• শিরোনাম

    ফ্লাইওভারের ওপর বাসস্টপেজ

    অনলাইন ডেস্ক | ০৭ মার্চ ২০১৭

    ফ্লাইওভারের ওপর বাসস্টপেজ

    নিয়ম না মেনে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা চলছে। ব্যস্ত ফ্লাইওভারটি ব্যবহৃত হচ্ছে বাসস্টপেজ-লেগুনাস্ট্যান্ড হিসেবে। এর ওপর জনগণের চলাচল বাড়ায় দুর্ঘটনাও বাড়ছে।
    ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার চালু হয়। চার লেনবিশিষ্ট এই ফ্লাইওভার বকশীবাজার
    মোড় থেকে শনির আখড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে এই ফ্লাইওভার নির্মাণে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। আর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
    ফ্লাইওভারে গাড়ি থামানো সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোসেলহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ফ্লাইওভারের ওপর বাস-গাড়ি থামানোর সুযোগ নেই। গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করলে সড়কের যানবাহনগুলোর স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে।
    গতকাল সোমবার গিয়ে দেখা যায়, উড়ালসড়কের টিকাটুলী, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পয়েন্টে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা চলছে। যাত্রাবাড়ী অংশে যাত্রী ওঠানামার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। উড়ালসড়কের যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা অংশে দুটি এবং সায়েদাবাদ অংশে একটি সিঁড়ি পরে তৈরি করা হয়েছে। এই সিঁড়ি দিয়ে ফ্লাইওভারে ওঠানামার ব্যবস্থা রয়েছে। যাত্রাবাড়ী অংশে উড়ালসড়কের ডান পাশের লেনে এই সিঁড়ি ঘেঁষেই থামছে গুলিস্তান-তারাব ও গুলিস্তান-চিটাগাং রুটের বাসগুলো। বকশীবাজার থেকে ডেমরাগামী লেগুনাগুলোও এখানে থামতে দেখা যায়।
    জানতে চাইলে গুলিস্তান-তারাব রুটের একটি বাসের কন্ডাক্টর ওমর বলেন, উড়ালসড়কের ওপর বাস থামানোর বিষয়ে কখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা আসেনি। লেগুনাচালক পীযূষও বলেন, এখানে গাড়ি থামাতে সমস্যা নেই।
    এ বছরের ৬ জানুয়ারি প্রথম আলোয় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে বাস থেকে নেমে রাস্তা পার হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক নারীর আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ‘উড়ালসড়কে রক্তাক্ত নারী’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়, এই উড়ালসড়কে গত দুই বছরে মোটরসাইকেলের অন্তত ১০ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গতকালও দেখা যায়, বাস-লেগুনা থেকে নেমে যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। আবার রাস্তা পার হয়ে অনেকে বাহন ধরতে ছুটে আসছে। বাসের জন্য উড়ালসড়কে অপেক্ষমাণ মো. বাবুল বলেন, ‘বাস থামে দেইখা এইখানে দাঁড়াই। তয় মধ্যে মধ্যে এক্সিডেন্ট হয়, এইডা সত্য।’
    উড়ালসড়কের ওপর ট্রাফিক পুলিশের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিয়োগকৃত নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্বে ছিলেন। জানতে চাইলে তাঁদের একজন নিলয় পারভেজ বলেন, পথচারী যেন সড়ক পারাপার না করে, সেটা দেখা তাঁর দায়িত্ব। ফ্লাইওভারে গাড়ি থামানো যাবে না এমন কোনো নিয়মের কথা জানেন না তিনি।
    এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক ডেমরা জোন) আলী আকবর বলেন, উড়ালসড়কের ওপর ট্রাফিক পুলিশের ডিউটি নেই। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তরাই বিষয়টি দেখে থাকেন। তবে উড়ালসড়কের ওপর কোনো মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে সে বিষয়ে তাঁরা সময়ে সময়ে তদারক করেন।
    উড়ালসড়কের ওপর এই ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল ও যাত্রী ওঠানামা নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব তাড়াতাড়িই একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com