• শিরোনাম

    ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বে খাদ্যমূল্য বেড়েছে

    অনলাইন ডেস্ক | ০৮ মার্চ ২০১৭

    ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বে খাদ্যমূল্য বেড়েছে

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্য বেড়েছে। এ মাসে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) গড় খাদ্য মূল্যসূচক ছিল ১৭৫ দশমিক ৫ পয়েন্ট, যা জানুয়ারির তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

    এফএও সূত্রে জানা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে অর্থাৎ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক বেড়েছে ২৬ পয়েন্ট বা ১৭ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর চলতি ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচকটি সর্বোচ্চে অবস্থান করছে। খাদ্যশস্য, উদ্ভিজ্জ তেল, দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস ও চিনির মূল্যের ওপর বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচকটি নির্ধারণ করে এফএও। গত ফেব্রুয়ারিতে উদ্ভিজ্জ তেল ছাড়া সবগুলো পণ্যের দামই বেড়েছে।

    ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। জানুয়ারির তুলনায় ৩ দশমিক ৭ পয়েন্ট বেড়ে বর্তমানে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচকটি ১৫০ দশমিক ৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ২০১৬ সালের জুনের পর গত মাসে বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের মূলসূচকটি সর্বোচ্চে অবস্থান করেছে।

    গত মাসে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচককে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে গম। গত মাসে বিশ্ববাজারে শস্যটির দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। একই মাসে ভুট্টার দাম বেড়েছে সামান্য পরিমাণে। তবে বিশ্ববাজারে বাড়তি চাহিদা মাসজুড়ে শস্যটির বাজারে চাঙ্গাভাব ধরে রেখেছিল। ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে চালের দাম। এ নিয়ে টানা তিন মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে নিত্যপণ্যটি।

    বৈশ্বিক উদ্ভিজ্জ তেলের মূল্যসূচকটি গত ফেব্রুয়ারিতে নিম্নমুখী ছিল। মাস শেষে সূচকের অবস্থান ছিল ১৭৮ দশমিক ৭ পয়েন্টে। জানুয়ারিতে উদ্ভিজ্জ তেলের সূচকমান এর ৭ দশমিক ৬ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেশি ছিল। ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর ফেব্রুয়ারিতে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে বৈশ্বিক উদ্ভিজ্জ তেলের মূল্যসূচক। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় সূচকমান এখনও ২৮ পয়েন্ট বা ১৯ শতাংশ বেশি রয়েছে।

    উদ্ভিজ্জ তেলের মূল্যসূচক ফেব্রুয়ারিতে কমাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে পাম ও সয়াবিন তেলের দরপতন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় ভোজ্যতেল দুটির আমদানি চাহিদা কমে যাওয়ায় গত মাসের দাম নিম্নমুখী ছিল। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় উদ্ভিজ্জ তেলের উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক বাজারকে নিম্নমুখী প্রবণতায় ঠেলে দিয়েছে।

    দুগ্ধজাত পণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক ফেব্রুয়ারিতে সামান্য বেড়েছে, সূচকমান ১৯৪ দশমিক ২ পয়েন্ট। জানুয়ারিতেও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বর্তমানে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচকটি ২০১৪ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের এখন পর্যন্ত দুগ্ধজাত পণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক ৫২ পয়েন্ট বা ৩৭ শতাংশ বেশি রয়েছে।

    বিশ্ববাজারে দুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারিতে পণ্যটির রপ্তানি চাহিদা ও রপ্তানি মূল্যও ভালো ছিল। ফেব্রুয়ারিতে মাংসের মূল্যসূচক ১ দশমিক ৭ পয়েন্ট বেড়েছে। ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে মাস শেষে বৈশ্বিক মাংসের মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬০ দশমিক ৬ পয়েন্টে। এ সময় মুরগি ও শূকরের মাংসের দাম ছিল বাড়তির দিকে। গরু ও মহিষের মাংসের দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সরবরাহ সংকটের কারণে ফেব্রুয়ারিতে এসব খাদ্যের দাম বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে মূল্যসূচকও।

    গত মাসে ৬ শতাংশ বেড়েছে চিনির মূল্যসূচক। জানুয়ারির তুলনায় ১ দশমিক ৮ পয়েন্ট বেড়ে চিনির মূল্যসূচক ফেব্রুয়ারি শেষে ২৯০ দশমিক ৩ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

    বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলোয় চলতি মৌসুমে চিনি উৎপাদন হ্রাসের পূর্বাভাস রয়েছে। এ পূর্বাভাসে ভর করে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে পণ্যটির বাজার। পূর্বাভাস রয়েছে, ব্রাজিল, ভারত ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোয় চলতি মৌসুমে চিনি উৎপাদন কমতে পারে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের কিছু কিছু স্থানে নিত্যপণ্যটির উৎপাদন বাড়বে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শিশুর হাঁপানি হলে কি করবেন?

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে daynightbd.com