড কৌশল’

    দেশের বিভিন্ন জেলার অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যক্তির ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করা হয় প্রথমে। এরপর সেগুলো থেকে বাছাই করা ব্যক্তিকে ফোন দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাওয়া হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। এই চাঁদার টাকা নেওয়া হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। অধিকাংশ জেলায় এই চাঁদাবাজ গোষ্ঠীর রয়েছে নিয়োগ দেওয়া প্রতিনিধি। তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী বা গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে এভাবে চাঁদাবাজি করে।

    র‌্যাব-৪-এর অভিযানে এই প্রতারক চক্রের ৯ সদস্য ধরা পড়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার থেকে রবিবার সকাল (৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলো মিন্টু খান (৩৫), রাকিব খান ওরফে টিটুল (৩৪), জামাল শেখ (৪৩), রবিউল ইসলাম (৩৪), সোহেল হাওলাদার (২৬), শামিম খান (১৯), বিল্লাল খান (৩৫), আব্দুল মোমিন (২৮) ও রাব্বি হোসেন (২৪)।

    রবিবার দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজ চক্রের আটক সদস্যরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহের পর পছন্দের ব্যক্তিকে টার্গেট করে তার সম্পর্কে যাবতীয় খোঁজ-খবর নিতো। স্ত্রী-সন্তানকে অপহরণের হুমকি কিংবা দুর্বল কোনও তথ্যকে কাজে লাগিয়ে মোবাইল ফোনে দাবি করতো মোটা অঙ্কের চাঁদা।’

    তিনি বলেন, ২০০৬ সাল থেকে তারা এভাবে চাঁদা আদায় করে আসছে। নামিদামি প্রতিষ্ঠানের লটারি জয়ী হওয়া, কখনও জিনের বাদশার পরিচয়ে অর্থ আদায় করতো তারা। প্রতারকদের কেউই অন্য কোনও পেশায় জড়িত নয়। তাদের অনেকের রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি, মাইক্রোবাস, লেগুনা। র‌্যাব-৪ অধিনায়ক বলেন, চক্রের সদস্যরা চাঁদা দাবির সময় খুবই কম দামি মোবাইল ব্যবহার করতো। চাঁদা আদায় শেষে ওই মোবাইল ও সিম ধ্বংস করে দিতো। এ কারণে তাদের শনাক্ত করা কষ্টকর ছিল বলে জানান তিনি। বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে ভিক্ষুক ও রিকশাচালকসহ বিভিন্ন সাধারণ মানুষের নামে সিম কিনে অপকর্ম চালিয়ে আসছিল চক্রটি।

    চক্রের সদস্যরা চার ধাপে প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে চক্রের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিংবা ব্যবসায়ীদের ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করতো। কখনও ভিজিটিং কার্ড তৈরির দোকান থেকে, বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভিজিটিং কার্ড নিতো। এরপরের ধাপে ভিজিটিং কার্ড থেকে যাকে টার্গেট করা হতো তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো।

    তৃতীয় ধাপে চক্রের সদস্যরা মূলত মোবাইল অপারেটিং গ্রুপ। তারা টার্গেট করা ব্যক্তিকে ফোন করে চাঁদা দাবি করতো। এক্ষেত্রে তারা একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম কিংবা পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি বা বাংলাদেশ সর্বহারা পার্টির না ভাঙিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। কখনও স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মাকে অপহরণের ভয় দেখাতো। চতুর্থ ধাপের কর্মীরা বিকাশের মাধ্যমে চাঁদার টাকা নিতো।
    আটক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com