• শিরোনাম

    সর্বশেষ আতিয়ার নামে এক কনস্টেবলের মৃত্যু

    পুলিশে করোনা আক্রান্ত ১০ হাজার,মৃত্যু ৪১

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ জুন ২০২০

    পুলিশে করোনা আক্রান্ত ১০ হাজার,মৃত্যু ৪১

    করোনায় আক্রান্ত হয়ে জীবন উৎসর্গ করলেন পুলিশের আরও এক কনস্টেবল। রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার রাতে মো.আতিয়ার রহমান নামে ওই কনস্টেবলের মৃত্যু হয়। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কর্মরত ছিলেন। এদিকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে আজ রবিবার পর্যন্ত ১০ হাজার ১৬০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে মারা গেছেন ৪১ পুলিশ সদস্য।

    পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা জানান, কনস্টেবল আতিয়ার ১৯৮৪ সালে ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার কামালদিয়া গ্রামে।

    মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মরদেহ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। কনস্টেবল মো. আতিয়ার রহমানকে দিয়ে পুলিশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেল ৪১ জনের।

    পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানান, আজ রবিবার পর্যন্ত পুলিশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ১০ হাজার ১৬০ জন। যা একক পেশা হিসেবে সর্বোচ্চ। পুলিশ বলছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে শুরু থেকেই ডাক্তার-নার্সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে আসছে বাংলাদেশ পুলিশ। যে কারণে দ্রæতই সংক্রমিত হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে আক্রান্তদের মধ্যে পুলিশের ৬ হাজার ৪৫ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    পুলিশ সদর দফতর ও বিভিন্ন ইউনিটের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট আক্রান্ত ১০ হাজার ১৬০ জন, যা গত শনিবার ছিল ৯ হাজার ৯৪৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশে কর্মরতদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৪৮ জন সদস্য। গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির আরও ১০৩ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

    পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় ১০ হাজার ৩০০ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে এবং ৪ হাজার ২২৪ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সুস্থ হওয়া পুলিশ সদস্যদের অনেকেই জনগণের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করতে আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন। পুলিশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর উন্নত ও মানসম্মত ‘চিকিৎসা ও সেবায়’ সুস্থতার হার দ্রæত বাড়ছে।

    পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ৪১ জন সদস্য চলমান করোনাযুদ্ধে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে জীবন উৎসর্গ করেছেন। সহকর্মী হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশসেবার দৃপ্ত শপথ বুকে ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। তিনি বলেন, আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ড. বেনজীর আহমেদ বিরামহীনভাবে করোনা প্রতিরোধে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

    তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুস্থ করতে ব্যস্থ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া করাসহ সব পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে। এ কারণে একদিকে পুলিশে আক্রান্তের হার যেমন ক্রমান্বয়ে কমছে, তেমনি দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে সুস্থতার হার।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে daynightbd.com