• শিরোনাম

    ‘আইওয়াশ’ কি না অপেক্ষা করলেই বোঝা যাবে: প্রধানমন্ত্রী

    ডেনাইট ডেস্ক | ৩০ অক্টোবর ২০১৯

    ‘আইওয়াশ’ কি না অপেক্ষা করলেই বোঝা যাবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপেক্ষা করলেই বোঝা যাবে এই অভিযান ‘লোকদেখানো’ কি না। পর্যায়ক্রমে সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, দুর্নীতিতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা দণ্ডিত হয়েছেন, এখন তাদের ‘খুচরা নেতাদেরও’ সাজা পেতে হবে। ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনের অভিজ্ঞতা জানাতে মঙ্গলবার গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

    আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগ নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে ঢাকার বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। সেই অভিযানে ক্লাবগুলোতে অবৈধভাবে ক্যাসিনা পরিচালনায় যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে। জুয়া ছাড়াও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ছাড়াও বিভিন্ন ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, ব্যাংক হিসাব জব্দ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে।

    প্রশ্নোত্তরে এক সাংবাদিক বলেন, বিএনপি এ অভিযানকে ‘আইওয়াশ’ বলছে এবং সরকার পদত্যাগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা দাবি করছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটাকে আইওয়াশ তারা বলে যাচ্ছে। ঠিক আছে দেখেন, অপেক্ষা করেন। আইওয়াশ না কি তা দেখা যাবে। এখানে আইওয়াশ করতে যাব কেন? আমি তো কোনও আপন-পর কিছু দেখিনি। যারা অপরাধী চক্রের সাথে সম্পৃক্ত সে যে-ই আমরা তাকে ধরছি। ওই সব আইওয়াশের ব্যবসা বিএনপি ভালো জানে।

    শেখ হাসিনা বলেন, “কিন্তু এই দেশটাকে দুর্নীতিতে নিয়ে আসা এটাতো বিএনপিরই করা। জিয়াউর রহমানের সময় শুরু, এরশাদ এক ধাপ উপরে এবং এরপর খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় আসল তখন দোকান খুলে বসল। এদিকে হাওয়া ভবন, ওদিকে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে উন্নয়ন উইং। উন্নয়ন মানে হল ঘুষ খাওয়ার উইং। অন্তত আমরা সরকারে আসার পরে তো এই সব হয়নি।

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের মতো বিএনপির ‘কিছু খুচরো‘ নেতাকেও শাস্তি পেতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যারা আসল দুর্নীতিবাজ তার দুইটাতো শাস্তি পেয়েই গেছে। খালেদা জিয়া আর তার ছেলে- এই দুইটাতো আগেই শাস্তি পেয়ে গেছে। এবং তাদের আরও কিছু খুচরা নেতা আছে। তাদেরও দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ খুন বহু অপরাধে তারা অপরাধী। পর্যায়ক্রমে সবগুলোই শাস্তি পাবে। সাজা তাদেরও পেতে হবে। তাদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু পাবে তারা। এতে কোনও সন্দেহ নাই।

    এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন ১০০ জনের তালিকা আপনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে দিয়েছেন ব্যবস্থা নিতে। এ রকম আর কতজনের তালিকা আপনার হাতে আছে? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কতজনের তালিকা আছে, সেটা কেন আমি বলব এখন। তবে এটুকু বলতে পারি, কোনও এক পত্রিকার সম্পাদক কোনও এক ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ফোন করে বলেছে যে, কিছু একটা টাকা চায়। সেটা যদি না দেওয়া হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে এমন লেখা লিখবে যে তার জীবনটাই ধ্বংস করে দেবে।

    সে নামটা নিশ্চয়ই শুনতে চাইবেন না এখন। সেটা বের হোক তারপরে জানবেন। ব্যাংকের এমডিকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে, চেয়ারম্যানকে বলতে যে, কত দিতে হবে। না দিলে তার বিরুদ্ধে লেগে যাবে। নামটাম সবই আছে। রেকর্ডও আছে।একাদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জোট শরিক দলের নেতা রাশেদ খান মেননের বক্তব্য ধরে বিএনপি নেতারা সরকারকে ‘জুজুর ভয়’ দেখাচ্ছেন মন্তব্য করে এক সাংবাদিক জানতে চান, এতে প্রধানমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন কি না।

    জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “ভয় শব্দটা আমার নেই। ছোটবেলা থেকেই নেই। আর ভয় পাওয়া লোক আমি না। আর ভয় পেলে এই অভিযানে আমি নামতাম না। আর আমি যখন এখানে নেমেছি তখন কে কী করে, কোন দলের, কোন জায়গার সেটা আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় না। বরং আমি তো আগেই বলেছি, শুরু করলে ঘর থেকেই করতে হয়। নয়ত বলবেন যে, রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য আমরা করছি। তাতো না।

    আর যে দলের কথা বললেন, কথা বলছে। তারা আর কী বলবে? তারাতো দুর্নীতির খনি, বিএনপির নাম উল্লেখ ননা করে বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ওই ক্ষমতাকে কুক্ষিগত ও নিষ্কন্টক করার জন্য বাংলাদেশে দুর্নীতির ‘দুয়ার খুলে দেওয়া হয়েছিল’।

    “এটা শুরু করেছিল জিয়াউর রহমান। আর তার হাতে গড়া দল। আপনারা দেখেন, সেখানে যারা আছে, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলাতো আছেই। হত্যা, খুন, দুর্নীতি এমন ধরনের কোনও কাজ নেই যা নাই। সেই দলের নেতা ‍যিনি চেয়ারপারসন, তিনি দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, কারাগারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দুর্নীতি, অর্থপাচার ও একুশ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে রয়েছেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, “তো তাদের মুখে আবার এত কথা আসে কোত্থেকে, আমার সেটাই প্রশ্ন। তাদের মুখে এত কথা আসে কোত্থেকে? কোন সাহসে এ কথা বলে, যারা এতিমের সামান্য টাকার লোভ সামলাতে পারে না? তাদের মুখে এত কথা শোনার তো আমার দরকার নাই। যাদের আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা, যারা খুনি…, এদের মতো একটা খুনি, দুর্নীতিবাজ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর ভয় ওই শব্দটা আমার ডিকশনারিতে নাই। এটা আমি বলতে পারি।

    সমালোচনার জবাব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে নাকি দেশ বেঁচে দেবে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে নাকি দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। এখন দেখা গেল উল্টো। দেশের উন্নয়ন করলে আওয়ামী লীগই করে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর যে সম্মান পেয়েছিল, যে সম্মান হারিয়ে গিয়েছিল ’৭৫ এর ১৫ অগাস্টের পর; বাংলাদেশ আবার সেই সম্মানটা ফিরে পেয়েছে।

    নুসরাতের বিচার

    যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি মারা যাওয়ার আগে জবানবন্দি দেওয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নুসরাত হত্যার বিচারে সব থেকে সুবিধা যেটা হয়েছে নুসরাত নিজে জবানবন্দি দিতে পেরেছিল। তার জবানবন্দি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মামলাগুলোতে যেটা হয় সাক্ষীর অভাব, পাওয়া যায় না, উপস্থিত হয় না। এগুলো কিছু কিছু ঝামেলা হয়। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এই রায়কে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ বলেন শেখ হাসিনা। নুসরাত অত্যন্ত সাহসী মেয়ে। মেয়েটা জীবন দিয়ে গেছে। কিন্তু সে একটা সাহসী ভূমিকা রেখে গেছে। শেষ পর্যন্ত সে কিছুতেই নত হয়নি,” বলেন তিনি।

    বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা

    বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, “জাতির পিতার কয়েকজন খুনি বিদেশে আছে। আমেরিকায় একজন আছে। আমেরিকার সাথে কথা বলছি। নূর আছে কাডানায়। তার ব্যাপারেও আমরা আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আর কে কোথায় আছে সেটার তথ্য আমরা নেওয়ার চেষ্টা করছি, তাদেরকে কীভাবে দেশে আনা যায়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুইজনকে আমরা আনতে পেরেছিলাম। হুদা, তাকে আমরা নিয়ে এসেছিলাম থাইল্যান্ড থেকে। মহিউদ্দিনকে এনেছিলাম আমেরিকা থেকে। বাকিরা তো লুকিয়েই আছে। কিছু কিছু ট্রেস আমরা করতে পারছি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেখা যাক। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি। বাকিদের একজন মারা গেলেও রাশেদ চৌধুরীসহ অন‌্যরা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন।

    পঁচাত্তরে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত‌্যার পর পালিয়ে যাওয়া নূর চৌধুরী কানাডার টরন্টোতে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে বিচারে ফাঁসির রায় হয়। বাংলাদেশের আদালতের রায়ে মৃত‌্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা রাশেদ চৌধুরী ১৯৯৬ সালে পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে সেখানে রয়েছেন।

    বিভিন্ন দেশের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন,একটা সমস্যা হয়ে গিয়েছে। যেহেতু তাদের মৃত্যুদণ্ড। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরুদ্ধে। ওই ছুতো ধরে এরা অনেকেই… নূরতো ওইটা ধরে ধরেই থেকে যাচ্ছে। এটা তাদের কোর্টের উপর নির্ভর করে। আমি তাদের প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সাথে কথা বলেছিলাম। তারা সবাই চায়, কিন্তু তারা তাদের কোর্টের রায়টার উপর নির্ভর করে,এখানেই সমস্যাটা। আমি আশাবাদী হয়ত আর কয়েকজনকে আমরা নিয়ে আসতে পারব।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com