• শিরোনাম

    জমে উঠেছে দিনাজপুরের লিচু বাজার

    দিনাজপুর প্রতিনিধি | ১২ জুন ২০২০

    জমে উঠেছে দিনাজপুরের লিচু বাজার

    জমে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ দিনাজপুরের লিচু বাজার। ইতোমধ্যে বাজারে বোম্বাই, বেদেনা, চায়না থ্রি, কাঠালী, হাড়িয়াসহ বিভিন্ন প্রকারের লিচু উঠেছে। তারপরও বিগত বছরগুলোর মতো লোকসানের কথা বলছেন চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, করোনার প্রভাবে বাজারে ক্রেতা সমাগম কম। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সেভাবে ব্যবসায়ীরা আসেনি। আবার দেশের বিভিন্ন স্থানে লিচুর চালান গেলেও টাকা আসছে না।

    বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুরের বাজারে প্রতি হাজার মাদ্রাজি জাতের লিচু ১৫০০-২০০০ টাকা, বোম্বাই ১৪০০-১৮০০ টাকা, বেদেনা ৩৫০০-৫০০০ টাকা ও চায়না থ্রি ৪৫০০-৫৫০০ টাকা, কাঠালী ৩০০০-৪০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতা সমাগম কম এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও ব্যবসায়ীরা কম এসেছেন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য লিচুর বাজার কালিতলা থেকে গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানে স্থানান্তর করেছে জেলা প্রশাসন।

    সদর উপজেলার মাসিমপুর এলাকার তৌহিদুর রহমান বলেন, বেদেনা জাতের লিচু ৬-৭ হাজার টাকা হাজার দরে বিক্রি হয়। কিন্তু গত দু’বারে রমজানের সময় লিচু বাজারে ওঠায় লোকসান গুনতে হয়েছে। এবারে আশা ছিল ভালো দাম পাবো। কিন্তু করোনার কারণে এবারও দাম কম। তবে এবারে ফলন ভালো হয়েছে। ফলে লোকসান তেমনটা হবে না।

    সদর উপজেলার কৃষাণবাজার এলাকার বাগান মালিক জিল্লুর রহমান বলেন, এবারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বেশি দামে বাগান কিনেছিলাম। কিন্তু বাজারের এখন যে অবস্থা তাতে করে লাভের আশা করা যাবে না। এরপরেও লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ায় বাজারে বেচা-বিক্রি ভালো হচ্ছে।

    ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় লিচু পাঠিয়েছি ১০ দিন আগে। চালানের টাকা পাইনি সব। করোনার করাণে লিচুর চাহিদাও কম। লিচু ব্যবসায়ী সিরাজউদ্দিন বলেন, ‘এবারে পরিবহন ভাড়াও বেশি। আবার লিচুর চাহিদাও কম। আমরা যদি ঠিকভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে লিচু পাঠিয়ে বিক্রি করতে পারতাম তাহলে বেশি দামে ক্রয় করতাম। তাতে করে কৃষকরাও লাভবান হতো। আমরাও লাভবান হতাম। কিন্তু আমরা দাম ভালো না পাওয়ায় অনেকেই লিচু কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তবে লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ায় কয়েকদিনের তুলনায় লিচুর দাম কিছুটা বেড়েছে।’

    দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার উৎপাদিত ৮০ শতাংশ লিচুই দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। এই জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। যেখানে প্রতিবছর ৫০-৬০ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়।

    দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল বলেন, এবারে লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লাভের কথা ভেবেই লিচুর বাজার স্থানান্তর করা হয়েছে। তাছাড়া লকডাউন শিথিল হওয়ায় লিচুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। লিচু পরিবহনে যাতে করে কোনও ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা লিচুতে লাভবান হবেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বে-রসিক ইউএনও!

    ১২ মার্চ ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে daynightbd.com