• শিরোনাম

    বান্দরবানে জিকে শামীমের রিসোর্ট; তদন্তে কমিটি

    বান্দরবান প্রতিনিধি | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    বান্দরবানে জিকে শামীমের রিসোর্ট; তদন্তে কমিটি

    বহুল আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীমের রিসোর্টের জন্য বান্দরবানে মার্মা পাড়া উচ্ছেদের অভিযোগ ওঠায় তা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ক্যাসিনো বন্ধে র‌্যাবের অভিযানের মধ্যে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হন গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম। এরপর যুবলীগ নেতা পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বিভিন্ন কাজ পাওয়ার অভিযোগ আসতে থাকে তার বিরুদ্ধে।

    র‌্যাব সদর দপ্তর, সচিবালয় ও কয়েকটি হাসপাতালের নতুন ভবনসহ সরকারি অন্তত ২২টি নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ এখন শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্সের হাতে রয়েছে। এসব প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এই তথ্যগুলো বেরিয়ে আসার মধ্যেই বান্দরবানের সিলভান ওয়াই রিসোর্ট এন্ড স্পা নামে তিন তারকা মানের একটি রিসোর্টে জিকে শামীমের বিনিয়োগ এবং ওই রিসোর্টের জন্য পাহাড়িদের জমি দখলের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

    এনিয়ে আলোচনার মধ্যে বুধবার জানতে চাইলে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম বলেন,অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং তদন্তের পরই প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। প্রায় দুইশ কোটি টাকা বিনিয়োগে বান্দরবান শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক সড়কের পাশে পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল সংলগ্ন ছাইংঙ্গ্যা পাড়ায় প্রায় ৫০ একর এলাকাজুড়ে ‘সিলভান ওয়াই রিসোর্ট এন্ড স্পা’ নামে এই রিসোর্টটি তৈরি করা হচ্ছে।

    খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, রিসোর্টটির মালিকানায় যে আটজন রয়েছেন, তার মধ্যে জিকে শামীম একজন। প্রথম পর্যায়ে ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগে কাজ শুরু করেছেন তারা। জমি ক্রয় সংক্রান্ত একটি সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, জি কে শামীম ছাড়াও রিসোর্টের মালিকানায় রয়েছেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশের এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর ছোট ভাই জসিম উদ্দিন মন্টু, ফজলুল করিম চৌধুরী, জামিল উদ্দিন শুভ, এসএইচএম মহসিন, উম্মে হাবিবা নাসিমা আক্তার, জিয়া উদ্দিন আবির ও জাওয়াদ উদ্দিন আবরাব।

    এর মধ্যে মন্টু চেয়ারম্যান, ফজলুল করিম ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জিকে শামীম ও শুভ উপব্যবস্থাপনা পরিচালক। জসিম উদ্দিন মন্টু রিসোর্টে মালিকানায় জিকে শামীমের থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নেন। ৫০ একর জমি কেনার কথাও বলেন তিনি।পার্বত্য জেলায় স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও জমি কীভাবে কেনা হয়েছে- প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি বান্দরবানেরই বাসিন্দা। কোন এলাকার বাসিন্দা- জিজ্ঞেস করা হলে তা এড়িয়ে যান মিন্টু।

    ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া অন্য কেউ জমি কিনতে পারে না। বান্দরবান বোমাং সার্কেল কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কোনো ব্যক্তি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা কি না, তা যথাযথ তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে জেলা প্রশাসক এবং সার্কেল চিফ সনদ প্রদান করে থাকেন।

    বান্দরবান বোমাং সার্কেল চিফ ও হেডম্যান কার্যালয়ে প্রধান সহকারী অংজাই খিয়াং বলেন, জমি কেনার কিছু কাগজ দেখেছেন। কিন্তু কত একর, তা তিনি জানেন না। জমি কেনার ওই সভার কার্যবিবরণিতে দেখা যায়, সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি করার জন্য বান্দরবান জেলা পুলিশকে ০.১৮৩৭ একর ( প্রায় ১৮ শতক) জমি বিক্রয় করার জন্য মন্টুকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়। পরে জেলা পুলিশের নামে সে জমি দান করেন মন্টু। ওই জমিতে রিসোর্টের পক্ষ থেকে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য একটি দ্বিতল ভবনও করা হয়েছে।

    যোগাযোগ করা হলে বান্দরবানের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, পুলিশকে জমি দান করার প্রক্রিয়াটি তার এই জেলায় যোগ দেওয়ার আগেই শুরু হয়েছে। পুলিশের ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের’ মাধ্যমে দান করা জমি গ্রহণ করা হয়েছে। বান্দরবান পুলিশ সুপারের পক্ষে তিনি স্বাক্ষর করেছেন মাত্র। সরেজমিনে দেখা যায়, নিরাপত্তার জন্য রিসোর্টের পাশে পুলিশ ফাঁড়িটি করা হয়েছে। আরও স্থাপনা নির্মাণের তোড়জোড় চলছে। স্থাপনা করতে গিয়ে সেখানে এর মধ্যে ছয় পরিবারের একটি মারমা পাড়া উচ্ছেদ হয়েছে। উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছে এর পাশে প্রায় দুইশ পরিবারের লাইমি বম পাড়া ও ত্রিপুরাদের ছাইংঙ্গ্যা পাড়া।

    রিসোর্টের মালিকদের বিরুদ্ধে পাড়ার সীমানায় কাঁটাতার দিয়ে তাদের জমি দখলের পাশাপাশি হয়রানি ও চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের জেলা কমিটির সভাপতি জুয়ামলিয়াম আমলাই বলেন,জিকে শামীমের বিনিয়োগের টাকা পাহাড়ে পর্যন্ত গড়িয়েছে। রিসোর্ট করতে গিয়ে পাহাড়িরা ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। তাদের দৌরাত্ম্য ও ক্ষমতার কাছে প্রশাসনও একভাবে অসহায় মনে হচ্ছে। জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচমং মারমা বলেন, “স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও জমি কেনা-বেচার প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে নিয়ম ভঙ্গ করে ভূমিদস্যুরা আরও জমি দখল করার সুযোগ পাবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বে-রসিক ইউএনও!

    ১২ মার্চ ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com