• শিরোনাম

    এরবাকান বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআনিক ভাবনা

    অনলাইন ডেস্ক | ০৭ মার্চ ২০১৭

    এরবাকান বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআনিক ভাবনা

    কোরআন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। আজ অবদি কেউ এ গ্রন্থের বিপরীতে কোনো পুস্তক হাজির করতে পারেনি। আজকের মুসলমান কোরআন থেকে দূরে থাকার কারণে এ মহাগ্রন্থকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মতোই নিছক ধর্মগ্রন্থ মনে করতে শুরু করেছে। ফলে জ্ঞানের উৎস হিসেবে কোরআন গ্রহণ না করে অন্য কিছুর প্রতি নজর বুলাচ্ছে। অথচ পবিত্র কোরআন আত্মপ্রত্যয়ী মানুষের চিন্তা-বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, মৌল নীতিমালা এবং মানব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় আচরণবিধি নৈতিক শিক্ষা, পরিবার ও সমাজের নিয়ম পদ্ধতির সব মৌলনীতি সবিস্তারে বর্ণনা করেছে। তা ছাড়া বিভিন্ন আয়াতে জ্ঞানী, বুদ্ধিমান, চিন্তাশীল ও বোধসম্পন্নদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে যেন তারা পবিত্র কোরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে। কারণ এ গ্রন্থে রয়েছে নির্ভরযোগ্য গবেষণার মূলনীতি।

    কোরআন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা। মুজিজা শব্দের অর্থ অলৌকিকতা, বিস্ময়কর কিছু, স্বাভাবিকতাবহির্ভূত ইত্যাদি। নবী-রাসূলদের আল্লাহ প্রদত্ত দেয়া মুজিজাগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে, এক ধরনের মুজিজা হল- যা চোখে দেখে অনুভব করা যায় কিন্তু মানুষ বুদ্ধি খাটিয়ে ওই মুজিজা কীভাবে সংগঠিত হচ্ছে তা বুঝতে সক্ষম নয়। যেমন হজরত মুসা (আ.) কে দেয়া মুজিজা- লাঠি সাপ হয়ে যাওয়া, হাত বগলে রাখলে উজ্জ্বল ধবধবে আলোকিত হওয়া ইত্যাদি। অন্যটি হল বুদ্ধিভিত্তিক মুজিজা, যার একমাত্র উদাহরণ হল মহাগ্রন্থ আল কোরআন। চোখে দেখা মুজিজা সংগঠিত হওয়ার পর সময়ের ব্যবধানে মানুষ ভুলে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ যার অলৌকিকতা নবী বা রাসূলের বিদায়ের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন মহান আল্লাহ তাঁর অসংখ্য নবী-রাসূলকে মুজিজা দিয়ে পাঠিয়েছিলেন যার একটি মুজিজাও আজ বেঁচে নেই। কিন্তু কোরআন আজও আমাদের সামনে রয়েছে অক্ষত। কোরআন হল বুদ্ধিভিত্তিক মুজিজা। আল্লাহতায়ালা রাসূলুল্লাহ (সা.)কে এমন মুজিজা দিয়েছেন যার প্রভাব চিরকাল থাকবে। চোখে দেখা যায় এমন কিছু যে কোনো সময় বিলুপ্ত হতে পারে, মানুষ ভুলে যেতে পারে। কিন্তু মানুষ যে বিষয় বুদ্ধি-বিবেকের মাধ্যমে আয়াত্ত করে তা কখনও ভুলবে না। কোরআন হল তেমনই এক মুজিজা। যা কখনও মানুষের আকল থেকে মুছে যাওয়ার মতো নয় ও বিলুপ্ত হওয়ার মতো নয়। ইমাম বুখারি (রা.) একটি হাদিস বর্ণনা করেন যে, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন প্রত্যেক নবীকে তাঁর উম্মতদের ঈমানের স্তর অনুযায়ী মুজিজা দেয়া হয়েছে। আর আমাকে দেয়া মুজিজা হচ্ছে আল্লাহর ওহি। আমি আসা করি অন্য নবীদের চেয়ে এ মুজিজার বিশ্বাসী বেশি হবে’। ইমাম সূয়ুতি (রা.) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল-ইতকান ফি-উলুমুল কোরআন গ্রন্থে বলেন যে, নবী-রাসূলদের মুজিজা তাদের রিসালাতের সমাপ্তির মাধ্যমে শেষ হয়ে যায়। শুধু অই সময়ের মানুষগুলোই এ মুজিজাগুলোর সাক্ষী হতে পারে। কিন্তু কোরআনের মুজিজাগুলো চিরকাল অবশিষ্ট থাকবে। কোরআনের অলৌকিকতা হচ্ছে তাঁর বর্ণনাশৈলী, বর্ণনার অলংকারিত্বতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দেয়া সংবাদ প্রত্যক্ষ হওয়ার মধ্যে। সময়ের ব্যবধানে কোরআনে বর্ণিত সংবাদগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হওয়া তার প্রমাণ। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত তত্ত্বগুলোকে বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে দেখতে পেয়েছেন যে বর্ণিত তত্ত্বগুলো সঠিক। সে তত্ত্বগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। একটি উদাহরণ যেমন কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের Anatomy Department-এর অধ্যাপক Keith Leon Moore এর কথা। তিনি বলেন, ‘আমি ১৪০০ বছর আগের কোরআন অধ্যয়ন করে Human Embryology সম্পর্কিত যে তথ্য লাভ করেছি, সত্যি বলতে কি আমি অভীভূত হয়েছি। Human Embryology সংক্রান্ত তথ্যগুলো পবিত্র কোরআনে এত নিখুঁত এবং সঠিকভাবে রয়েছে যা Medical Science-এ দেখা যায় না’। এরপর তিনি সৌদি আরবে এসে ডক্টর এ. মজিদ আজীনদানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নেন এবং যৌথভাবে ‘The Developing Human’ নামক বিখ্যাত গ্রন্থটি রচনা করেন। কোরআনে অসংখ্য আয়াত থেকে পৃথিবী সৃষ্টি নিয়েও বিজ্ঞানীরা বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন।

    কোরআন শুধু মুজিজা নয়, অবিশ্বাসীদের প্রতি অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। যে চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা আজও পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুয়্যতকালীন যুগ ছিল আরবি সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ। ইমরুল কায়েসদের মতো আরব বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কবিরা ছিল ওই যুগেরই কবি। সেই যুগেই এ মহান গ্রন্থ আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা ইউসুফে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- ‘আমি এই (কোরআনকে) আরবি ভাষায় পাঠিয়েছি, যাতে তোমরা একে ভালোভাবে বুঝতে পার’। তৎকালীন আরবের কাফির-মুশরিকরা এ কোরআনকে অস্বীকার করে তা রাসূল (সা.)-এর তৈরি করা বলে অভিযোগ করত। নিছক জিনদের শিখানো বুলি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করত, রাসূল (সা.) কে কবি বলে আখ্যায়িত করত। কিন্তু তাদের কোনো অভিযোগই কোরআনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াতে পারেনি। তাদের বলা হল তোমাদের অভিযোগ যদি সত্য হয় তোমরাও এ কোরআনের মতো কিছু তৈরি করে নিয়ে এসো। সূরা আত-তুরের ৩৪ নং আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- ‘তারা কি মনে করে যে, এই ব্যক্তি নিজেই কোরআন রচনা করে নিয়েছে? প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে তারা ঈমান গ্রহণ করতে চায় না। তাদের এ কথার ব্যাপারে তারা যদি সত্যবাদী হয় তাহলে এর (এ কোরআনের) মতো একটি শব্দ তৈরি করে আনুক’। পবিত্র কোরআনের অন্য স্থানে সূরা হুদের ১৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে- ‘এরা কি বলছে আয়াত কিতাব নবী নিজেই রচনা করছেন? বল ঠিক আছে, তাই যদি হয়, তাহলে এর মতো দশটি সূরা তৈরি করে নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের আর যেসব মাবুদ আছে তাদের (এই কাজে) সাহায্যের জন্য ডাকলে ডাকতে পার, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও’।

    আল্লাহই বলে দিচ্ছেন এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মতো ক্ষমতা তাদের নেই। এ মহাগ্রন্থ জগতের দৃশ্য অদৃশ্য সব জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস। এ কোরআনই হোক আমাদের চলার পাথেয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    এক পরিবারে ৪৬ জন হাফেজ

    ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com