• শিরোনাম

    রাজধানীর রেস্ট হাউসে ফের জমজমাট নিষিদ্ধ ব্যবসা

    অনলাইন ডেস্ক | ১০ মার্চ ২০১৭

    রাজধানীর রেস্ট হাউসে ফের জমজমাট নিষিদ্ধ ব্যবসা

    রাজধানীর অভিযাত এলাকা গুলশান, বনানী, উত্তরায় ক্লাব রেস্ট হাউসগুলোতে ফের মদ, জুয়া ও তরুণীদের দিয়ে নিষিদ্ধ ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠেছে। অভিযাত এলাকার তকমা কাজে লাগিয়ে বাড়তি সুবিধা নিয়ে ওই এলাকাগুলোতে এসব কার্যক্রম চলছে। রেস্ট হাউসের আড়ালে গড়ে তোলা হয়েছে মিনি পতিতালয়। এসব আস্তানা নিরাপদ ভেবে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র- ছাত্রী থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে। আবার কোনো কোনো রেস্টুরেন্টে অনেককে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে ব্ল্যাক মেইলিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অর্থ। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের অপকর্ম চললেও তারাও নির্বিকার। লোক দেখানো দু-একটি অভিযান চললেও পরবর্তীতে একই অবস্থা।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দিনের বেলায় যেমন তেমন রাত নামলেই অভিযাত এলাকার পরিবেশ হয়ে যায় অন্যরকম। রেস্ট হাউসগুলোর দিকে দ্রুত বেগের গাড়ির ছুটে চলা দেখে যে কেউ মনে করতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য এত ব্যস্ততা। কিন্তু আদৌ তা নয়। এসব গাড়ির অধিকাংশ মিলছে কোনো না কোনো ক্লাব বা রেস্ট হাউসে। আর সেখানেই চলছে যত অপকর্ম। মদ, জুয়ার সঙ্গে উর্বশী নারীদের সঙ্গে বেহায়াপনা সবই চলে সেখানে। আর এসব অপকর্ম দেখার জন্য প্রশাসনেরও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেই। অথচ সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন অধিকাংশ ক্লাব, রেস্টুরেন্ট এবং রেস্ট হাউসে প্রকাশ্যই সব ধরনের মাদক প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। এমনকি গত বছরের ১ ডিসেম্বর উচ্চআদালত এ বিষয়ে নিষোধাজ্ঞা জারি করলেও কে শোনে কার কথা। প্রশাসেনর এক শ্রেণির কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই সব চলছে।

    আলোচিত ৭ ক্লাব : গুলশান-২ এর ক্যাপিটাল ক্লাব। অনুমোদন না নিয়েই মদ বিক্রির অভিযোগ ক্লাবটির বিরুদ্ধে অনেক পুরনো। এ অভিযোগে ২০১৫ সালের শেষের দিকে র‌্যাব-১-এর একটি দল সেখানে অভিযানও চালিয়েছিল। উদ্ধার হয়েছিল কোটি কোটি টাকার মদ বিয়ার। এরপর কিছুদিন থামে। এখন সেই আগের মতো অবস্থা। প্রকাশ্যেই মদ বিক্রি চলছে। অল কমিউিনিটি ক্লাবেও (এসিসিএল) একই অবস্থা। সব-পেশার মানুষের রিক্রিয়েশনের জন্য এটি তৈরি হলেও কি রিক্রিয়েশন হচ্ছে সেখানে তা অন্ধকারেই রয়েছে। সন্ধ্যার পরেই জমজমাট মদের আসর বসে ক্লাবটিতে। এছাড়াও কোর্নিয়া ক্লাব, লেক ভিউ, লেক ডিপ্লোমা, ফু-ওয়াং, কোরিয়ান ক্লাব এবং কেএনবি। কি হয় না সেখানে। ক্লাবের আড়ালে সবকিছুই মিলছে সেখানে। ক্লাবের সদস্য ছাড়াও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী সব শ্রেণির মানুষের আনাগোনা দেখা গেছে সেখানে।

    রেস্ট হাউস নয় যেন মিনি পতিতালয় : গুলশানে অন্তত অর্ধশতাধিক রেস্ট হাউস রয়েছে। এসব হাউসের আড়ালে চলছে নানা ধরনের অপকর্ম। হলিডে ইন, লিভার ডোর, কোয়ালিটি ইন, গার্ডেন ইন, বোনভিটা ইন, ইস্টার্ন রেসিডেন্স, ডি ক্যাসল, স্কাই পার্ক, ম্যারিনো, লোরেল, ফুজি ইন, পিনাকল। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কী হচ্ছে। রেস্ট হাউস ভেবে কেউ যদি সেখানে যান তবে তাকে পড়তে হবে চরম বিড়ম্বনায়। টিএনজ তরুণী দিয়ে গেস্ট নামের খদ্দেরদের সেখানে মনোরঞ্জণের ব্যবস্থা করা হয়। আসলে রেস্ট হাউসের কোনো কার্যক্রমই নেই সেখানে। এটা পরিণত হয়েছে মিনি পতিতালয়ে। একেকটি গেস্ট হাউসে প্রায় অর্ধশত তরুণী রয়েছে। স্বল্প সময়ের জন্য আসছেন খদ্দের। তাদের মনোরঞ্জন শেষে তারা চলেও যাচ্ছেন।

    অনুমোদন ছাড়াই প্রকাশ্যেই মদ বিক্রি: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকায় আরও যেসব হোটেল-রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ বিদেশি মদ-বিয়ার বিক্রির অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো হলো- গুলশান ২ নম্বর সার্কেলের তিন নম্বর প্লটের স্প্যাঘেটি জাজ, ৫৩ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাড়ির স্টিক হাউস, ৫৫ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়ির খাজানা, ৩৭ নম্বর রোডের অলিভ গার্ডেন, ১০৯ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়ির হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট, ১১৮ নম্বর রোডের ১৫/বি নম্বর বাড়ির সাকুরা গোল্ডেন রাইস রেস্টুরেন্ট, ৭১ নম্বর রোডের কফি ম্যাঙ্গো, এক্সিট লাউঞ্জ, ৩৫ নম্বর রোডের ২৭ নম্বর বাড়ির সামদাদ লিমিটেড, ৭১ নম্বর রোডের ক্যাফে অ্যারাবিয়ান, ৫০ নম্বর রোডের ৬ নম্বর বাড়ির ফ্লেমবি, ৫০ নম্বর রোডের ডি জ্যাং জিম রেস্টুরেন্ট, দ্য ক্যাসেল রেস্টুরেন্ট, অফ ট্র্যাক, গুলশান নর্থ এভিনিউর ৮ নম্বর বাড়ির স্প্রিট ফায়ার, ৭১ নম্বর রোডের থাই রেস্তোরাঁ সই-৭১, ৬৮ নম্বর রোডের কফি ওয়েগা, ৭১ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়ির ক্যাপিটাল ক্লাব, ৮৩ নম্বর রোডের ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব, গুলশানের হোটেল ওয়াশিংটন, হোটেল রোজহুড, জায়িকা রেস্টুরেন্ট, ১৩ গুলশান এভিনিউর ইফিজ, ৩৩ গুলশান এভিনিউর ফুড ভিলেজ, গুলশান ১৩৪-এর তোপ কাফি, গুলশান-১ এর ৬০/বি নম্বরের খুশবু রেস্টুরেন্ট, গুলশান-১-এর ৪৩ নম্বর বাড়ির এক্স লাউঞ্জ, বনানী ২৩ নম্বর রোডের মি লাউঞ্জ, বনানীর ফ্লোর সিক্স, সাংহাই, আলগিরা, হুক্কা লাউঞ্জ, বনানী ১১ নম্বর রোডের মিন্ট রেস্টুরেন্ট, রক রেস্টুরেন্ট, ডু মি ওকে রেস্টুরেন্ট, পেং ইয়াং রেস্টুরেন্ট, গুলশান-২-এর ৪৩ নম্বর রোডের সুরা রেস্টুরেন্ট, ৭১ নম্বর রোডের সুরা অন, নিউ কিংস কিচেন, জাকারিয়া, ডিম্পল, পিম্পল ও কোরিয়ানা রেস্টুরেন্ট।

    সূত্র জানায়, গত বছর নভেম্বরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তরফ থেকে অবৈধ মদ-বিয়ার বিক্রির সঙ্গে যুক্ত এসব হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিককে ডেকে অবিলম্বে মদ-বিয়ার বিক্রি বন্ধ করতে বলা হয়। একই সঙ্গে রেস্টুরেন্টের প্রকাশ্য স্থানে ‘মদ-বিয়ার বিক্রি করা হয় না’ মর্মে নোটিশ টাঙিয়ে দিতে বলা হয়। মদ-বিয়ার বিক্রির অভিযোগে বেশ কিছু হোটেল-রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়। কিন্তু তালিকাভুক্ত এসব হোটেল-রেস্তোরাঁ ঘুরে ‘মদ-বিয়ার বিক্রি হয় না মর্মে’ কোথাও কোনো নোটিশ দেখা যায়নি।

    ডিজে পার্টির আড়ালেও রমরমা মাদক : পাঁচতারকা হোটেলের বলরুম ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টিতে প্রকাশ্যই মদ, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক বিক্রি হচ্ছে। আর এ পার্টিতে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাও অনেক সময় উপস্থিত থাকেন। তাদের সামনেই চলে সব কারবার। একপাশে চলে নাচ অন্যপাশে রমরমা মাদকের আসর। এছাড়া জুয়ার আসরও সেখানে বসানো হয়। চল কোটি কোটি টাকার খেলা।

    গুলশান বনানীর মতো জায়গায় বর্তমানে এ অবস্থার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। তারা বলেন, ওইসব বার, ক্লাব এবং রেস্টুরেন্টে প্রতিরাতে হইচই হয়। রাতের বেলায় যেভাবে ওভার স্পিডিং গাড়ি ও মাতালদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে তাতে করে কূটনৈতিক এলাকায় আতঙ্কও বেড়েছে।

    গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছেও এ ধরনের অভিযোগ আসছে। আমরা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো।

    এদিকে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, মাদক প্রতিরোধে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা মাঝে মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করে থাকি। নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) খন্দকার তৌফিক আহমেদ বলেন, আমরা নতুন এক তালিকা তৈরি করেছি। এ তালিকা ধরে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই যেসব বার, ক্লাব, রেস্টুরেন্ট এমনকি রেস্ট হাউসের নামে মদ-বিয়ারসহ মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com