• শিরোনাম

    রত্মগর্ভা মা নার্গিস আলমগীর

    লতিফা ইয়াসমিন লতা | ০৮ মার্চ ২০১৭

    রত্মগর্ভা মা নার্গিস আলমগীর

    প্রতিটি পরিবারের প্রাণকেন্দ্র মা। বিশ্বায়নের যুগে মায়েদের ভূমিকা বহুমুখী। শুধু পরিবারেই নয়, পরিবার ছাড়া ঘরে-বাইরে সকল ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন মা। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মায়েরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সন্তানকে লালন পালন করে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে যথাযথ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকাকে অনস্বীকার্য। এক্ষেত্রে মায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন একটি সুন্দর দেশ ও জাতি বিনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। আজ আমরা আজকের অগ্রবাণীর এমন একজন মাকে সামনে নিয়ে এসেছি যিনি তার সন্তানদের গড়ে তুলেছেন সত্যি কার মানুষ হিসেবে। যার চারটি সন্তান আমেরিকার নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। যদিও তারা বিদেশে অবস্থান করেন তবে তাদের শিকড় বাংলাদেশে। সময় পেলেই তারা মায়ের কাছে ছুটে আসেন।
    কথায় বলে সন্তান সব সময়ই মাকে অনুভব করে। বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি আমার সশ্রদ্ধ ভালবাসা। তাইতো কবি লিখেছেন ‘মধুর আমার মায়ের হাসি, চাঁদের মুখে ঝরে, মাকে মনে পড়ে, আমার মাকে মনে পড়ে।’
    কবি নার্গিস আলমগীর। ১৯৫৫ সালের ১লা জানুয়ারী দ্বারভাঙ্গা জেলার শোভনী গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার শৈশব কাটে নবাবগঞ্জের ব্রাহ্মনখালী গ্রামে। স্কুল জীবন আজিমপুর গালস্ হাই স্কুল। সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ ১৯৭৩ সালে। নারী জাগরনের কন্ঠস্বর পাক্ষিক ‘রণরঙ্গিনী’ ও ‘নারীকন্ঠ’ পত্রিকার সহ-সম্পাদিকা হিসেবে কাজ করেন। তিনি আমেরিকা প্রবাসী হলেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যিকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি জাতীয় লেখক ফোরাম আমেরিকা শাখায় সংযুক্ত। বাবা মরহুম মোহাম্মদ রমজান আলী শেঠ, মা মরহুমা আনোয়ারা বেগম আন্না।
    নার্গিস আলমগীর প্রখ্যাত হারবাল চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. আলমগীর মতি’র সহধর্মিনী। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে তিন কন্যা ও এক পুত্রের জননী।

    প্রবাসফেরত, ডুয়েল সিটিজেন, কবি-গীতিকার নার্গিস আলমগীর দেশেই বাকি জীবনটা কাটাতে চান। স্বদেশে থেকেই চালাতে চান তার সৃষ্টিকর্ম। প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে নারী দিবসে তার সাক্ষাৎকার।

    আপনার গান, কবিতা, গীতিকাব্যের মধ্যে ধর্ম, সাধনা, আধ্যাতিকতার প্রভাব বেশি কেন? এর রহস্য কি?

    এটি আসলে আমার জন্মগত বিষয়। ছোটবেলা থেকেই ধর্ম, সৃষ্টি, স্রষ্টা, প্রকৃতি আমাকে বেশি ভাবিয়েছে। এখনো ভাবায়। এ কারণেই আমার লেখালেখিতে এ ভাবনার প্রভাব বেশি।

    সুদূর আমেরিকায় দীর্ঘদিন পাশ্চাত্য জীবনযাপনেও কিভাবে এ ভাব ও চিন্তা ধরে রেখেছিলেন?

    ব্যাপারটি আসলে একেবারেই মানসিক। দেশ-প্রবাসের দূরত্ব এ ভাবনাকে বদলাতে পারে না। আমেরিকায়ও আমি বাংলাদেশকে খুঁজেছি। ফ্লোরিডার বোকারটনেও আমি দেখেছি নবাবগঞ্জের বারুয়াখালীকে। সেখানে গল্প, কবিতা, গান ইত্যাদি সৃষ্টিশীলতায় আমার এ জীবন ও প্রকৃতিবাদী ভাব- ধারণা কোনো অসুবিধা হয়নি। এতে প্রবাসীদের সহায়তা ও সমর্থন পেয়েছি। বিভিন্ন উপলক্ষে ও উৎসবে সেখানে বাঙালি সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চায় আমার কোনো সমস্যা হয়নি। আমেরিকানসহ অন্য বিদেশিরাও আমাদের বাঙালি সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চায় বিমোহিত হয়েছেন।

    বিভিন্ন গান ও কবিতায় আপনি প্রেম-ভালোবাসাকে অতিমাত্রায় আধ্যাতিকতা ও ভাববাদী বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। এর কারণ কি?

    এর কারণও ভাবনায় আমার নিজস্বতা। স্রষ্টা, স্রষ্টার সৃষ্টি ও প্রকৃতির প্রতি বেশি শরণাপন্ন হওয়ায় এমনটি হচ্ছে। স্রষ্টা এবং প্রকৃতির কাছে আমাদের ফিরে যেতেই হবে। এর বাইরে আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। আমার উপলব্ধি হচ্ছে প্রেম-ভালোবাসায় জোরাজুরি চলে না। জোর করে প্রেম হয় না। তা ভেতর থেকে আসতে হয়। এর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা, বিশ্বস্ততা এবং সর্বোপরি ঐশ্বরিক টান থাকতে হয়। এর নামই প্রেম।

    এখন কি নিয়ে ব্যস্ত?

    কবিতা ও গান লিখছি। নাটকের গল্প ও সংলাপেও সময় দিচ্ছি।
    শিল্পী নির্বাচনে আপনি নতুনদের বেশি প্রায়োরিটি দেন কেন?

    নতুন হলেও এরা গায় ভালো। চেষ্টা করে আরও ভালো করতে। তাদের এই চেষ্টা ও উদ্যমকে কাজে লাগানো উচিত। এ জন্য তাদের ইন্সপায়ার করতে আমার বেশ ভালো লাগে।

    আমাদের কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ আপনার রান্নাবান্নার কথা লিখেছেন তার ‘কাঠপেন্সিলে’। সেখানে তিনি এনেছেন আপনার ‘ডিজিটাল জাউ’-এর কথা। ডিজিটাল জাউ আসলে কি?

    হুমায়ূন ভাই চমৎকার মানুষ। তিনি শুধু লেখক, সাহিত্যিকই নন, একজন ভাবুকও। আমি পাটশাক দিয়ে একটি ভেষজ রেসিপি করেছিলাম। তা তিনি তার কলমের তুলিতে এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে, আমি বিস্মিত হয়েছি। মনে মনে একটু লজ্জাও পেয়েছি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com