• শিরোনাম

    আদালত আইন বাতিলে সংসদের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ

    অনলাইন ডেস্ক | ০৫ মার্চ ২০১৭

    আদালত আইন বাতিলে সংসদের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ

    সংসদ থেকে পাস হওয়া আইন আদালত কর্তৃক বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংসদের সার্বভৌমত্ব ও এর পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক। জাতীয় পার্টির এই সাংসদ বলেছেন, ‘সংসদের মান ও সার্বভৌমত্ব আমরা কীভাবে নিরাপদ করব, তা নিয়ে এখনই চিন্তাভাবনা করতে হবে।’

    সংসদে আজ রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে মুজিবুল হক এসব কথা বলেন।

    শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে রাষ্ট্রপতি যখন একজন বিচারককে নিয়োগ দেন, তখন সংবিধান বা নীতির প্রশ্ন আসে না। নিয়োগ পেয়ে চেয়ারে বসার পরই তিনি এই সংসদের আইন বাতিল করে দেন। কাজেই সংসদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। এই যে বক্তব্য রাখছি, ভবিষ্যতে মামলা হলে বিচারকেরা আমাকে ছাড়বেন না।’

    এ সময় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া প্রতিমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ইউ আর ইমিউন। কিছুই করতে পারবেন না। আপনি বলে যান।’

    মুজিবুল হক বলেন, ‘আমরা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে আইন পাস করি। আর এই আইন পাস করার পরদিন যদি হাইকোর্ট আইনগুলো বাতিল করে দেন, তাহলে তো প্রশ্ন উঠবে, পার্লামেন্ট কী? পার্লামেন্টের পরিধি কী? আইন এই সংসদে পাস হয়েছে। পরে তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে রিট করিয়ে হাইকোর্ট আইনগুলোকে নাল অ্যান্ড ভয়েড করে দিচ্ছেন। এমনকি বিচারপতিদের অভিশংসনের জন্য আমরা যখন সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করলাম, সেটাকেও নাল অ্যান্ড ভয়েড করা হলো। সংবিধান অনুযায়ী আমরা সংসদে যেসব কথা বলব, তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। কিন্তু আগের সংসদে তাঁরা স্পিকারের রুলিংকেও নাল অ্যান্ড ভয়েড ঘোষণা করেছিলেন।’

    মুজিবুল হক বলেন, ‘সংসদ একজন বিচারককে ইমপিচ করতে পারবে না—এ রকম আইন পাকিস্তান ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও নেই। একটা স্বীকৃত কথা আছে, কোনো ব্যক্তি তার নিজের পদের বিষয়ে রায় দিতে পারেন না। কিন্তু আজকে আমাদের উচ্চ আদালতে তা-ই হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪০৩ জন সাংসদ নিয়ে সংবিধান তৈরি করেছিলেন। সেই সংবিধানে বিচারকদের অভিশংসনের বিষয়টি ছিল। বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এই অনুচ্ছেদকে বললেন, ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা। এটাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ৪৬ জনকে ডিঙিয়ে এই বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি করেছিল বিএনপি।

    সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের প্রশংসা করে মুজিবুল হক বলেন, ‘আপনারা সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেবকে সমালোচনা করেন। মানুষকে সেবা দিতে তিনি সংবিধান সংশোধন করে হাইকোর্টকে ঢাকার বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন। উচ্চ আদালত সেটাও বাতিল করেছেন। ১৯২৬ সালে আদালত অবমাননার একটি আইন ছিল। আমরা সেটার সংশোধনী করেছিলাম। সেটাও হাইকোর্ট স্থগিত করে দিয়েছেন। বিষয়গুলোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

    রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা হাইকোর্ট এলাকায় স্থাপিত ন্যায়বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য ভাঙার হুমকিদাতাদের প্রতিহত করার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, ভাস্কর্য ভাঙার হুমকিদাতাদের প্রতিহত করতে না পারলে ভবিষ্যতে তারা অপরাজেয় বাংলাকে মূর্তি আখ্যায়িত করে ভাঙতে যাবে। তাদের সঙ্গে সমঝোতা করলে তারা আঘাত করতে আসবে।

    আলোচনা শেষে সংসদের অধিবেশন আগামীকাল সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com