• শিরোনাম

    খোকা ফিরবেন ‘শেকড়ে’, অপেক্ষায় স্বজনেরা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ নভেম্বর ২০১৯

    খোকা ফিরবেন ‘শেকড়ে’, অপেক্ষায় স্বজনেরা

    অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা, ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানও। তবে, এসব কিছু ছাপিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়টিই যেন বড় হয়ে উঠেছে তার মৃত্যুর পর। সোমবার (৪ নভেম্বর) নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করলে, ওই খবর বাংলাদেশে আসার পর শোকে আচ্ছন্ন হয়েছেন মত-পথ-আদর্শ নির্বিশেষে রাজনীতিকরা।

    এই শোক তার পরিবারে যেন দুঃখের পাহাড় ছুঁয়েছে। ঢাকায় গোপীবাগের ৩/১ দ্বিতীয় লেনের ‘শেকড়’ নামাঙ্কিত বাড়িটিতেই বড় হয়েছেন খোকা। পরিবারের সদস্যরা তাদের খোকার লাশ দেখতে অপেক্ষা করছেন। সোমবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদক যখন খোকার ঢাকার বাড়িতে, তখন সেখানে অসংখ্য মানুষের ভিড়। খোকার লাশ শেষবারের মতো দেখতে চাওয়ার আকুতি তাদের সবার চোখে-মুখে।

    সাদেক হোসেন খোকার ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল জানান, বড় ভাই সাদেক হোসেন খোকার লাশ শেষবারের মতো দেখতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে তার। আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘লাশ কবে দেশে আসবে সেটা এখনও ঠিক হয়নি। কারণ, আমাদের পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট নেই। এখন দেশে আনতে হলে সরকারের অনুমতি লাগবে। আমাদের অনুরোধ, একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার লাশ দেশে আনতে যেন সহযোগিতা করে সরকার।’

    যদিও সোমবার খোকার মৃত্যুর পর খবর পাওয়ার পর সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আন্তরিকতার সঙ্গেই জানিয়েছেন, ‘সাদেক হোসেন খোকার লাশ দেশে আনতে সরকার ‘সর্বাত্মক’ সহযোগিতা করবে। খোকার ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, মুক্তিযোদ্ধা খোকার শেষ ইচ্ছা দেশের মাটিতে যেন তার কবর হয়। যে দেশের মাটির জন্য যুদ্ধ করেছেন, সেখানে যেন কবর দেওয়া হয়। খোকার ছোট ভাই বলেন, ‘খোকার লাশ এলে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে জুরাইনে। বাবা-মায়ের কবরের পাশে।

    প্রসঙ্গত, সাদেক হোসেন খোকারা দুই ভাই ও ছয় বোন। এরমধ্যে ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন ও এক বোন দেশে থাকেন। বাকি বোনেরা নিউইয়র্কে থাকেন। আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভাই (খোকা) রাজনীতি করলেও পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়ে কোনও আলাপ-আলোচনা করতেন না। তিনি সব সময় পরিবারকে রাজনীতির বাইরে রাখার চেষ্টা করতেন।

    গোপীবাগের তিন তলাবিশিষ্ট ‘শেকড়েই’ সাদেক হোসেন খোকার শৈশব-কৈশোর কেটেছে। ৯১ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সেবার বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে খোকা যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হন। তখন এই বাড়ি ছেড়ে হেয়ার রোডের মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ করা বাড়িতে ওঠেন। মন্ত্রিত্ব শেষে গুলশানের ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন। তখন থেকে গোপীবাগের বাড়িতে মাঝেমধ্যে আসতেন। তিনতলা এই বাড়ির দোতলায় রাজনৈতিক বৈঠকখানা রয়েছে। সেই বৈঠকখানায় নেতাকর্মীরা নেতার লাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রিয় নেতার স্মৃতিগুলো একে অন্যের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

    সোমবার রাত আটটার দিকে খোকার বাড়িতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, শায়রুল কবির খানসহ কয়েকজন। শোকবইয়ে খোকার রাজনৈতিক সহকর্মী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন লেখেন, ‘সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে দেশ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনার একটি স্তম্ভকে হারালো। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা পূরণ করা অসম্ভব।’

    খোকার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দুঃখ প্রকাশ করলেও বাড়িতে যেতে পারেননি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৪ নভেম্বর) দলেরই আরেক প্রভাবশালী নেতা তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর শোকসমাবেশে অংশ নিতে যশোরে রয়েছেন তিনি। সঙ্গে আছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অনেকে। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঢাকায় ফিরে আসার পর মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতারা বৈঠক করবেন।

    সরেজমিন দেখা গেছে, বাড়ির নিচতলায় সাদেক হোসেন খোকার জন্য শোকবই খোলা হয়েছে। ২০০১ সালে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় এলে খোকা মৎস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী হন তিনি। ওই সময় তার এপিএস ছিলেন নজরুল ইসলাম কিরণ। তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীদের তাদের প্রিয় নেতা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে থাকা স্মৃতিগুলো তুলে রাখতে শোকবই খোলার অনুরোধ করেছেন।’ নজরুল ইসলাম কিরণ বলেন, ‘নেতাকর্মীরা চান তাদের প্রিয় নেতার বিভিন্ন সময়ে সুখের স্মৃতিটুকু লিখতেন। এ জন্য শোকবই খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    সাদেক হোসেন খোকার ব্যক্তিগত সহকারী নুর আলম। ৯৫ সাল থেকে তিনি খোকার সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। বাড়িতে দাঁড়িয়েই  তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন এই সময়ে তিনি কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন বলে দেখিনি। আসলে আমরা অভিভাবক হারিয়েছি। এখন শুধু তার লাশ একবার দেখার অপেক্ষায় আছি।’ তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ গত ১ নভেম্বর কথা হয়েছে। অসুস্থ থাকার কারণে খুব একটা কথা হয়নি। তার বড় গুণ ছিল তিনি কাউকে খালি হাতে ফেরাতেন না।

    নুর আলম বলেন, ‘একবার খোকা ভাইয়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম। স্থানীয় এক নেতার বাড়িতে আমরা রাতে ছিলাম। মাঝরাতে তিনি আমার মাথার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এখানে এত রাতে কেন? মাথার নিচে বালিশ আছে কিনা জানতে চাইলেন।’ নিজের রুম থেকে তিনি বালিশ এনে ব্যবহার করার অনুরোধ জানান বলেও নুর আলম উল্লেখ করেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com