• শিরোনাম

    সাইফের ধর্ষণই প্রতিবন্ধী সাদিয়ার আত্মহত্যার কারণ

    অনলাইন ডেস্ক | ০৮ মার্চ ২০১৭

    সাইফের ধর্ষণই প্রতিবন্ধী সাদিয়ার আত্মহত্যার কারণ

    গৃহকর্ত্রীর ছেলের ধর্ষণের কারণেই আত্মহত্যা করেছেন বাকপ্রতিবন্ধী তরুণী সাদিয়া আক্তার (১৮)। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছে।
    সূত্র জানায়, বরিশালের গৌরনদীর ধানডোবা গ্রামের নূর আলম শিকদার মোয়াল্লোমের মেয়ে সাদিয়া।

    ৬ মাস আগে একই গ্রামের ইতালী প্রবাসী ফিরোজ খানের স্ত্রী জীবন নেছা জিবুর বাসায় মাসে দুই হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মী হিসেবে ওই তরুণীকে পাঠানো হয়।

    রাজধানীর কাফরুলের ১৩ নম্বর সেকশন ‘বি’ ব্লকের ৪ নম্বর রোডে অবস্থিত জিবুর বাসায় ছয় মাস কাজ করলেও ওই তরুণীকে কোনো টাকা দেয়নি। উপরন্তু জিবুর ছেলে সাইফ খান ওরফে বাবু (২৪) তাকে ধর্ষণ করে দিনের পর দিন। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি এর প্রতিবাদ করতে পারেননি। অবশেষে ১৩ ফেব্রুয়ারি জিবুর বাসায় আত্মহত্যা করেন ওই তরুণী।

    এদিকে সাদিয়ার আত্মহত্যার পর থেকেই পলাতক সাইফ খান ওরফে বাবু। পলাতক বাবুর মা জিবু এবং বোন ফারজানা। কাফরুলের ওই বাসায় জিবু তার এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সাদিয়ার সঙ্গে মোবাইল বা টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ ছিল না তার স্বজনদের। তাই ফেব্রুয়ারিতে মেয়ের খোঁজ নিতে শেফালী বেগম তার ভাইয়ের মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া নিপা আক্তারকে কাফরুলের ওই বাসায় পাঠান।

    তখন ইশারা ইঙ্গিতে সাদিয়া জানান, তিন মাস ধরে সাইফের যৌন নির্যাতনের শিকার সে। তাকে মারধরও করা হয় বলে নিপাকে ইশারা ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেন সাদিয়া।

    বিষয়টি সাদিয়ার মা, ভাই-বোন বা কোনো স্বজনকে জানানো হয়েছিল কি-না জানতে চাইলে নিপা বলেন, ‘আমি বিষয়টি তখন ভালোভাবে বুঝতেও পারিনি। সাদিয়া আত্মহত্যার পর বিষয়টি আমার মাথায় আসে। তাই লাশ ময়নাতদন্ত করার অনুরোধ জানাই। ময়নাতদন্তেই ধর্ষণের আলামত ধরা পড়ে।’

    মামলার বাদী ও সাদিয়ার ভাই ইফাজুল ইসলাম বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জিবু আমার মাকে ফোন করে জানান, সাদিয়া আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঢাকায় এসে ওই দিনই কাফরুল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করি। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরে ‘গৌরনদীর প্রতিবন্ধী তরুণীকে ঢাকায় ধর্ষণের পর হত্যা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে সাইফকে ঘিরেই আমাদের সন্দেহ বেড়ে যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

    পরে ২৫ জানুয়ারি জিবু ও তার ছেলে বাবুকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে কাফরুল থানায় পৃথক মামলা করেছি। ইফাজুল ইসলাম আরও জানান, সাদিয়াকে যে সম্ভ্রমহানি করা হয়েছে তা তিনি জিবুকেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু জিবু এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজও (মঙ্গলবার) পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী (এসি) কমিশনার কাজী মাহবুবুল আলম তাকে ডেকেছিলেন। তার কাছে বিভিন্ন বিষয় জানতে চেয়েছেন। এ সময় কাফরুল থানার ওসি শিকদার মো. শামীম হোসেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে এসি দ্রুত আসামি গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, আসামি ধরতে জোরালো অভিযান চলছে। ঘটনার পর থেকেই ওই বাসায় অবস্থানকারী তিনজন (বাবু, তার মা এবং বোন) বাসা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এ জন্য তাদের ধরতে সময় লাগছে। বাবুকে গ্রেফতার করতে পারলেই আত্মহত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com