• শিরোনাম

    ছাত্রলীগের ‘গণঅভ্যুত্থানে’ মুক্ত হলেন ভিসি, বন্ধ হল জাবি

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি | ০৬ নভেম্বর ২০১৯

    ছাত্রলীগের ‘গণঅভ্যুত্থানে’ মুক্ত হলেন ভিসি, বন্ধ হল জাবি

    আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ পিটিয়ে সরিয়ে দেওয়ার পর অবরুদ্ধ দশা থেকে বেরিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সিন্ডিকেট সভা বসিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন। উপাচার্য ফারজানার পদত্যাগ দাবিতে এক সপ্তাহ ক্যাম্পাস অচল করে রাখার পর ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনে নামা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাড়ি ঘেরাও করে।

    মঙ্গলবার সকালে উপাচার্য সমর্থক শিক্ষকরা গিয়ে অধ্যাপক ফারজানার বাড়িতে ঢুকতে চাইলে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়ে। তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাক্কাধাক্কিও হয়। এরপর দুপুরে ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী গিয়ে চড়াও হয় আন্দোলনকারীদের উপর। তাদের হামলায় আট শিক্ষকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। হামলার সময় তাদের সমর্থন দিতে দেখা যায় উপাচার্য সমর্থক শিক্ষকদের। মারধরের ঘটনার আধা ঘণ্টা পরে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা বাসা থেকে বেরিয়ে তার সমর্থক শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে নিজের কার্যালয়ে যান।

    সেখানে তিনি সাংবাদিকদের সামনে সহকর্মী ও ছাত্রলীগকর্মীদের ‘গণঅভ্যুত্থানের’ জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমার সহকর্মী ও ছাত্রলীগকর্মীদের এ গণঅভ্যূত্থানের জন্য ধন্যবাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাভাবিক গতিতে চলবে। এর আধা ঘণ্টার মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বসেন উপাচার্য। ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিকালের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেটের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রাতে তারা আবার উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। রাত ৮টার পর থেকে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসের সবগুলোর হলের সামনে মিছিল করে। ৯টার দিকে মেয়েদের হলগুলোর দিকে মিছিল পৌঁছালে নারী আন্দোলনকারীরা ভেতরে ঢুকতে চায়। কিন্তু হল প্রশাসন হলের ফটকে তালা দিয়ে রাখায় তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পরে প্রতিটি হল থেকেই বেশ কিছু ছাত্রী তাদের সাথে মিছিলে যোগ দেয়।

    রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মিছিলটি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। তারা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ছাড়বেন না তারা। ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর তারা হলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জানান, বুধবার সকালে আবারও বিক্ষোভ করবেন তারা। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানাসহ চার শিক্ষক।

    এদিকে এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতা নিয়ে সড়ক পরিববহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এক্ষেত্রে পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন,এটা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আছে, এর সর্বশেষ খবর প্রধানমন্ত্রী জানেন। কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে তিনি খোঁজ-খবর নিয়ে নেবেন। সরকার প্রধান এ ব্যাপারে খুব সজাগ। তিনি বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করছেন, অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন।

    পেছনের কথা

    অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির আন্দোলনের মুখে কয়েক বছর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ওই পদে আসেন অধ্যাপক ফারজানা। এরপর চলমান অস্থিরতার শুরু গত অগাস্টে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তখন আন্দোলন শুরু করেন। এর মধ্যেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে উপাচার্য ফারজানার কাছে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

    এই ঘটনার পরে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষনেতাকে পদ হারাতে হলেও তারা অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো অধ্যাপক ফারজানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাদের অর্থ দিয়েছেন বলে তখন অভিযোগ ওঠে, যার অডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা ‘ঈদ সালামী’ হিসেবে ১ কোটি টাকা পাওয়ার কথা স্বীকারও করেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার তদন্তের দাবিতে নতুন কর্মসূচিতে নামে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। চাপের মুখে উপাচার্য ফারজানা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও তা ফলপ্রসূ না হওয়ায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর তার পদত্যাগের দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন, গত সপ্তাহ থেকে আন্দোলনকারীরা শুরু করে ধর্মঘট। তারপর সোমবার তারা উপাচার্যকে ঘেরাও করে।

    হামলা-সংঘাত

    সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপাচার্যকে বাসা থেকে বের করে কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেখানে উপস্থিত হন তার সমর্থক শিক্ষক-কর্মকর্তারা। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক-বিতণ্ডা চলার মধ্যেই বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল সেখানে আসে। সেই মিছিল থেকে আন্দোলনকারীদের উপর চড়াও হয় ছাত্রলীগকর্মীরা।

    আধা ঘণ্টা ধরে চলা হামলায় তারা এলোপাতাড়ি মারধর করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় একাধিক শিক্ষককেও চ্যাংদোলা করে দূরে নিয়ে ফেলতে দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা বলছেন, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এই হামলায় আট শিক্ষকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। সেখানে দায়িত্ব পালন করার সময় চার সাংবাদিকও ছাত্রলীগ কর্মীদের মারধরের শিকার হন। হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শিবির সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

    অন্যদিকে আন্দোলকারীদের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন সাংবাদিকদের বলেন, “আন্দোলনে কোনো শিবির সংশ্লিষ্টতা নেই। যে কোনো শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য শিবির ব্লেইম দেওয়াটা পুরোনো অপকৌশল। বুয়েটের আবরারকে এভাবেই হত্যা করা হয়েছে, এখানেও একইভাবে অভিযোগ তুলে হামলা চালানো হয়েছে। উপাচার্য অপসারণ আন্দোলনের সাথে যুক্ত এমন অনেকেই আজ ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়েছে, যারা ক্যাম্পাসে বামপন্থি রাজনীতির পরিচিত মুখ। তাই এসব কথা তাদের দুর্নীতি ঢাকার অপকৌশল।

    নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস, মীর্জা তাসলিমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা রয়েছেন আহত শিক্ষকদের মধ্যে। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে- ৪৪ তম আবর্তনের দর্শন বিভাগের মারুফ মোজাম্মেল, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাহাথির মুহাম্মদ, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাইমুম ইসলাম, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের রাকিবুল ইসলাম রনি, ৪৮ তম আবর্তনের ইংরেজি বিভাগের আলিফ মাহমুদ, অর্থনীতি বিভাগের উল্লাস, দর্শন বিভাগের রুদ্রনীল, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সৌমিক বাগচীর নাম জানা গেছে।

    এছাড়া ৪৪তম আবর্তনের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছাত্রী ছন্দা ও ৪৭ তম আবর্তনের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাউদা নামের দুই নারী শিক্ষার্থীকেও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। থম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম, বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আজাদ, বার্তাবাজারের প্রতিনিধি ইমরান হোসাইন হিমু, বাংলা লাইভ টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলার শিকার হন।

    মারধরের সময় উপাচার্য সমর্থক শিক্ষক সোহেল আহমেদ, নাসির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, আব্দুল মান্নান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, মাহমুদুর রহমান জনিসহ কয়েকজনকে ‘ধর ধর’, ‘জবাই কর’ ও ‘মার মার’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায়। হামলা চলাকালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ছিল নীরব। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে কোনো মন্তব্যও তারা করেননি।

    আন্দোলনে থাকা শিক্ষক পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের উপস্থিতি ও প্রত্যক্ষ উসকানিতে ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। ছাত্রলীগ যখন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে তখন ভিসিপন্থি শিক্ষকরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়ে হাততালি দিয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, “ঘটনাস্থলে মব তৈরি হয়েছিল। চেষ্টা করেও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।

    মুক্ত উপাচার্যের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

    মারধরের ঘটনার আধা ঘণ্টা পর উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা প্রশাসনিক ভবনে নিজের কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, “আমার সহকর্মী ও ছাত্রলীগকর্মীদের এ গণঅভ্যুত্থানের জন্য ধন্যবাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাভাবিক গতিতে চলবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি ‘‘শারীরিক ধাক্কাধাক্কিকে’ হামলা বলা যায় কি না, সেই প্রশ্ন করেন।

    অধ্যাপক ফারজানা বলেন, “ওরা আহত হয়েছে শারিরিকভাবে- আপনারা বলতে পারেন। আমাদের মেয়েদেরকেও তারা ধাক্কা দিয়েছে, শিক্ষক মেয়েদেরকে। আমি এবং ট্রেজারার, আমরা মর্মাহত, তারা আমাদের যে ভাষায় গালাগালি করেছে। আন্দোলনের পেছনে জামায়াত সমর্থকদের হাত রয়েছে দাবি করে অধ্যাপক ফারজানা বলেন, “তদন্ত শুধু আমি করব না। সরকারের উচিৎ হবে এই চক্রটাকে দেখা । এরা কোথায় ছড়িয়ে আছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা কেন খারাপ হচ্ছে। এর পরপরই জরুরি বৈঠকে বসে সিন্ডিকেট; সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

    ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com