• শিরোনাম

    সাগর-রুনি হত্যা মামলা : ডিএনএ পরীক্ষায় অজ্ঞাত দুই জনের অস্তিত্ব

    অনলাইন ডেস্ক | ২১ মার্চ ২০১৭

    সাগর-রুনি হত্যা মামলা : ডিএনএ পরীক্ষায় অজ্ঞাত দুই জনের অস্তিত্ব

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নাহার হত্যার পর দীর্ঘ পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রকৃত খুনি সনাক্ত করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত আলমতের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পর মতামত পাওয়া গেছে বলে অবহিত করে আদালতে এক প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

    ওই প্রতিবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া বিবরণে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগার থেকে পাঠানো মতামতে হত্যার সময় দুইজন অজ্ঞাত ব্যাক্তির উপস্থিতি পাওয়া যায় মর্মে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত প্রতিবেদন বিস্তারিত পর্যালোচনা করে তদন্ত চলছে। অজ্ঞাত ওই দুইজনকে সনাক্তকরণের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার মামলার ধার্য তারিখে ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে নথিভূক্ত রাখেন। একইসঙ্গে আগামি ২ মে পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

    গত ১৫ মার্চ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ওই অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গতানুগতিক তদন্ত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে অত্যাধুনিক তদন্ত পদ্ধতি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ প্রাপ্তির লক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অত্যাধুনিক ল্যাবকে এ তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

    বেশ কিছু আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছে। আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার পর ল্যাব থেকে দেওয়া মতামতে হত্যার সময় দুইজন অজ্ঞাত পুরুষ ব্যক্তির উপস্থিতি পাওয়া যায় মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাপ্ত প্রতিবেদন বিস্তারিত পর্যালোচনা করে তদন্ত চলছে। অজ্ঞাত ওই দুইজনকে সনাক্তকরণের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

    আরও বলা হয়, ঘটনান্থল থেকে নিহত দম্পতির খোয়া যাওয়া ল্যাপটপ বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে কি না তা জানার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারমান বরাবরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পত্র মারফত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

    ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার থানাগুলোর মধ্যে শেরেবাংলানগর, মোহাম্মাদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান থানাসহ বিভিন্ন থানার চুরি, সিঁধেল চুরি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার আসামিদের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। গুপ্তচরের মাধ্যমে গোপনে ও প্রকাশ্যে অনুসন্ধানপূর্বক প্রকৃত আসামিদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

    নিহতরা মিডিয়া কর্মী হওয়ায় তদন্তকালে ২৭ জন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তকালে আটজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই হচ্ছে।

    হত্যাকাণ্ডের পর দুই মাস গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শেষে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে। পরে হাইকোর্ট মামলার তদন্ত করতে র‌্যাবকে নির্দেশ দেন। গত পাঁচ বছরে ৪৭ বার সময় নিলেও প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়নি। এর আগে এ মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন র‌্যাব এর সহকারী পরিচালক সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ ওয়ারেছ আলী মিয়া। ২০১৪ সালের ৭ জুন সর্বশেষ তিনি আদালতে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন।

    র‌্যাবের কাছে তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তরের পর ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে পাঁচজন রফিকুল, বকুল, সাইদ, মিন্টু ও কামরুল হাসান ওরফে অরুণকে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণচন্দ্র রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই বছর আগস্টে গ্রেপ্তার করে ডিবি ও র‌্যাব।

    সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো ছাড়াও সাগর-রুনির পারিবারিক বন্ধু তানভীর ও বাসার নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পালকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু দফায় দফায় তাদের রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য উদ্ধার হয়নি। কেউই স্কীকারোক্তি দেয়নি।

    পরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাগর-রুনির বাসার পলাতক দারোয়ান এনামুল হক ওরফে হুমায়ূনকে ধরতে পারলে হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট খুলে যাবে। এজন্য এনামুলকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এনামুলকে গ্রেপ্তার করা হলেও খোলেনি রহস্যজট।

    ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের একটি পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। ওই বাসায় বাবা-মায়ের লাশের সঙ্গে শুধু তাদের শিশু সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘকে পাওয়া যায়।

    তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে দিয়েছিলেন ৪৮ ঘণ্টার প্রতিশ্রুতি। ওই সময় শেষ হওয়ার আগেই তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন, তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু সেই ৪৮ ঘণ্টার অপেক্ষা শেষ হয়নি আজও। পাঁচ বছর পরও তদন্ত সংস্থার কাছে প্রকৃত খুনি অজ্ঞাত।

    উল্লেখ্য, হাইকোর্টের নির্দেশে র‌্যাব তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের বছরের ২৬ এপ্রিল ভিসেরা আলামতের জন্য নিহত দুজনের লাশ দ্বিতীয় দফায় কবর থেকে উত্তোলন করে। ভিসেরা পরীক্ষায় নিহতদের শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি মর্মে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মতামত দেন।

    এরপর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে আলামতের নমুনা পাঠানো হয়। এক বছর পর পরীক্ষার ফলাফল এলে ওই নমুনা থেকে দুজনের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ-বৃত্তান্ত উদ্ধার করা গেছে বলে র‌্যাব জানায়।

    যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করার পর র‌্যবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যেহেতু বাংলাদেশে অপরাধীদের কোনো ডিএনএ তথ্যভাণ্ডার নেই, তাই এই অজ্ঞাত সন্দেহভাজনের ডিএনএ থেকে কাউকে শনাক্তকরণের সুযোগ নেই।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে daynightbd.com